-
‘হযরত হাসানের পবিত্র মাযার যেন আমার তরফ থেকে এক টুকরো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় টাকা রাখা আছে আমার পুত্র শাহ্জাদা আযমের কাছে। টুপি সেলাই করে আমার উপার্জিত চার টাকা দু’আনা রয়েছে আয়া বেগার কাছে। সে টাকাটা আমার কাফনের জন্য ব্যয় করবে। কুরআন শরীফ নকল করে মজুরি বাবদ যে তিন শ’ পাঁচ টাকা আমি পেয়েছি, তা যাবে আমার নিজস্ব তহবিলে। আমার মৃত্যুর দিনে সে টাকা গরীবদের ভেতর বিলিয়ে দেবে। আমার মাথা অনাবৃত রেখে আমাকে কবর দিও, আমি যেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র করুণা দেখতে পাই। আমার মৃতদেহ সবচেয়ে কাছের গোরস্থানে বয়ে নিয়ে যাবে। অনাবশ্যক কফিনে না রেখে কবরের মাটিতে শুইয়ে
-
সেই কতোদিন আগের কথা ৷
তখন রাজা ছিল, বাদশা ছিল। ছিল উযির-নাযির, সিপাই-সান্ত্ৰী আরো কতো কি!
সেই সব রাজা-বাদশার আবার নানান রকম খেয়াল থাকতো। তাদের আনন্দ দানের জন্য থাকতো নানান ধরনের খেলার আয়োজন। এমনি ধরনের খেলা ছিল হাতীর লড়াই।
হাতীর লড়াই?
হ্যাঁ হাতীর লড়াই। দুই প্রকাণ্ড হাতীকে লাগিয়ে দেওয়া হতো লড়াইয়ে। একটা আরেকটাকে দেখে রেগে যেতো, তারপর ঝাঁপিয়ে পড়তো অন্যটির উপর।
প্রায় সাড়ে তিন শ বছর আগে এমনি এক হাতীর লড়াই হয়েছিল যমুনা নদীর তীরে আগ্রার দুর্গের প্রাঙ্গণে।
রাজা এসে বসেছেন প্রাসাদের অলিন্দে। হাতীর লড়াই দেখবেন তিনি সেই খোলা বারান্দায় বসে। সঙ্গে তাঁর জনাকয় পারিষদ।
রাজার চার ছেলে কিন্তু লড়াই
-
মওলবী লিয়াকত হোসেন
আজকের দিনে এই নামটি খুব কম লোকের কাছেই পরিচিতি। কিন্তু জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ নামটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। বস্তুতঃ লিয়াকত হোসেন বাঙালী নন তাঁর জন্ম হয়েছিল বিহারে। তা হলেও বাংলাদেশকে তিনি জন্মভূমির মতোই আপন বলে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। আমরা বাঙালিরাও যেন সেই দৃষ্টি নিয়ে তাঁকে দেখতে পারি।
মৌলবী লিয়াকত হোসেন এর প্রাথমিক জীবন সম্বন্ধে আমাদের কোনো কিছুই জানা নেই। একজন উদ্যোগী ও সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসাবেই তাঁর সঙ্গে আমাদের প্রথম পরিচয়। তাঁর রাজনৈতিক কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র ছিল কলকাতা। ১৯০৫ সালের কথা। সে সময় বড়লাট লর্ড কার্জন নবজাগ্রত বাঙালী শক্তিকে নিষ্পেষিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গভঙ্গের
-
হোসেন আহমদ মাদানি তাঁর কৈশোরে দেওবন্দ শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী হিসাবে এসেছিলেন, তিনি মাহমুদ আল হাসানের প্রিয় ছাত্র ছিলেন। কিন্তু এখানকার শিক্ষা শেষ হওয়ার আগে তাঁর পিতা ১৮৮৯-১৮৯০ সালে তাঁকে নিয়ে মক্কায় চলে যান। তাঁরা সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তখন থেকে ষোল বছর বয়স পর্যন্ত হোসেন আহমদ প্রধানতঃ হেজাজে অবস্থান করতেন, তবে মাঝে মাঝে ভারতে আসতেন। মাহমুদ আল হাসান যখন ভারত থেকে মক্কা এলেন তখন পর্যন্ত হোসেন আহমদের রাজনীতির সঙ্গে কোনো সর্ম্পক ছিলনা। কিন্তু মাহমুদ আল হাসানের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ফলে তিনি ভারতের সংগ্রামের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন। মাহমুদ আল হাসানের প্রিয় শিষ্য এবার তাঁর সহকর্মী ও পরামর্শদাতা হয়ে দাঁড়ালেন।
মাহমুদ
-
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে আবদুল গফফার খানের ভূমিকা চিরস্মরণীয়। সেই কারণেই তিনি ভারতের সর্বত্র ‘সীমান্ত গান্ধী’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন। শুধু ভারতেই নয়, উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বীর দেশপ্রেমিকের খ্যাতি ভারতের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পাঠানদের হৃদয়রাজ্যের তিনি ছিলেন একচ্ছত্র রাজা। এই দুর্ধর্ষ ও যুদ্ধপ্রিয় পাঠান জাতিকে তিনি কি করে কোন্ মন্ত্রে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অহিংস সংগ্রামের সৈন্যবাহিনীতে পরিণত করতে সমর্থ হয়েছিলেন, দেশ বিদেশের লোকের মনে তা গভীর বিস্ময়ের উদ্রেক করেছিল।
তাঁর জন্ম ১৮৯০ সালে, পেশোয়ার জেলার চরসদ্দার তহশীলের অন্তর্গত উৎমন্জাই গ্রামে। তিনি এক বিশিষ্ট ভূস্বামী খান-পরিবারের সন্তান। সীমান্ত প্রদেশের পাঠান জাতির এই সমস্ত খান বা সমাজপতিরা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ অফিসারদের তাঁবেদারী
-
বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র নয় মাস। নয় মাসের এই যুদ্ধে বাঙালি জাতিকে চরমতম ত্যাগ, দুঃখ, দুর্দশা ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। এই নয় মাসে বাংলাদেশে যে গণহত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতন হয়েছে স্মরণকালের ইতিহাসে তার নজির নেই। এর পাশাপাশি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকেও স্বীকার করতে হয়েছে চরম পরাজয়। পর্যাপ্ত রসদ ও অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৯২ হাজার পাকিস্তানী সৈন্য এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের আত্মসমর্পণের ভেতর দিয়ে অর্জিত হয়েছে এক অভূতপূর্ব বিজয়, বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের, জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেছে বাঙালি।
'৭১-এর ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র নয় মাস স্থায়ী এই মুক্তিযুদ্ধে এত দ্রুত
-
[জ্যোতি বসু, ভারতে প্রবীণ রাজনীতিবিদ। দু’দশক ধরে আছেন কোলকাতায়, কেন্দ্রে অবদানও কম নয়। এ মাসে তিনি ৮৩ বছরে পা রেখেছেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ বয়সেও জ্যোতি বসু ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনীতিবিদ। কেন্দ্রের দু'দুটি কোয়ালিশন সরকার গঠন ও কার্যকারিতায় তার ভূমিকা ব্যাপক। সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে'তে প্রকাশিত তার সাক্ষাতকারটি প্রকাশ করা হলো কাগজ পাঠকদের জন্যে।
সাক্ষাতকারটি ভাষান্তর করেছেন মনোতোষ রুমার।]
ভারতের প্রবীণ রাজনীতিবিদ জ্যোতি বসু সর্বভারতীয় রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম। দেশের সংকটময় মুহূর্তে তিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। বলা চলে সংকটজনক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জুড়ি নেই। গত সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠন
-
॥ ১॥
যে-প্রবল প্রাণশক্তি সৃজনশীলতার সকল দুয়ার খুলে দেয়, জীবন-যাপনের ব্যর্থ আবর্জনা সরিয়ে সুন্দরের কল্যাণের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, অশিক্ষা এবং দেউলে রাজনীতিকে অতিক্রমণ করার প্রেরণা যোগায়, আমাদের বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তানের) মানুষদের দুর্ভাগ্য, সে-প্রবল প্রাণশক্তি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল, কখনো মূর্চ্ছাতুর ছিল, কখনো সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে বিকারগ্রস্ত ছিল। সুন্দরভাবে বাঁচার প্রশ্নই ওঠে না, মামুলীভাবে বাঁচাটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষিত ছিল। স্বাধীনতা, মানুষের সকল রকম বন্ধন থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি—আমাদের কাছে সকল রকম বন্ধনের অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত। ইখতিয়ারুদ্দীন বখতিয়ার থেকে নবাব সিরাজউদ্দোলাহ্ যে-ভাষায় আঘাত দিতে চেষ্টা করেন নি, দুশো বছরের ইংরেজ শাসনে যে-ভাষা আক্রান্ত হয় নি—স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পরের বছরই সে-ভাষা প্রবলভাবে আক্রান্ত হ’ল। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আমরা একদা
-
অনুবাদ: মুহম্মদ আবদুল হাই
ইসলাম যখন ভারতবর্ষে এলো তখন তার প্রগতিশীল ভূমিকা নিঃশেষ হয়ে এসেছে আর শিক্ষিত ও সুসংস্কৃত আরবদের হাত থেকে তার অধিনায়কত্ব করার ভারও খসে গেছে কিন্তু তার পতাকার উপরে ইসলামের শৈশব ও যৌবনের বিজয়বহুল দিনগুলোর বৈপ্লবিক নীতি ছিলো সুগ্রথিত। প্রমাণাভিলাষী মন নিয়ে ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যাবে যে, যেমন পারস্য ও খ্রীষ্টান দেশগুলোতে তেমনি এই ভারতবর্ষেও মুসলিম বিজয়ের পথ সুপ্রশস্ত ক’রে দিয়েছিলো দেশীয় কতকগুলি ঘটনা। বিজিত জাতির বিপুল জনসাধারণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা না হোক অন্তত মৌখিক সহানুভূতি, কি মৌন সম্মতি না পেলে কোন বিদেশী আক্রমণকারীরাই সুদীর্ঘ ইতিহাস ও প্রাচীন সভ্যতাসম্পন্ন কোন বড় জাতিকে অতি সহজে তাদের পদানত করতে
-
বিজয়নগর সাম্রাজ্যের আমলে ভারতের সঙ্গে বহির্জগতের যে যোগাযোগ ঘটেছিল, তার বিবরণ অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়। বিজয়নগরের গৌরব অস্তমিত হল তালিকোটার যুদ্ধক্ষেত্রে। এ শুধু তারই শোচনীয় পরাজয় নয়। দাক্ষিণাত্যের শেষ হিন্দু স্বাধীন ও সমৃদ্ধতম রাষ্ট্রের অবসান। কিন্তু প্রশ্নটা শুধু হিন্দু-মসলিমের রাষ্ট্রদ্বন্দ্ব নয়। অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাতও তার মধ্যে জড়িত রয়েছে। দক্ষিণাপথের সম্মিলিত সুলতানদের কাছে রাম রায় যখন পরাস্ত ও নিহত হলেন, তখন সমগ্র রাজ্যের ওপর দিয়ে যে অত্যাচার, রক্তপাত ও নিষ্ঠুর লুণ্ঠন-লীলা চলেছিল পাঁচ মাস ধরে, তার বর্ণনা ও নির্ভরযোগ্য কাহিনী পাওয়া যাবে ব্যরহান-ই-মাসির নামক ইতিবৃত্তে এবং সিউয়েল সাহেবের প্রসিদ্ধ ইতিহাস-গ্রন্থে। বিজয়নগরের পতন দাক্ষিণাত্যে মুসলিম রাষ্ট্রশক্তির দ্রুত বিস্তার সহজ করে দেয়। আর
-
১৮০৩ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটল। ভারতের রাজধানী দিল্লী শহর ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী অর্থাৎ ব্রিটিশ সরকারের কর্তৃত্বাধীনে এসে গেল, আসলে এটা একটা আকস্মিক ব্যাপার নয়। বহুদিন আগে থেকেই ভারতের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা তাকে এই অনির্বায পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছিল। যাদের দেখবার মত চোখ ছিল তারা দেখতেও পাচ্ছিলেন যে তার সর্বদেহে ক্ষয়রোগের লক্ষণগুলি ফুটে উঠেছে। এ এক বিরাট মহীরুহ, যার ভিতরকার সমস্ত সার পদার্থ একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাহলেও সাধারণের দৃষ্টির সামনে এতদিন সে তার প্রভুত্বব্যঞ্জক মহিমা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, অবশেষে সেই মহীরুহের পতন ঘটল; চমকিত হয়ে উঠল সবাই। দিল্লীশ্বরেরা জগদীশ্বরেরা শেষকালে এই হলো তার পরিণতি।
মুঘল সাম্রাজ্য সত্য কথা বলতে
-
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ লোকের মুখে মুখে সিপাহী বিদ্রোহ নামে প্রচলিত হয়ে এসেছে, এই নামটা আমরা পেয়েছিলাম ইংরেজদের কাছ থেকে। ব্র্রিটিশ সরকার এর নাম দিয়েছিলো Sepoy Mutiny অর্থাৎ সৈন্য বিদ্রোহ। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে তাই মনে হবে বটে তার কারণ গোরা সিপাহীদের তুলনায় দেশীয় সিপাহীদের স্বল্পবেতন উর্ধ্বতন নাগরিক প্রভুদের দুর্ব্যবহার এবং নানা রকম অভাব-অভিযোগ সৈন্যদের মধ্যে দীর্ঘদীন ধরে অসন্তোষ সঞ্চিত করে তুলছিল। এই সমস্ত অন্যায় জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বলে ১৭৬৪ সালে দেশীয় সৈন্যদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় কয়েকজনকে তোপের মুখে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। সৈন্যদের মধ্যে এই জুলুম অবাধেই চলে আসছিল। ১৮৫৭ সালে দেশীয় সৈন্যরাই বিদ্রোহে প্রথম এবং প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। এই সমস্ত কারণে
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অন্নদাশঙ্কর রায় (১)
- আসাদ চৌধুরী (১)
- এম এন রায় (১)
- গজেন্দ্রকুমার মিত্র (৫)
- ড. আব্দুস সাঈদ (১)
- ধীরাজ কুমার নাথ (১)
- নীরদচন্দ্র চৌধুরী (১)
- নীহাররঞ্জন রায় (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৭)
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১)
- বিকাশ সাহা (১)
- বিমলাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (১)
- মুজফ্ফর আহমদ (২)
- যতীন সরকার (১)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১)
- রাজনারায়ণ বসু (১)
- শহীদ আখন্দ (১)
- শহীদুর রহমান (১)
- শাহরিয়ার কবির (১)
- সত্যেন সেন (২৩)
- হুমায়ুন কবির (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.