মানবতায় বিশ্বাসী জ্যোতি বসু
[জ্যোতি বসু, ভারতে প্রবীণ রাজনীতিবিদ। দু’দশক ধরে আছেন কোলকাতায়, কেন্দ্রে অবদানও কম নয়। এ মাসে তিনি ৮৩ বছরে পা রেখেছেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ বয়সেও জ্যোতি বসু ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনীতিবিদ। কেন্দ্রের দু'দুটি কোয়ালিশন সরকার গঠন ও কার্যকারিতায় তার ভূমিকা ব্যাপক। সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে'তে প্রকাশিত তার সাক্ষাতকারটি প্রকাশ করা হলো কাগজ পাঠকদের জন্যে।
সাক্ষাতকারটি ভাষান্তর করেছেন মনোতোষ রুমার।]
ভারতের প্রবীণ রাজনীতিবিদ জ্যোতি বসু সর্বভারতীয় রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম। দেশের সংকটময় মুহূর্তে তিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। বলা চলে সংকটজনক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জুড়ি নেই। গত সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন অশিতিপর জননেতা জ্যোতি বসু। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। তারপর দেব গৌড় সরকারের পতনের পর দিল্লিতে কোয়ালিশন সরকার টিকিয়ে রাখতে বসুর অবদান অনস্বীকার্য। এ মাসে তিনি ৮৩তে পা রেখেছেন। ইন্ডিয়া টুডে'র সিনিয়র এডিটর সুমিত মিত্রের সঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাতকার দেন জ্যোতি বসু। এই সাক্ষাতকারে তিনি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরস্থিতি সম্পর্কে খোলাখুলি মতামত রেখেছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের পশুখাদ্য ক্রয় সংক্রান্ত মামলায় জড়িত হওয়ায় সেখানে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে সে বিষয়েও বলেছেন জ্যোতি বসু। প্রায় দুদশক ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে তিনি কোয়ালিশন সরকার পরিচালনা করছেন। এ ক্ষেত্রে তার সাফল্য ঈর্ষণীয়। গুজরালকে ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বানাতেও জ্যোতি বসু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জ্যোতি বসুর সাক্ষাতকারটি সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে উপস্থাপন করা হলো:
প্রশ্ন: পশ্চিম বাংলায় দীর্ঘ দু'দশক ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার পরিচালনা করছেন। আপনি কি মনে করেন না যে, এই অভিজ্ঞতা কেন্দ্রে কোয়ালিশন সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে?
উত্তর: এ আলোচনা শেষ হয়েছে। কারণ ইউনাইটেড ফ্রন্টভুক্ত ১৩টি দল আমাকে প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানায়। আমরা আমাদের সেন্ট্রাল কমিটির সভা আহ্বান করি। জ্যোতি বসু বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হলো এ বিষয়ে পার্টিতে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি নাই। সেন্ট্রাল কমিটির বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত অনুযায়ী এ ধরনের কোয়ালিশন সরকারে যোগদানের প্রস্তাবটি নাকচ হয়। তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের সরকার গঠন করতে পারতাম। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনাইটেড ফ্রন্টের ছোটো দলগুলো মনে করেছে আমার অভিজ্ঞতা যুক্তফ্রন্ট সরকারকে সাহায্য করতে পারতো। কিন্তু আমার পার্টি সেটি মনে করেনি।
প্রশ্ন: দেব গৌড় সরকারের আস্থা ভোটকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিলে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন আপনারা গুজরালকে নতুন নেতা নির্বাচন করলেন?
উত্তর: উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কাকে প্রধানমন্ত্রী বানানো যায় সে বিষয়ে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের প্রস্তাব ছিলো মুলায়েম সিংহ যাদব হবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু অনেক দল সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। সুতরাং যুক্তফ্রন্টের নতুন নেতা নির্বাচনের জন্যে ঐকমত্যে পৌছা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এবং সর্বসম্মত নেতা নির্বাচনের জন্যে আমাদের হাতে মাত্র একদিন ছিলো। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই গুজরালকে যুক্তফ্রন্টের নতুন নেতা মনোনীত করা হয়। সর্বসম্মত নেতা নির্বাচনের জন্যে সংশ্লিষ্ট সকল পার্টির মতামত গ্রহণের জন্যে চন্দ্রবাবু নাইডুকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি জানান, মুলায়েম সিং যাবদ সর্বসম্মত প্রার্থী নয়, বরং গুজরাল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর এভাবেই গুজরাল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
প্রশ্ন: অতীত পর্যালোচনায় আপনি কি মনে করেন গুজরাল এই বিষয়ে ঐকমত্য ছিলো না।
উত্তর: আমাদের কাছে কোনো বিকল্প ছিলো না।
প্রশ্ন: গুজরাল জনতা দল নেতা। আর এই দলের সভাপতি লালু প্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে পশু খাদ্য ক্রয়ে অর্থ কেলেংকারির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments