-
আয়েশার (ছদ্মনাম) মনে আজ খুবই আনন্দ। সরকারি ব্যাংকের চাকরি জীবনে তার এই দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুপুরের দিকে জানতে পারল, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে তাকেই নির্বাচিত করা হয়েছে। পদোন্নতির তালিকায় আরও তিন সহকর্মীও ছিল। শেষ পর্যন্ত তার রিপোর্ট ভালো থাকায় তাকেই নির্বাচন করা হয়েছে। আয়েশা কখনও তা আশাও করেনি। একজন নারী হিসেবে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে সব সময়ই নানা বিরূপ মন্তব্য তাকে সহ্য করতে হয়েছে। তার এই জয়ের কথা কাকে প্রথম বলবে, এই আনন্দ কার সঙ্গে ভাগাভাগি করবে, তা চিন্তা করতে গিয়ে বাড়ির এক প্রতিকূল চিত্র তার চোখের সামনে ফুটে উঠল। নিজ কর্মক্ষেত্রের এই সাফল্যের কথা স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে নিজের জীবনসঙ্গীকে
-
রাতে বারান্দায় বসে কাঁদছে লিজা। এখন প্রায় শেষ রাত, সকাল হয়ে যাবে তবু মনে হয় ওর কান্না থামবে না। রাতে খাবার সময় তার বাবা বলেছে, দেখলাম তোমার পরীক্ষায় ফলাফল সে রকম ভালো হচ্ছে না। প্রথম-দ্বিতীয় না হলে চলবে না, তাই ভেবেছি এ বছর তুমি আবার ক্লাস সেভেনেই থাকবে। লিজা এবার তৃতীয় হয়েছে। কিন্তু বাবার এক কথা, প্রথম হতেই হবে। ওর বন্ধুরা সব ওপরের ক্লাসে চলে যাবে, আর একই স্কুলে একই ক্লাসে ওকে থাকতে হবে, ভাবলেই কান্না পাচ্ছে। বাসায় তার মায়ের বা তার মতামত বলে কিছু নেই। বাবা যা বলেন তা-ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, এ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন হবে না। এমন
-
অতি সাধারণ ঘরের মেয়ে আনিলা (ছদ্মনাম)। তার স্বপ্ন ছিল অনার্স সম্পূর্ণ করে ও ভালো কোম্পানিতে চাকরি করবে, স্বাবলম্বী হবে। বাবা-মায়ের চাপে অনার্স অসম্পূর্ণ রেখেই তাকে বিয়ে করতে হলো। পড়াশোনা সম্পূর্ণ হলো না। স্বামী চায় না বাড়ির বউ চাকরি করুক, তাই স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছাও চিরদিনের জন্য বলি দিতে হলো। সব স্বপ্ন হারিয়ে তরুণীটি মানসিকভাবে জর্জরিত ও বিপর্যস্ত। বেঁচে থাকার ইচ্ছাও ত্যাগ করেছে। প্রতিনিয়ত সামাজিক ও মানসিক চাপে আনিলার মতো বহু নারী মানসিক রোগের শিকার ও অসুস্থ।
যত দিন সমাজে নারী ও পুরুষের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে না, সামাজিক ও মানসিকভাবে নারীর ওপর এ অত্যাচার বন্ধ হবে না, তত দিন নারীরা মানসিক অসুস্থতা
-
একটি শিশুছেলে ও মেয়েসন্তানের প্রতিভা, স্বপ্ন, ইচ্ছা, কল্পনার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। কিন্তু পরে সমাজে চলতে গিয়ে একজন মেয়ে নিজেকে শুধু মেয়েমানুষ ভাবতে বাধ্য হয়, যা তার স্বপ্নগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে। কর্মক্ষেত্রে তাকে শুনতে হয়—এটা মেয়েদের নয়, ছেলেদের কাজ। নারী তার জীবনকে একটি ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে সীমিত রাখতে বাধ্য হয়। তারই সমবয়সী পুরুষের স্বপ্নগুলো হয় বিশাল এবং এক বৃহৎ জগতে হয় তার বসবাস। সমাজের এ চিরাচরিত চিত্রের পরিবর্তন একান্তই কাম্য। সবার ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত যে—সে মানুষ।
মানুষ হিসেবে তাদের উভয়েরই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বহু পথ রয়েছে। কিন্তু নিতু নারী হওয়ায় সমাজব্যবস্থা নিতুর জন্য সব পথকেই করে দিয়েছে
-
জীবন হচ্ছে ভাঙাগড়ার খেলা। কখনও একইভাবে চলে না। বিয়ের পর সারা জীবন একসঙ্গে চলার স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রা শুরু, নানা রঙের খেলায় মাঝপথেই আসতে পারে তার সমাপ্তি। কিন্তু প্রচলিত সামাজিক ধারা অনুযায়ী কোনো বিয়ে টিকে না থাকার পেছনে আজও দায়ী করা হয় নারীকেই। একজন নিঃসঙ্গ নারীর জীবনধারণ সমাজে হয়ে ওঠে কঠিন থেকে কঠিনতর। তাই এখনও বহু নারী প্রতি মুহূর্তে তিলে তিলে মরেও তার স্বামীর সঙ্গে জীবন চালিয়ে নেওয়াকেই সহজ পথ মনে করে, ডিভোর্স দিয়ে একাকী জীবন নির্বাহের চেয়ে। একজন একাকী নারীর কাছে তার মা-বাবার বাড়িই প্রথম আশ্রয়স্থল। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক-মানসিক চাপের কারণে একজন নিঃসঙ্গ নারীর নিজ বাড়িতে জীবনধারণও হয়ে
-
‘তোমায় আমি গড়তে চাই না, পরতে চাই না, কাটতে চাই না, নাড়তে চাই না, ফুলের মতো পাড়তে চাই না, চাইছি তোমার বন্ধুতা’—সুমনের এই গানের মতোই জীবনপথে চলতে গিয়ে প্রতিটি নতুন ধাপে আমরা বন্ধু খুঁজি। কিন্তু সবচেয়ে কাছের বা প্রিয় বন্ধুর সংখ্যা জীবনে কমই হয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই বন্ধুত্বের ধারণা পাল্টে যাচ্ছে। শিক্ষাজীবন, চাকরিজীবন, চাকরিপরবর্তী জীবনে নতুন নতুন বন্ধু আমরা পাই। কখনও কখনও বন্ধু চিনতে ভুল হলে নানা ভুল পথে-নেশা বা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে হয়। আবার কখনও সেই বন্ধুই বিপদে পাশে থেকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের চোখে বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ ও তাদের বন্ধুকে ঘিরে গড়ে ওঠা
-
সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে মনে হচ্ছে বাসায় আমার জন্য যে পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, সেই পরীক্ষার কোনো প্রশ্নের উত্তরই আমি জানি না। কারণ, এইমাত্র পারিবারিকভাবে ঠিক করা এক পাত্রের সঙ্গে আলাপ করে এলাম আর অবজেকটিভ পরীক্ষার মতো এখনই ওই পাত্রের প্রাপ্ত মার্কস আমার পরিবারের কাছে বলতে হবে, যার উত্তর আমার জানা নেই। আপন মনে এসব ভাবতে ভাবতে শিলা পৌঁছে গেল দরজার কাছে, কিন্তু বেল আর বাজাতে পারছিল না আসন্ন পরীক্ষার ভয়ে।
এ ধরনের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় বহু মেয়েকেই তার জীবনে এবং সে সময় তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না। জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের সামনে এসে অসহায়ের মতো একাকী দাঁড়িয়ে
-
হঠাৎ চিৎকার দিয়ে সুমির ঘুম ভেঙে যায়। স্বপ্নে সুমি দেখেছে এক মরুভূমিতে সে হারিয়ে গেছে। হাঁটছে আর হাঁটছে, কিন্তু ফেরার কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছে না। তার স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। পরদিন সে আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবে। সুমির বিয়ে হয়েছে দুই মাস। অচেনা ঘরে ঘুম থেকে উঠেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। তার মনে হচ্ছে এ কোন ভুবনে সে এসে পড়েছে! বিয়ের পর বাবার বাসায় গিয়েছে, তবে খুব কম। ওদের বিয়ে পারিবারিকভাবেই ঠিক করা। শ্বশুরবাড়ির অচেনা অনভ্যস্ত পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। এই নতুন জায়গায় তাকে স্বামীবিহীন একাই দিন কাটাতে হবে, যত দিন না ভিসা হয়। অনার্স, মাস্টার্স পরীক্ষাকেও এমন কঠিন
-
সুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। সুমির বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন প্রায় শেষের দিকে। পড়াশোনায় বেশ ভালো। ফলাফলের দিক থেকে প্রথম কয়েকজনের মধ্যেই তার অবস্থান। তার সঙ্গের ছেলেরা এরই মধ্যে জিআরই, টোফেল দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। তাদের সবারই লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা। সুমির ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন পিএইচডি করা। পদার্থবিজ্ঞান বিষয়টিও তার খুব প্রিয়। বন্ধুদের দেখাদেখি সুমিও জিআরইর একটি বই কিনেছে নীলক্ষেত থেকে। বাড়িতে সেই বই নিয়ে আসার পর থেকে তার ওপর ঝড় বয়ে চলছে। বাবা-মা দুজনেরই এক কথা, কেনোভাবেই তাকে একা বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। এ আদেশের সুর এতই কঠিন যে, এর কারণ জানতে চাওয়ার সাহসটুকুও সুুমির নেই। বাবার কথা, যদি
-
‘খুব অস্বস্তির সঙ্গে এক ডেস্ক থেকে আরেক ডেস্কের সামনে যাচ্ছি আর ব্যাংকের ম্যানেজার আমাকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। সব সময়ই নিজেকে এ জায়গায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি হিসেবে অনুভব করছি। মনের মধ্যে এক অস্বাভাবিক জড়তা তৈরি হচ্ছে। নতুন শাখায় নতুন লোকদের মাঝে এক ধরনের ভীতিই অনুভব করছি।’ এভাবেই ব্যাংককর্মী নিপা (ছদ্মনাম) বদলি হয়ে নতুন শাখায় যোগ দেওয়ার সময়ের মনের অবস্থার কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের চাকরিজীবনে অনেক জেলার নানা শাখায় বদলি হয়েছি। এক জায়গায় দুই কি তিন বছরের বেশি কখনও থাকিনি। একটি শাখার সবাইকে বুঝে, চিনে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার পরই বদলি হতে হয় অন্য শাখায়, এটাই নিয়ম আমাদের ব্যাংকের। অবাকভাবে
-
‘সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই বুকটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। এক বছর ধরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছি, নিজের মনকে প্রস্তুত করেছি, তারপরও পঁয়ত্রিশ বছরের অভ্যাস। যতই বোঝাই মন কি বুঝতে চায়? গতকালও কলেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, এই বারান্দায় আর আসা হবে না। তরুণীদের প্রাণচঞ্চল জীবনের স্বতঃস্ফূর্ততাকে আর উপলব্ধি করা হবে না। ভেবে খুব একা লাগছিল। কারণ, ছাত্রীরাই ছিল আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।’ বলছিলেন ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষিকা মমতাজ বেগম।
বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে মমতাজ বলেন, ‘অবসরে যাওয়ার পর আনন্দেই আছি। এখন চাকরিজীবনের চাপগুলো আর নেই। সব ধরনের চাকরিতেই একটি চাপ থাকে। অবসরে যাওয়ার আগে যে শূন্যতা, একাকিত্বের ভীতি ছিল,
-
নতুন অফিসে চাকরি নেওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেছে লিনার (ছদ্মনাম)। এখনও পরিবেশের সঙ্গে কেন যেন নিজেকে ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছে না। এর আগে দুইবছর এক এনজিওতে চাকরি করার পর এটি তার দ্বিতীয় কর্মক্ষেত্র। এনজিওর পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এত বড় কোম্পানিতে চাকরির অভিজ্ঞতা এই প্রথম। নতুন সহকর্মীরা বেশ বন্ধুবৎসল। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও খারাপ নয়, তবু কোথায় যেন একটা প্রশ্ন। অফিসে তার বসার টেবিল একেবারে কোনায়। সহকর্মীদের টেবিল থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন। তার সঙ্গে আলাপের সময় সব সহকর্মীই যেন আলাদা সৌজন্য আর অফিসিয়াল সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। এমনি খুব মিশুক নয়। এই আনুষ্ঠানিকতার সম্পর্ক তাকে আরও চাপা স্বভাবের বানিয়ে দিয়েছে। নিজের যতক্ষণ
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.