পুরোনো সামাজিক প্রথায় নিঃসঙ্গ নারী
জীবন হচ্ছে ভাঙাগড়ার খেলা। কখনও একইভাবে চলে না। বিয়ের পর সারা জীবন একসঙ্গে চলার স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রা শুরু, নানা রঙের খেলায় মাঝপথেই আসতে পারে তার সমাপ্তি। কিন্তু প্রচলিত সামাজিক ধারা অনুযায়ী কোনো বিয়ে টিকে না থাকার পেছনে আজও দায়ী করা হয় নারীকেই। একজন নিঃসঙ্গ নারীর জীবনধারণ সমাজে হয়ে ওঠে কঠিন থেকে কঠিনতর। তাই এখনও বহু নারী প্রতি মুহূর্তে তিলে তিলে মরেও তার স্বামীর সঙ্গে জীবন চালিয়ে নেওয়াকেই সহজ পথ মনে করে, ডিভোর্স দিয়ে একাকী জীবন নির্বাহের চেয়ে। একজন একাকী নারীর কাছে তার মা-বাবার বাড়িই প্রথম আশ্রয়স্থল। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক-মানসিক চাপের কারণে একজন নিঃসঙ্গ নারীর নিজ বাড়িতে জীবনধারণও হয়ে ওঠে কঠিন। তেমনই এক নারী সীমা (ছদ্মনাম)। সীমার একমাত্র সন্তান শিলা। শিলার বয়স যখন চার বছর তখন স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি। সে সময় তার অল্প বয়স, প্রথম স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাসায় ওঠে। তার মাদকাসক্ত স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়া তার বাবা-মা মেনে নিলেও তার বাড়িতে বসবাস সীমার ছোট দুই বোনের জন্য ভারী হয়ে ওঠে। ছোট বোনের বিয়ের জন্য সে হয়ে দাঁড়ায় বাধা। বিয়ের জন্য নানা প্রস্তাব এলেও বড় বোনের ডিভোর্সের খবর তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়।
এখানে সীমার তো কোনো দোষ নেই, তাহলে তার প্রতি কেন এ অন্যায় আচরণ? আত্মীয়-স্বজনদের বিয়ে ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে মাকে দাওয়াত দিলেও দেখা যায় তাকে দাওয়াত দেওয়া হয় না। সীমার মেয়ের মনে প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়, সবাই দাওয়াতে গেলে সে কেন যেতে পারবে না? শিলার স্কুলে ভর্তির জন্য ফরমে মা ও বাবা দুজনের নাম সীমাকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে। অভিভাবক দিবসে তার একা উপস্থিতি তার মেয়েকেও ক্লাসের আর সব ছেলেমেয়ে থেকে করে তোলে বিচ্ছিন্ন ও একাকী।
স্বামী ছাড়া জীবন মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়। তাই নিজ যোগ্যতায় সীমা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। শুধু মেয়েকে নিয়ে এ শহরে একা বাসায় থাকা অনিরাপদ জেনেও সীমা তার পরিবারের সবার শান্তির জন্য আলাদা বাসা ভাড়া নিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে দোষী মনে করে, অপরাধবোধে ভুগে ভুগেই তার মেয়েকে নিয়ে একাকী জীবন চালাচ্ছে, যদিও বাস্তবে তার কোনো দোষই নেই। মা ও বাবার মধ্যে ডিভোর্স শিশুর মনে ফেলে খারাপ প্রভাব। কখনও শিশুকে করে তোলে মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই সামাজিকভাবে ও পরিবার থেকে এসব শিশুর প্রতি দিতে হবে বিশেষ নজর এবং তাদের সঙ্গে আর দশটি শিশুর মতোই আচরণ করতে হবে। কেননা, সেই শিশু যে পরিস্থিতির শিকার, তা তার ভাগ্য।
স্বামীর সঙ্গে সংসার না টিকলে তার দোষ কখনওই শুধু নারীর নয়। ডিভোর্সের জন্য কখনওই এককভাবে স্ত্রী দোষী নয়। দেখা যায় অনেক সময় পরিবার, আত্মীয়স্বজনরাও ডিভোর্স দেওয়ার অপরাধে নিজ মেয়েকেও আপন করে নিতে চান না। ডিভোর্স দিয়ে একজন মেয়ে তার বাবার বাড়িতে উঠলে সমাজ, পরিবার তা নিয়ে অপ্রিয় মন্তব্যে মেতে ওঠে। কিন্তু প্রতিটি নিঃসঙ্গ নারীর জীবনে এই একাকিত্ব দূর করার জন্য সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। একজন নারীর একা বসবাসের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। আর নিঃসঙ্গ নারীর উপলব্ধি করতে হবে যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন আজ তাকে গ্রহণ না করলেও তার জন্য রয়েছে নানা সংগঠন, কর্মক্ষেত্র এবং নানা কাজের সুযোগ। তার পক্ষে দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব। অনেক সময় দেখা যায় বড় বড় কোম্পানি ও নানা কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবী নারীরাও তাদের ডিভোর্সের জন্য সংকুচিত থাকেন। নিজেকে দোষী হিসেবে ভাবেন। এ উপলব্ধির অবসান ঘটাতে হবে। কখনও কখনও একজন ডিভোর্সি নারীর দ্বিতীয় বিয়েকে দেখা হয় দোষের চোখে। একজন পুরুষের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments