বন্ধুদের মাঝেই আমরা বেঁচে থাকি
‘তোমায় আমি গড়তে চাই না, পরতে চাই না, কাটতে চাই না, নাড়তে চাই না, ফুলের মতো পাড়তে চাই না, চাইছি তোমার বন্ধুতা’—সুমনের এই গানের মতোই জীবনপথে চলতে গিয়ে প্রতিটি নতুন ধাপে আমরা বন্ধু খুঁজি। কিন্তু সবচেয়ে কাছের বা প্রিয় বন্ধুর সংখ্যা জীবনে কমই হয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই বন্ধুত্বের ধারণা পাল্টে যাচ্ছে। শিক্ষাজীবন, চাকরিজীবন, চাকরিপরবর্তী জীবনে নতুন নতুন বন্ধু আমরা পাই। কখনও কখনও বন্ধু চিনতে ভুল হলে নানা ভুল পথে-নেশা বা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে হয়। আবার কখনও সেই বন্ধুই বিপদে পাশে থেকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের চোখে বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ ও তাদের বন্ধুকে ঘিরে গড়ে ওঠা জগতের ধারণা বৈচিত্র্যময়। এ নিয়ে কথা হচ্ছিল কয়েকজনের সঙ্গে:
সারিয়া খালেদ
আমি ধানমন্ডি গার্লসে ক্লাস নাইনে পড়ি। এই পর্যন্ত চারটা স্কুলে পড়েছি। ক্লাস সিক্স থেকে এই স্কুলে আছি। আগের স্কুলের একজন, দুজন বন্ধুর সঙ্গেই আমার যোগাযোগ আছে। বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনাসহ অনেক বিষয়ে গল্প হয়। আমরা কয়েকজন বন্ধু সব সময় একসঙ্গে বসি। বন্ধু মানেই দুষ্টুমি, মজা, আনন্দ। তবে অনেক সময় প্রতিযোগিতার কারণে বন্ধুরাও দূরের হয়ে যায়। বন্ধু এগিয়ে গেলে বা ক্লাস ক্যাপ্টেন হলে যদি বন্ধুর মন খারাপ হয়ে যায়, সে কখনও ভালো বন্ধু নয়। বন্ধু সব সময় সাহায্য করবে, সেটাই আশা করি। ক্লাসে সবার সঙ্গেই কথা বলি, গল্প করি, কিন্তু সবাই তো আর বন্ধু না। আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু একজনই, আমার সব সমস্যার কথা ওকে আমি বলি, আর ও আমাকে বলে। আগের স্কুলের বন্ধুদের কথা খুব মনে পড়ে, তবে দেখা হয় না। বড় হয়ে হয়তো আমাদের দেখা হবে।
মায়িশা মরিয়ম
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে মাস্টার্স করছি। জীবনে বন্ধু খুব প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার বন্ধুর সংখ্যা অনেক। স্কুল-কলেজের বন্ধুদের মধ্যে দু-একজনের সঙ্গেই দেখা হয়। মাঝে মাঝে ঈদে গ্রুপ করে বেড়ানো হয়। আমাদের এই বন্ধুত্ব শুধু পড়াশোনা বা প্রয়োজনের জন্য নয়। তাই আমি আশা করি আমাদের সম্পর্ক সারা জীবনই থাকবে। স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অন্য রকম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুতা অন্য রকম। এখন আমরা ভবিষ্যৎ জীবন, ক্যারিয়ার নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছি। স্কুলের বন্ধুরা এক একজন হয়তো এক এক দিকে চলে গেছি, তবু আমরা বন্ধু। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু কাছের বন্ধু আমার চেয়ে ভালো করলে আমার মন খারাপ হবে না। ওর খুশিতে খুশিই হব, একই রকম ও খুশি হবে। দুজন দুজনের মনকে না বুঝলে কখনও প্রকৃত বন্ধুত্ব হয় না। অনেক সময় বন্ধুর প্ররোচনায় না বুঝে অনেকে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে—এমন অনেক ঘটনাও আমরা শুনি। তবে তা সাধারণত হয় স্কুল-কলেজ জীবনেই। সে সময় ভালোমন্দ বোঝার আগেই কে বন্ধু আর কে বন্ধুর বেশে শত্রু, তা নির্ধারণ করতে না পারার কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যে প্রকৃত বন্ধু, সে সব সমস্যায়, বিপদে পাশে থাকবে। তাই কে বন্ধু আর কে শত্রু, চিনতে হবে।
তাজনীন সুলতানা
আমি এখন ব্র্যাকে আছি। স্কুল-কলেজ জীবনের বন্ধুদের খুব মনে পড়ে। আমরা এখনও দেখা করি, গল্প হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের পাঁচ বন্ধুর গ্রুপ ছিল। আমাদের বন্ধুত্ব এখনও আছে। শিক্ষাজীবনে বন্ধুত্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও থাকে। কিন্তু তারপরও সেই বন্ধুত্বের ভিত্তি অনেক গভীর। ছোটবেলার বন্ধুদের আমি কখনও ভুলব না। আমরা খেলার গল্প করার সুযোগ অনেক বেশি পেতাম। স্কুল শেষে কখনও কারও কারও বাসায়ও যেতাম। এখন ব্যস্ততা আর প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। স্কুলগুলোয় খেলার জায়গা নেই, তাই নতুন প্রজন্মের আনন্দ, মজা করার সুযোগ অনেক কম। স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments