এ কী কথা, স্ত্রী বড় চাকরি করে!

আয়েশার (ছদ্মনাম) মনে আজ খুবই আনন্দ। সরকারি ব্যাংকের চাকরি জীবনে তার এই দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুপুরের দিকে জানতে পারল, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে তাকেই নির্বাচিত করা হয়েছে। পদোন্নতির তালিকায় আরও তিন সহকর্মীও ছিল। শেষ পর্যন্ত তার রিপোর্ট ভালো থাকায় তাকেই নির্বাচন করা হয়েছে। আয়েশা কখনও তা আশাও করেনি। একজন নারী হিসেবে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে সব সময়ই নানা বিরূপ মন্তব্য তাকে সহ্য করতে হয়েছে। তার এই জয়ের কথা কাকে প্রথম বলবে, এই আনন্দ কার সঙ্গে ভাগাভাগি করবে, তা চিন্তা করতে গিয়ে বাড়ির এক প্রতিকূল চিত্র তার চোখের সামনে ফুটে উঠল। নিজ কর্মক্ষেত্রের এই সাফল্যের কথা স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে নিজের জীবনসঙ্গীকে বলার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু নিজের বাড়িতে তার এই পদোন্নতি যেন অভিশাপ। তার স্বামী স্কুলশিক্ষক। আয়েশা জুনিয়র অফিসার হিসেবে ব্যাংকের চাকরি শুরু করে। ধীরে ধীরে তার পদোন্নতি হতে থাকে আর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পারিবারিক অশান্তি। শেষে সংসার টিকিয়ে রাখতে নিজের পদোন্নতি, বেতন সব তথ্যই সে তার স্বামীর কাছ থেকে লুকোনো শুরু করে। এই সাফল্য তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধে পরিণত হয়। সে তার কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে স্বামীর কাছ থেকে কখনও অনুপ্রেরণা পায়নি, বরং সব সময়ই শুনেছে তিরস্কার। তাই সেই কষ্টকে মেনে নিয়ে পদোন্নতির কথা ভুলে গিয়ে বাড়ি এসে স্বামীর সেবায় মগ্ন হন আয়েশা।


রাগ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে স্ত্রীর কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। বরং স্বামীকে তার স্ত্রীর পাশে সহযোদ্ধা হিসেবে দাঁড়াতে হবে এবং স্ত্রীর জয়কে স্বামীর পক্ষ থেকে নিজের জয় হিসেবে মেনে নিতে হবে। তাহলে উচ্চপদস্থ স্ত্রীর কাছে তার স্বামী হবে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। দুজনের জয়ে নিজেরা হবে সুখী, পাশাপাশি তাদের সংসারজীবনও হবে সুখের।


এ চিত্র শুধু আয়েশার জন্যই নয়, সমাজের বহু নারীর জন্যই প্রযোজ্য। স্বামীর চেয়ে স্ত্রী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলে স্বামীর পক্ষে তা মেনে নেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। স্ত্রীর চাকরিজীবনে সাফল্যের জন্য তাকেই দোষী করে তোলা হয়। স্বামীর কর্মক্ষেত্রের সাফল্যকে স্ত্রী তার নিজের সাফল্য হিসেবে মেনে নেয়। প্রতি মুহূর্তে স্বামীর সেবা-শুশ্রূষা করে তাকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে থাকে, যেন সে তার চাকরিক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারে। সেখানে সেই স্ত্রী যখন চাকরিক্ষেত্রে নিজের সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে থাকে, তখন প্রতি মুহূর্তে তাকে বাধার মুখোমুখি হতে হয়। স্বামীর সেবায় যথেষ্ট মনোনিবেশ করতে না পারার কারণে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীর সাফল্যকে নিজের জন্য গৌরবের বলে মেনে নিতে পারে না। সামাজিকভাবেও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের মুখোমুখি হতে হয় একজন স্বামীকে, যদি তার স্ত্রী উচ্চপদস্থ ও বেশি আয়ের কর্মকর্তা হয়। সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন খুবই জরুরি। একজন স্বামীর সাফল্যের পেছনে যদি অনুপ্রেরণা জোগায় তার স্ত্রী, তবে স্ত্রীর সাফল্যের পেছনে কেন তার স্বামী অনুপ্রেরণা হতে পারে না? স্ত্রী স্বামীর চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলে, কেন তা স্বামীর ব্যক্তিত্বে আঘাত হানে ও পারস্পরিক রেষারেষির কারণে পারিবারিক কোন্দল সৃষ্টি করে।

বহুকাল ধরে সামাজিকভাবে চলে আসা ধ্যানধারণার প্রভাবেই সৃষ্টি হয় এই সংঘাতের। তাই সামাজিকভাবে প্রচলিত এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। স্বামীর অগ্রযাত্রায় স্ত্রীকে যেমন বন্ধু হিসেবে সাহায্য করতে হবে, তেমনি স্বামীকেও তার স্ত্রীর অগ্রযাত্রার পথে সহযোগী হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে। কখনও কখনও দেখা যায় স্বামী তার চাকরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে বা হাল ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু পাশাপাশি স্ত্রী নিজ গুণে নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। সে ক্ষেত্রে স্ত্রীর ওপর শুরু হয় স্বামীর ভিন্ন ধরনের নিপীড়ন। তেমনি

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

৯৯

এক মাস

৯৯

৩০

মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

আজকের কুইজ

[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]

এ সপ্তাহের জরিপ

Readers Opinion

Editors Choice