পারিবারিক গণতন্ত্র ও সুস্থ প্রজন্ম

রাতে বারান্দায় বসে কাঁদছে লিজা। এখন প্রায় শেষ রাত, সকাল হয়ে যাবে তবু মনে হয় ওর কান্না থামবে না। রাতে খাবার সময় তার বাবা বলেছে, দেখলাম তোমার পরীক্ষায় ফলাফল সে রকম ভালো হচ্ছে না। প্রথম-দ্বিতীয় না হলে চলবে না, তাই ভেবেছি এ বছর তুমি আবার ক্লাস সেভেনেই থাকবে। লিজা এবার তৃতীয় হয়েছে। কিন্তু বাবার এক কথা, প্রথম হতেই হবে। ওর বন্ধুরা সব ওপরের ক্লাসে চলে যাবে, আর একই স্কুলে একই ক্লাসে ওকে থাকতে হবে, ভাবলেই কান্না পাচ্ছে। বাসায় তার মায়ের বা তার মতামত বলে কিছু নেই। বাবা যা বলেন তা-ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, এ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন হবে না। এমন বাসায় থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো-এ কথা ভাবতে ভাবতে লিজা চেয়ে রইল রাতের আকাশের তারাদের দিকে। পরিবারে এমন একনায়কমূলক আচরণ সন্তান ও জীবনসঙ্গীর জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরিবারের শান্তি রক্ষা ও পরিবারের সব সদস্যের ইচ্ছা পূরণে পারিবারিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অতি জরুরি। একনায়কসুলভ আচরণে পরিবারের অন্য সদস্যদের মানসিক অবস্থা এবং পাশাপাশি পরিবারে গণতন্ত্র বজায় থাকলে সব সদস্যের মনের অনুভূতি জানতে আলোচনা হচ্ছিল কয়েকটি পরিবারের সদস্যের সঙ্গে।

পারিবারিক একনায়কতন্ত্রে সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

অনিমারা (ছদ্মনাম) দুই ভাই, দুই বোন। তাদের বাবা ব্যবসা করেন। মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। মা পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চাকরির সুযোগ ছিল। কিন্তু বাবা চাননি যে মা চাকরি করুক। তাই মায়ের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে, যা কোনোদিন পূরণ হবে না। বাবা ভীষণ রাগী এবং তার কথাই বাসায় শেষ কথা।

অনিমা বলছিল, আমার বড় ভাইকে ছোটবেলায় বাবা হোস্টেলে পড়তে পাঠিয়ে দেন। ভাইয়া একদম যেতে চায়নি, মা-ও যেতে দিতে চাননি। কিন্তু বাবার যেটা সিদ্ধান্ত সেটাই হবে, তা কখনো পাল্টাবে না। ভাইয়া ওখানে গিয়ে সিনিয়র ছাত্রদের কাছে খুব হেনস্তার শিকার হয়। সেই থেকে সব নতুন জায়গায়ই তার ভীতি। ভাইয়া খুব চুপচাপ হয়ে যায়। মনের বিরুদ্ধে হওয়ায় পড়াশোনার প্রতি একধরনের বিতৃষ্ণা জন্মায় এবং তা থেকে ভাইয়া আর অনার্স সম্পূর্ণ করেনি। অন্য এক মানুষ হয়ে গেছে। ভাইয়ার জীবন কী হতে পারত আর কী হলো? মা-ও ধীরে ধীরে অনুভূতি ও মতামতশূন্য মানুষে পরিণত হয়েছে। আমার পড়াশোনার বিষয়, স্কুল, কলেজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কখনো নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারিনি।

এমন একনায়কতান্ত্রিক আচরণে সন্তানেরা মানসিক বিধ্বস্ততা থেকে বিপথগামী হয়ে পড়ে। বন্ধুদের কুসঙ্গে নিজ জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। কখনো খুব উগ্রও হয়ে ওঠে। তাদের মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক হয় না। কখনো দেখা যায় নিজস্ব মতামত বলে কিছু আর থাকে না, যা পরবর্তী জীবনে এক বড় অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়।

পারিবারিক গণতন্ত্রের অভাবে সাংসারিক জটিলতা

বর্তমানে একক পরিবারের যুগেও রুমানারা যৌথ পরিবার। তাদের বিয়ে হয়েছে সাত বছর হতে চলল, চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। দাদা-দাদি, ফুপুর সাথে আনন্দেই দিন কাটে তার ছেলে অমিতের। তবু ভাবি-ননদ-শাশুড়ি সম্পর্কে প্রতি মাসেই বিভিন্ন কারণে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এর পেছনে রুমানার স্বামীর একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবই মূল কারণ।

রুমানা বলছিল, আমার বাবার রিটায়ারমেন্টের পর বাবা-মায়ের বাসা প্রায় অচল। আমি বর্তমানে এনজিওতে আছি। তবু আমি যে আমার ইচ্ছেমতো খরচ করব, বাবা-মাকে একটু সাহায্য করব, সে সাধ্যি নেই। মাসের শুরুতে সব টাকা আমার স্বামীর কাছে। তার যা পছন্দ তা-ই করছে। ব্যবসা করছে যার কোনো হিসাব নেই। আমার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলার মতো স্বাধীনতাও শ্বশুরবাড়িতে নেই। তাই দরজার পেছনে একে অপরের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করা ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকে না। যদি আমরা সবাই পারিবারিক গণতন্ত্র রক্ষা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice