অফিসের নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলা
নতুন অফিসে চাকরি নেওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেছে লিনার (ছদ্মনাম)। এখনও পরিবেশের সঙ্গে কেন যেন নিজেকে ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছে না। এর আগে দুইবছর এক এনজিওতে চাকরি করার পর এটি তার দ্বিতীয় কর্মক্ষেত্র। এনজিওর পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এত বড় কোম্পানিতে চাকরির অভিজ্ঞতা এই প্রথম। নতুন সহকর্মীরা বেশ বন্ধুবৎসল। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও খারাপ নয়, তবু কোথায় যেন একটা প্রশ্ন। অফিসে তার বসার টেবিল একেবারে কোনায়। সহকর্মীদের টেবিল থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন। তার সঙ্গে আলাপের সময় সব সহকর্মীই যেন আলাদা সৌজন্য আর অফিসিয়াল সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। এমনি খুব মিশুক নয়। এই আনুষ্ঠানিকতার সম্পর্ক তাকে আরও চাপা স্বভাবের বানিয়ে দিয়েছে। নিজের যতক্ষণ কাজ থাকে তো থাকে, কাজ ছাড়া বাকি সময় গালে হাত দিয়ে নিজ চেয়ারে বসে সময় কাটানো ছাড়া কিছুই করার থাকে না। তখন তার মনে যেন একটিই সুর বাজতে থাকে ‘যখন সময় থমকে দাঁড়ায়, নিরাশার পাখি দু হাত বাড়ায়...।’ লিনার ইচ্ছা করে অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় অংশ নিতে। কিন্তু তার প্রতি তাদের ব্যবহার কী হবে, সেই চিন্তায় তার ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে যায়।
নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলতে হলে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। সচেতনভাবে অফিসিয়াল রাজনীতি ও পরনিন্দা থেকে দূরে থাকুন। নিজের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে; কারণ হতে পারে আপনার সাথে মানিয়ে নিতে আপনার সহকর্মীদেরই সময় বেশি লাগছে। আপনার সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহারই অফিসের গুরুগম্ভীর পরিবেশকে বন্ধুত্বময় করে তুলবে।
লিনার মতো অফিসের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে চলতে না পারার সমস্যা অনেকেরই। নারীদের সে সমস্যা আরও বেশি। ছাত্রজীবন থেকে চাকরিজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন এই অফিসের জীবনে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। তেমনি নতুন ডিপার্টমেন্ট বা অফিসের নতুন শাখায় বদলির ক্ষেত্রেও মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা প্রকটরূপে দেখা দেয়। তবে এক্ষেত্রে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার কিছু নেই। নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলতে হলে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। তাই নারীদের চাকরিজীবনে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু সহজ বুদ্ধি এখানে দেয়া হলো:
প্রথম ধাপ, সহকর্মীদের দেখে হাসুন ও নানা কাজে শুভকামনা জানান। আপনার সহকর্মীর বিশেষ স্মরণীয় বা সফলতার দিনটিতে কিছু ফুল বা বই উপহার দিন। সহকর্মীরা ততটা বন্ধুবৎসল না হলেও নিজের বন্ধুসুলভ আচরণ চালিয়ে যান। নিঃসংকোচে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিন। নানা ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন। অফিসে চকলেট, বিস্কুট, ফল নিয়ে যেতে পারেন, সহকর্মীদের সঙ্গে তা ভাগ করে খেতে পারেন। খাবারের মধ্য দিয়ে অফিস-সম্পর্কের বাইরে খোলামেলা পরিবেশ তৈরি হবে, যা বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
ছাত্রজীবনের পরিবেশ ও চাকরিক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন হিসেবে এই পরিবেশ বুঝতে বেশ সময় লাগে। তাই ধৈর্যের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও সহকর্মীদের মনোভাব উপলব্ধি করতে হবে এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিজেকে গড়তে হবে। সেজন্য প্রথম দিকে অফিস শুরুর দশ-বিশ মিনিট আগে অফিসে এসে একটু দেরিতে বাসায় যাওয়া যেতে পারে। এই অতিরিক্ত সময়ে সহকর্মীদের আলোচনার বিষয়ের মধ্য দিয়ে তাদের মনোভাব বোঝা সহজ হবে, যা সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
যেহেতু দিনের দীর্ঘ সময়ই কাটাতে হয় অফিসে, তাই অফিসের পরিবেশকে নিজের কাছে আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে। অফিসের কোনো সহকর্মীর ব্যবহার খারাপ লাগলেও তাতে মনঃক্ষুণ্ণ হওয়ার কিছু নেই। নতুন হিসেবে পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে তার জায়গায় সে ঠিক আছে, এটা মেনে নিতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কেউ নিজের ভুল ধরিয়ে দিলে তাতে খুশি হতে হবে। কেননা, এটাই এনে দেবে ভুল সংশোধনের সুযোগ। তাদের এই সহযোগিতামূলক মনোভাবকে উৎসাহিত করতে হবে। যেটি সহকর্মীদের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments