২৬ বছর
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
See more >>-
কোন এক সময় একজন লোক ছিল। তার স্ত্রী ছিল খুব সুন্দরী আর সাজগোজ করতে খুব ভালবাসত সে। তারপর অভাবে পড়ল তারা, পয়সাকড়ি নেই হাত মোটেই। একদিন স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, ‘বাজারে গিয়ে কিছু নিয়ে আসি খাবার জন্য।’
একটা সুন্দর পোশাক পরল সে, কানে দুল ঝোলাল, সুর্মা টানল ভ্রুতে, গালে একটা তিল আঁকল, তারপর বাজারে চলল কোমর নাচাতে নাচাতে হাসতে হাসতে। দেখে মাংসওয়ালা একটা ভেড়া কেটে ছাল ছাড়াচ্ছে। মেয়েমানুষটি তার দিকে একটা রূপার মোহর এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই মোহরের বদলে মাংস দাও আমায়।’
‘আরে মেয়ে ও মোহরের কোন দামই নেই!’ বলল মাংসওয়ালা।
‘মোহরটার হয়ত দাম নেই, কিন্তু আমার তো দাম আছে!’
-
একসময় এক মহাপ্রতাপশালী বাদশাহ ছিলেন। প্রচুর ধনসম্পদ তাঁর কোষাগারে, তিনটি ছেলে তাঁর বেড়ে উঠেছে। কিন্তু ধনসম্পদ বা তিন ছেলে কোনোকিছুই বাদশাহর মনে আনন্দ দিতে পারে না।
সব সময়ই মন খারাপ তাঁর। তাঁর সভাসদরা বা ছেলেরা যত চেষ্টাই করুক না কেন তাঁর মনে খুশী আসার কিছুতেই কিছু হয় না।
একদিন তাঁর কাছে প্রধান উজির এসে বলল: ‘তোমার এই বিষাদ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মনেও। তোমার এত ক্ষমতা—যা চাও বল, আদেশ দাও, আমোদে মাত।’
‘নিজেই বুঝি না আমি কেন আমার এ বিষাদ, কিছুই ইচ্ছা করে না আমার।’ উত্তর দিল বাদশাহ।
উজীর বলল: ‘তাহলে তোমার সেরা ঘোড়াগুলোকে সাজাতে বল। নিজের পারিষদের দল নিয়ে আপনার
-
এক দেশে ছিল এক দয়ালু ন্যায়পরায়ণ লোক। লোকটি খুব ভাল জানত মালীর কাজ, এক চমৎকার বড় বাগান তৈরী করেছে সে নিজের জন্য। যখন তার বয়স হল নিজে আর খাটতে পারে না তখন নিজের ছেলে হামদামের হাতে তুলে দিল দেখাশোনার ভার। বাবার থেকে হামদামও পেয়েছে দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ চরিত্র আর সেই সঙ্গে ফুল-গাছপালার প্রতি ভালবাসা।
বিয়ে করেছে হামদাম, দুটি অতি সুন্দর ছেলে তার।
মৃত্যুর সময় এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে একদিন তার বাবা ছেলেকে ডেকে পাঠাল, বন্ধু আর প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে বলল ছেলেকে: ‘বাপ হামদাম!’ আমি মরে গেল যে কাজ আমি আরম্ভ করেছি তা তুই চালিয়ে যাবি... সৎভাবে পরিশ্রম করবি, দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ
-
অনেক অনেকদিন আগে ছিল এক শিকারী—এক নিপূণ তীরন্দাজ। শিকারে গিয়ে খালি হাতে ফিরত না সে কখনও।
একদিন সে অনেক জীবজন্তু শিকার করে নিয়ে ফিরছিল, পথে দেখা হল তার এক গরীব চাষীর সঙ্গে।’
‘ভাল শিকার করেছ হে, তীরন্দাজ! বেশ ভালো দামে বেচতে পারবে তোমার আজকের শিকার।’
তীরন্দাজ গরীব চাষীকে লক্ষ্য করে বলল, ‘লক্ষ্য স্থির করা আর হাতের তীর ছোঁড়ার নিপূণতারই হল আসলে দাম। এই পাখিটার দাম অন্যের কাছে কি পাব জানি না, কিন্তু তোমায় এটা খুব শস্তায় দিয়ে দেব। এর জন্য যা দেওয়া কুলোয় তোমার ক্ষমতায় তা-ই দেবে।’
‘শোন গো ভালমানুষের ছেলে, আমার কি পাখি কেনার সামর্থ্য আছে? খাজনা দিতেই ফতুর
-
এক-যে ছিল বুড়ো আর বুড়ি। বাজারে গিয়ে বুড়ো একটা পাঁঠী কিনল। বাড়ি নিয়ে এসে রাতে ঘুমাল, পরের দিন বুড়ো ছেলেকে বললে পাঁঠীটা চরিয়ে আনতে। ছোকরা পাঁঠী চরায়, চরাল একেবারে সন্ধে পর্যন্ত। সন্ধেয় তাকে নিয়ে চলল বাড়ি। এল বেড়ার দরজা পর্যন্ত, বুড়ো সেখানে তার লাল বুট পরে দাঁড়িয়ে। শুধাল: ‘পাঁঠী আমার, ছাগলীটি, জল খেয়েছিস তুই, ঘাস খেয়েছিস?’
‘না দাদু, কিছু, খাই নি, দাই নি: কেবল সাঁকো দিয়ে যাওয়া, পাতা খুঁটে নেওয়া, খালের পাড়ে ছোটা, একফোঁটা জল জোটা—ওইটুকুনি ভোজন, ওই তেষ্টা মিটন।’
ছেলের ওপর রেগে গেল বুড়ো, দিল তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে ৷ পরের দিন ছোটো ছেলেকে পাঠাল। ছাগল চরায় সে, চরাল
-
বন দিয়ে চলেছে দাদু, পেছন পেছন কুকুরটা। যায়, যায়, যায়—দস্তানাটি ওদিকে পড়ে গেল। ছুটে এল নেংটি ইঁদুর, দস্তানার ভেতর ঢুকে বললে: ‘এখানে থাকব আমি।’
এইসময় তিড়িক তিড়িক—এল ব্যাঙ। জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর। কিন্তু তুমি কে?’
‘তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ। আমাকেও ঢুকতে দাও!’
'এসো।’
হল ওরা দুজন। ছুটছিল খরগোশ, দস্তানার কাছে এসে জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ। কিন্তু তুমি কে?’
‘আর আমি দৌড়-খোশ খরগোশ। আমাকেও ঢুকতে দাও!’
‘এসো।’
হল ওরা তিনজন। ছুটে আসে শেয়ালি: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ আর দৌড়-খোশ খরগোশ। কিন্তু তুমি কে?’
-
এক-যে ছিল শেয়ালি, নিজের একটা ঘর বানাল সে। ঘরটা বানিয়ে না সেখানেই দিন কাটাতে লাগল। তারপরে তো ঠাণ্ডা পড়ল। ঠাণ্ডায় শেয়ালি জমে যায়, গাঁয়ে ছুটে গেল আগুন আনতে। এল এক বুড়ির বাড়িতে,
বলে: ‘কুশল গো দিদিমা! পরবের দিন, মঙ্গল হোক তোমার। আমায় একটু আগুন দাও, উপকারের শোধ দেব।’
‘তা বেশ শেয়ালি দিদি। বসো, গরম হয়ে নাও, আমি ততক্ষণ চুল্লি থেকে পিঠেগুলো নামাই গে।’
আর বুড়ি তো সেঁকছিল মসলাদার পিঠে। চুল্লি থেকে নামিয়ে সেগুলো টেবিলের ওপর রেখে জুড়তে দিল। শেয়ালির চোখ ওদিকে বড়োসড়ো লালচে রংধরা পিঠেটার দিকে। খপ্ করে নিয়েই, বাস... ভেতরকার পুরটা খেয়ে ফেলে তার জায়গায় যতসব আবর্জনা ঢুকিয়ে তার
-
এক-যে ছিল বুড়ো আর ঝুড়ি। তাদের ছিল একটা ছাগল আর একটা ভেড়া। ছাগল আর ভেড়ার মধ্যে ভারি ভাব: যেখানে ছাগল, ভেড়াও সেখানে; শবজি ভুঁইয়ে ছাগল ঢুকল বাঁধাকপি খেতে, ভেড়াও; ছাগল গেল বাগানে, ভেড়াও তার পেছু পেছু।
বুড়ো বললে, ‘আহ্,, পারি না গিন্নি—ছাগল, ভেড়াকে খেদাতে হয়, নইলে আমাদের শবজি ভুঁইও থাকবে না, বাগানও থাকবে না! ... এ্যাই, ভাগ তো, তোদের টিকিও যেন আর না দেখি!’
তা ছাগল আর ভেড়া একটা বস্তা বানিয়ে নিয়ে চলে গেল।F
যেতে, যেতে, যেতে দেখে মাঠের মধ্যে পড়ে আছে একটা নেকড়ের মাথা। ভেড়া তো তাগড়াই, কিন্তু সাহস তেমন নেই, আর ছাগল বেশ সাহসী। কিন্তু নেই তেমন একটা
-
একজনের একটা কুকুর ছিল সেরকো, বুড়ো-থুত্থুরে। কুকুরটাকে সে তাড়িয়ে দিলে আঙিনা থেকে। ঘুরে বেড়ায় সে মাঠে, ভারি দুঃখ, তার। ‘কত বছর মালিকের কাজ করলাম, ভালো করে পাহারা দিতাম, আর এখন বুড়ো বয়সে আমায় একটুকরো রুটি দিতেও ওর কষ্ট হয়, তাড়িয়ে দিলে বাড়ি থেকে।’ ঘুরে বেড়ায় আর এইসব ভাবে... দেখে—নেকড়ে আসছে। নেকড়ে তার কাছাকাছি এসে শুধোয়:
‘ঘুরে ঘুরে বেড়াস কেন?’
সেরকো বললে: ‘কর্তা তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই ঘুরে বেড়াই।’
নেকড়ে বললে: ‘কর্তা যাতে তোকে আবার ফেরত নেয়, তার ব্যবস্থা করব?’
সেরকোর ভারি আনন্দ হল: ‘কর ভাই, কর! আমি তার শোধ দেব।’
নেকড়ে বলে: ‘তাহলে শোন, কর্তা-গিন্নি যখন ফসল তুলতে যাবে, গিন্নি ছেলেটিকে
-
বহুকাল আগে নিঝুম বনের মধ্যে দেখা দিল এক সিংহ, এমন সে জাঁদরেল আর ভয়ংকর যে একবার গর্জন করলেই সমস্ত জন্তু-জানোয়ার ভয়ে কাঁপত বেতস পাতার মতো। আর যখন শিকারে বেরত, সামনে যে পড়ত, তাকেই কামড়ে কুটিকুটি করত। বনশুয়োরদের পালে ঝাঁপিয়ে পড়ে সবাইকে মেরে ফেলত, আর খাবার জন্যে রাখত কেবল একটাকে। ভারি ভয় পেয়ে গেল জন্তুরা, ভেবে পায় না কী করে। সবাই জুটল পরামর্শ করতে।
ভালুক তখন বললে: ‘শোনো, মশাইরা, এমন দিন যায় না যে সিংহ গোটা দশেক করে জন্তু না মারে, কখনো কখনো বিশটাও। আর খায় কেবল একটা-দুটো, বাকিগুলো খামকা মরছে, কেননা রোজ সে নতুন নতুন ধরছে, আগের দিনে মারা জন্তু
-
তীরের কাছে ভাসছিল মরাল। ঘাড় বাঁকিয়ে সে জল দেখছিল। কাছেই ছিল একটা বোয়াল মাছ। মাছটা জিগ্যেস করলে: ‘আচ্ছা বলো তো, নদী জমে গেলে তুমি কোথায় উড়ে যাও?’
‘তা জেনে তোমার কী লাভ?’
‘শীতকালে কোথাও পালিয়ে থাকতে চাই। নইলে জমা বরফের তলে তাজা বাতাস থাকে না, দম আটকে মরি।’
‘শীতকালে আমি উড়ে যাই গরম দেশে, বসন্ত পর্যন্ত সেখানে থাকি।’
বোয়াল বললে, ‘আমাকেও সেখানে নিয়ে চলো।’
‘তা বেশ! যদি চাও, একসঙ্গেই উড়ে যাব। সঙ্গী থাকলে ভালোই কাটবে।’
কথাবার্তাটা কানে গেল চিংড়ির। বললে: ‘আমাকেও সঙ্গে নাও।’
‘তা বেশ! তুমিও চলো আমাদের সঙ্গে, আনন্দে কাটবে। শরৎ পর্যন্ত এখানে থাকব, বলব কখন উড়ে যেতে হবে।’
-
এক-যে ছিল বুড়ো আর বুড়ি। বুড়ো হল কিন্তু ছেলেপুলে নেই ৷ কষ্ট হয়, দুঃখ, করে, ‘বুড়ো বয়সে কে আমাদের দেখবে? মরণকালে কে আমাদের পাশে থাকবে?” বুড়োকে বুড়ি বলে: ‘বনে যাও গো, আমার জন্যে একটা কাঠের পায়া আর একটা দোলনা বানিয়ে দাও; পায়াটাকে দোলনায় রেখে দোলাব। অন্তত খানিক মন-ভুলানি তো হবে।’
বুড়ো প্রথমটা গা করে নি, বুড়ি কিন্তু কেবলি মিনতি করে; শেষ পর্যন্ত বুড়ো শুনল তার কথা, বনে গেল। কাঠের একটা পায়া চেঁছে তুলল, দোলনা বানাল। বুড়ি পায়াটাকে দোলনায় রেখে দোলায় আর গুনগুন করে:
তেলেসিক, যাদু আমার,
রেঁধেছি তোর জইয়ের মাড়,
রেঁধেছি তুলতুলে খাবার,
তেলেসিক, যাদু আমার!
দোলাতে, দোলাতে, শেষে ঘুমিয়ে
-
ছিল একজন লোক। তার ছয় ছেলে, একটি মেয়ে।
গেল তারা জমি চষতে, বোনকে বললে যেন খাবার নিয়ে যায়। বোন বললে: ‘কিন্তু কোথায় তোমরা চষবে? আমি তো জানি না।’
ওরা বললে: ‘যেখানে চষব, বাড়ি থেকে সে জায়গাটা পর্যন্ত ফালের দাগ দিয়ে যাব। তুই সেই দাগ ধরে চলে যাবি।’
এই বলে চলে গেল তারা।
এখন সেই মাঠের কাছে বনে এক নাগ থাকত ৷
দাগটা সে বুজিয়ে দিতে শুরু করল। আর নিজে তার বদলে আরেকটা দাগ টেনে নিয়ে গেল তার নিজের পুরী পর্যন্ত।
মেয়েটি এদিকে ভাইদের জন্যে খাবার নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল সেই দাগ ধরে।
যেতে যেতে যেতে গিয়ে পৌঁছল একেবারে নাগের আঙিনায়।
-
অনেক কাল আগে ছিল এক রাজা আর রানী।
বয়সকালে তাদের ছেলেপুলে হয় নি, তবে বুড়ো বয়সে হল একটি ছেলে। তাকে দেখে দেখে আর আনন্দ ধরে না।
যখন সে বড়ো হয়ে উঠল, ঠিক করল তার বিয়ে দেবে। ছেলে কিন্তু বলে: ‘যতদিন না আমায় এমন একটা ঘোড়া দিচ্ছ যা আগুন খায়, শিখায় চুমুক দেয়, ছুটলে বিশ যোজন অবধি মাটি কাঁপে, ওকগাছের পাতা ঝরে পড়ে, ততদিন বিয়ে করব না।’
রাজা তার মহাবীরদের ডেকে জিগ্যেস করতে লাগল: ‘হয়ত তোমাদের কেউ জানো, কেউ শুনেছ কোথায় এমন ঘোড়া যা আগুন খায়, শিখায় চুমুক দেয়, ছুটলে বিশ যোজন অবধি মাটি কাঁপে, ওকগাছের পাতা ঝরে পড়ে?’
সবাই বললে
-
এক-যে ছিল বুড়ো আর বুড়ি। বড়ো গরিব তারা। বুড়ি একদিন বললে: ‘তুমি বুড়ো বনে গিয়ে কিছু লাইম কাঠ কেটে আনলেও তো পার। আঁচ দেবার মতো তো কিছু থাকবে।’
বুড়ো বললে, ‘বেশ।’ কুড়ুল নিয়ে চলে গেল বনে।
বুড়ো তো এল বনে। একটা লাইম গাছ বেছে নিয়ে কাটবার জন্যে যেই কুড়ল হাঁকিয়েছে, হঠাৎ শোনে মানুষের ভাষায় লাইম বলছে: ‘হেই গো, ভালো মানুষ, কেটো না আমায়, তোমার বিপদে কাজে লাগব।’
ভয়ে বুড়োর হাত থেকে কুড়ুল খসে পড়ল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবল কিছুক্ষণ, তারপর ফিরে গেল বাড়ি।
বাড়ি এসে বললে কী ঘটেছিল। বুড়ি কিন্তু বলে: ‘আহ্ কী বোকা তুমি? এক্ষুনি লাইম গাছের কাছে গিয়ে বলো
-
লেখক: এস এম আজিজুল হক শাজাহান
২৪ পরগণা জেলার আড়বেলিয়া গ্রামের বসন্তকুমারী দেবী ও দীনবন্ধু ভট্টাচার্যের দ্বিতীয় সন্তান নরেন ভট্টাচার্য, পরবর্তীকালে যিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় নামে পরিচিত, তাঁর সমস্ত জীবনটাই ছিল একটি ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের পাখী (আলব্যাট্রস্য)’র মতই ছিল তাঁর জীবনকাল। মানব মুক্তির জন্য প্রায় গোটা পৃথিবী মন্থন করে পৃথিবীর জ্ঞান ভান্ডারকে অজস্র মনিমুক্তায় সমৃদ্ধ করে পরিশেষে অকস্মাৎ দেরাদুনের ছোট্ট একটি নীড়ে সেই পাখীর পাখার ঝাপটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, শুদ্ধ হয়ে যায় তাঁর প্রাণ প্রদীপ। সে আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর পূর্বের কথা—১৯৫৫ সালের ২৫শে জানুয়ারী। তিনি যখন মারা যান তখন তিনি ভারতের রাজনীতিতে ছিলেন প্রায় সম্পূর্ণ পরিত্যাক্ত—স্তব্ধ বিসুভিয়াসের মত। আজ
-
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মুসা সাদিক
“শত্রুর কামানের গোলায় বুক পেতে দিয়ে আত্মদানের ঘটনা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও শোনা যায় না“
[১৯৭১-এর ৭ ডিসেম্বর যুদ্ধের শেষ পর্যায়। কিন্তু কেউ জানত না যে যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে, অন্তর্যামী ব্যতীত। রণাঙ্গনের বাতাস মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর রক্তের গন্ধে একাকার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরের শত শত ফ্রন্ট তখন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর বীরদের পদভারে কাঁপছে। তাঁদের মিলিত শোণিতে সিক্ত হয়ে উঠেছে শত শত রণাঙ্গনের মাটি-ঘাস-ফুল। সেই ৭ ডিসেম্বরে ইস্টার্ন সেক্টর গোপন সফরে এলেন জেনারেল এস.এইচ.এফ.জে. মানেকশ'। কোন কর্মসূচী ও সংবাদ ছাড়াই জেনারেল ওসমানীসহ জেনারেল মানেকশ' আকস্মিকভাবে ৮নং থিয়েটার রোডে বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্যারের অফিসে
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
এপ্রিল মাসে বড়ো কঠিন সময় কাটল, তবে তার ইতিবাচক ফলাফল ক্রমশ দেখা দিতে লাগল; এবং যা-কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল সবই বাস্তবায়িত হতে লাগল। বিচ্ছিন্ন কিছু জাহাজ আমাদের নৌবহরের গতিপথ অনুসরণ করে বন্দরে এসে ভিড়ল এবং মাল খালাস করল।
মে মাসের প্রথম দিকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাবিশিষ্ট 'সুদর্শনা হংকং' ট্যাঙ্কার জ্বালানি বহন করে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করল। এটা ছিল উদ্ধারাভিযানের প্রথম সাফল্য। এর ফলে এদেশে প্রেরিত যাবতীয় সহায়তা ও মালামাল বন্দরে খালাস করার সুযোগ মিলল।
বাংলাদেশের জনজীবনে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এই বন্দর অবস্থিত। তার পানি পলিমাটি-ভরা হওয়ার কারণে
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
বন্দর থেকে বড়ো ধরনের তিনটি জাহাজ নিরাপদে সরানোর পরে পরবর্তী অন্যান্য জাহাজের জন্য একটি স্থায়ী রুট তৈরি হল। তবে তা ছিল ভারতীয় মাইন-অনুসন্ধানকারীদের তৈরি করা রুটের চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘ। বঙ্গোপসাগরে জোয়ার-ভাঁটার ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করে ও সাগরে মাইন স্থাপনের বিন্যাস বিশেষণ করে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম সাগরে চলাফেরার জন্য কোন্ ব্যবস্থা সবচেয়ে নিরাপদ হবে। বর্তমান কার্যকর রুট ২রা মে থেকে স্বল্পতম সময়ে তিন মাইল পর্যন্ত চওড়া করা যাতে যে কোনো জাহাজ বন্দরে নিরাপদে পৌঁছতে পারে। কার্যকর রুটের দৈর্ঘ্য বরাবর বিশেষ সংকেতচিহ্ন (সিগন্যাল) স্থাপন করে রুটের পুব পাশের সকল মাইন একযোগে নিষ্ক্রিয় করার কাজ আরম্ভ করতে হবে।
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
'অ্যাটলাস' থেকে আমি নেমে যাবার পরে সেটা স্থান বদল করে পুনরায় নোঙর ফেলে ডুবে থাকা জাহাজের উপরে অবস্থান নিল।
'সোনার তরী'র সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য সেটার দৈর্ঘ্য বরাবর সামনের ও পিছনের দুই প্রান্তে ভাসমান সংকেত বসানো হল। জাহাজের স্থান বদলের সময় সেগুলো তার সাথে সাথে নড়াচড়া করেছিল। সবকিছু প্রস্তুত করে লক্ষ্যবস্তুর উপর ডুবুরী নামানো হল। অ্যাটলাসের ইঞ্জিন ও প্রপেলার পরীক্ষা করে কোনো ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া যায় নি। ডুবন্ত 'সোনার তরী'র খোলের ভিতরকার স্থানগুলোতে কিছুটা পলিমাটি ভরে থাকলেও, কোনো মালামাল ছিল না। 'অ্যাটলাসের' অবস্থান ছিল মাঝনদী থেকে কিছুটা বাঁয়ে।
জন্নোতিন্ মানচিত্র নিয়ে আমার কাছে চলে এলেন।
-
লেখক: রফিকুল ইসলাম
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি, নগ্ন সামরিক শাসন ব্যবস্থা এবং তথাকথিত মৌলিক গণতন্ত্রী ব্যবস্থায় ১৯৬৫ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষমতা আইনানুগ করার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী সামরিক নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্তি আর সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের ক্ষমতার বাইরে রাখার নীলনকশা কার্যকর করা। সেই কঠোর সামরিক শাসনের মধ্যে ও পূর্ব বাংলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক আন্দোলন, শরীফ কমিশনের শিক্ষা সংস্কারবিরোধী ছাত্রদের শিক্ষা আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখে দাঁড়ানোর আন্দোলন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনভোকেশন হাঙ্গামাকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও সংবাদপত্র নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন, অর্থনৈতিক বৈষম্যবিরোধী দুই অর্থনীতির জন্য আন্দোলন ছিল প্রকৃত প্রস্তাবে সামরিক স্বৈরাচার ও পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন, যেসব আন্দোলনের
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- গদ্য
- জীবনী
- স্মৃতিকথা
- পৌরাণিক
- সাংবাদিকতা
- অনুবাদ
- কিশোর
- লোককাহানি
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- অপরাধ
- গোয়েন্দা
- মুক্তিযুদ্ধ
- বাংলা
- লোককাহিনী
- জাতীয়তাবাদ
- ফ্যাসিবাদ
- আন্দোলন
- ঢাকা
- বিশ্ববিদ্যালয়
- বই
- খুলনা
- জ্যোতির্বিদ্যা
- পাকিস্তান
- হিন্দু
- ছোটগল্প
- শিশুতোষ
- রূপকথা
- বিজ্ঞান
- পুঁজিবাদ
- মার্কসবাদ
- সমাজতন্ত্র
- সাম্যবাদ
- আলোচনা
- নারী
- ইউরোপ
- যুদ্ধ
- মহাকাশ
- ওষুধ
- গবেষণা
- চিঠি
- ভারত
- লেখক
- মনোবিজ্ঞান
- মানসিক স্বাস্থ্য
- ক্রিকেট
- ফুটবল
- লালন
- পশ্চিমবঙ্গ
- সরকার
- যুক্তরাষ্ট্র
- পাখি
- বিজ্ঞানী
- নির্বাচন
- চীন
- শিল্পকলা
- চলচ্চিত্র
- উদ্ভাবন
- ভাষা
- গণিতশাস্ত্র
- সঙ্গীত
- ভৌতিক
- গণতন্ত্র
- সংঘর্ষ
- দর্শন
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
- সমালোচনা
- ইংরেজি
- যুক্তরাজ্য
- গণহত্যা
- সংবাদ
- ভাষণ
- কবিতা
- ইসলাম
- কৃষি
- রবীন্দ্রনাথ
- বিপ্লব
- নৃত্য
- রোজনামচা
- সমাজ
- প্রাণিবিদ্যা
- দাঙ্গা
- উদ্ভিদ
- কলকাতা
- ঘুমপাড়ানি গল্প
- আইন
- সংবিধান
- খাদ্য
উৎস
- প্রক্রিয়াধীন
- সমকালীন
- ইউক্রেনের লোককথা
- শান্তি স্বাধীনতা সমাজতন্ত্র
- পরিচয়
- তাজিক লোককাহিনী
- বিজ্ঞানচেতনা
- ঢাকা প্রকাশ
- উক্রাইনীয় উপকথা
- আজেরবাইজানের গল্প-সংগ্রহ
- মনে রেখো আমাদের, হে বাংলাদেশ
- বিজ্ঞান পাঠ
- মূল্যায়ন
- সাহিত্যচিন্তা
- কাজাখ লোককাহিনী
- বাংলাদেশ ’৭৩
- প্রবাসী
- জানলা : তৃতীয় বিশ্বের সাহিত্য
- বাংলাদেশ কথা কয়
- ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান
- আশ্বাস
- গল্পগুচ্ছ
আর্কাইভ
- ২০২৬ (১২)
- ২০২৫ (১২)
- ২০২৪ (৩২)
- ২০২২ (১)
- ২০১৯ (৪)
- ২০১৬ (২)
- ২০১৫ (১৬)
- ২০১১ (১)
- ২০০৮ (১)
- ২০০৫ (১)
- ২০০৩ (২)
- ২০০০ (১)
- ১৯৯৯ (৩)
- ১৯৯৮ (৫)
- ১৯৯৭ (১)
- ১৯৯৫ (১১)
- ১৯৯০ (১৮)
- ১৯৮৯ (১০)
- ১৯৮৮ (২৯)
- ১৯৮৭ (১)
- ১৯৮৪ (৪)
- ১৯৮০ (১)
- ১৯৭৮ (৪)
- ১৯৭৫ (৩)
- ১৯৭৩ (১)
- ১৯৭২ (২)
- ১৯৭১ (১৯)
- ১৯৬৯ (১)
- ১৯৬৮ (২)
- ১৯৬৫ (২)
- ১৯৬২ (১)
- ১৯৬০ (৫)
- ১৯৫৭ (৪)
- ১৯৪৬ (১)
- ১৯০৪ (১)
- ১৯০৩ (১)
- ১৯০১ (১)
- ১৮৯২ (১)
- ১৮৯১ (১)
- ১৮৯০ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.

