সুলেমান খান ও বাইগিজ পাখী

সুলেমানের প্রাসাদ ছিল ধনরত্‌নে পূর্ণ, কিন্তু তার মধ্যে সব থেকে বেশী মূল্য দিত খান একটা সোনার আংটিকে, সেটাকে কখনই সে খুলত না হাত থেকে। সেটা ছিল একটা জাদু-আংটি: যে সেটাকে পরত সেই গাছপালা জীবজন্তুর ভাষা বুঝতে আরম্ভ করত আর তাদের ওপর প্রভুত্ব অর্জন করত।

একবার শিকারে বেরিয়ে সুলেমান ঠাণ্ডা জলে মুখচোখ ধুয়ে নেবার জন্য নদীর কাছে গেল। অঞ্জলি ভরে জল তুলে নিতে যাবার সময়ে জাদু-আংটিটা খুলে পড়ে গেল হাত থেকে, ডুবে যেতে লাগল জলে। সুলেমান জলে ঝাঁপ দিতে যাবে রতনটা উদ্ধারের জন্য, হঠাৎ জলে দেখা দিল একটা বিশাল মাছ, মাছটা আংটিটা গিলে ফেলে লেজ নাড়িয়ে জলের গভীরে ডুব দিল।

ঐ আংটিটার কথা ভাবতে ভাবতে সলেমান গভীর বিষণ্ন মনে চলতে লাগল নদীর ধার বরাবর। অনেকক্ষণ চলার পর দেখতে পেল একটা কুটীর, কুটীরের কাছে মাছ ধরার জাল শুকোচ্ছে।

রাত নামছে ক্রমশ। খান ঢুকল কুটীরে। দোরগোড়া পেরিয়ে সে কার যেন নাকীসুরে কথা শুনতে পেল: ‘ভাল কিসমৎ আজ! পেটভরে খাওয়া যাবে!’

খানের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল ভয়ে—কুটীরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে রক্তপিপাসু জালমাউজ-কেম্পীর ডাইনী আর তার দিকে বাড়িয়েছে লম্বা লম্বা নখওয়ালা হাতগুলি। খান বাঁচবার জন্য হাতে তুলে নিল শিকারের ছোরাটা, এমন সময় শোনা গেল আর একটা মিষ্টি গলা, যেন বুলবুলি গান গেয়ে উঠল:

‘এই আগন্তুকটিকে কিছু কোরো না, মা! দেখছ না ও কেমন সুন্দর ও আভিজাত্যময়। স্বয়ং সুলেমান খানও এর থেকে বেশী সুন্দর নন।

খান ফিরে তাকাল সেই কণ্ঠের অধিকারিনীর দিকে আর তার হৃদয় যেন কেঁপে উঠল, আগুন জ্বলে উঠল: চুলার কাছে রঙচঙা গালিচার ওপর এমন অপূর্ব সন্দরী এক মেয়ে বসে আছে যে তার জন্য মরতে কেউই ভয় পাবে না।

জালমাউজ-কেম্পীর ডাইনী বলল: ‘বেঁচে গেছিস যে আমার মেয়ে বুলুকের চোখে পড়েছিস। তোকে ছেড়ে দেব আমি। কিন্তু শীগগির পালা এখান থেকে। এখনি বুড়ো ফিরবে। তখন তোকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না।’

সুলেমান বলল: ‘যদি সন্দরী বুলুকও আমার সঙ্গে না যায় তবে আমি এক পা’ও নড়ব না।’

এমন সময় নদীর জল ফেঁপে উঠল, মাটি গরগর করে উঠল, কুটীরটা দুলে উঠল। যেন দারুণ ঝড় উঠেছে। জালমাউজ-কেম্পীর ডাইনী ঘরময় ছুটোছুটি করে, তারপর সিন্দুক খুলে চীৎকার করে বলল সুলেমানকে: ‘ওরে পাগল, ঢুকে পড় এই সিন্দুকের মধ্যে! দেরী করিস না!’

সিন্দুকের ঢাকাটা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বুড়ো নরখাদক—দিয়াউ এসে ঢুকল কুটীরে। ‘মানুষের গন্ধ পাচ্ছি!’ গমগম করে বলল সে।

স্ত্রী তাকে বকাবকি আরম্ভ করে দিল: ‘মাথাটা একেবারে গুলিয়ে গেছে বুড়োর। কাল যে মানুষটা খেয়েছি আমরা, সেটারই গন্ধ বেরোচ্ছে। এখন আমাদের এখানে কেউই আসে নি।’

রাত কাটল। ভোরবেলায় দিয়াউ নদীতে গেল মাছ ধরতে, একটু পরেই ফিরে এল অনেক মাছ ধরে নিয়ে।

‘এ দিয়ে সকালের খাবার তৈরী কর,’ মেয়েকে আর বউকে বলল সে। ‘আমি আবার শিকারে বেরোচ্ছি। হয়ত দুপুরের খাবার জন্য একটা মানুষ বা ঘোড়া ধরতে পারব।’

চলে গেল সে। জালমাউজ-কেম্পীর ডাইনী সুলেমানকে সিন্দুক থেকে বের করে পিঠে ধাক্কা দিতে দিতে দরজার দিকে নিয়ে চলল: ‘দূর হয়ে যা, চোখের সামনে থেকে! ভয়ে ভয়ে কাটাতে হয়েছে আমায় তোর জন্য!’

সুলেমান কিন্তু একটুও নড়ল না জায়গা ছেড়ে, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সন্দরী বুলুকের দিকে।

বাবার আদেশ অনুযায়ী মেয়েটি ওদিকে মাছ কাটতে বসেছে। বড় মাছটা কাটতেই বিস্মিত চীৎকার শোনা গেল মেয়েটির, মাছটির পেট থেকে সে বের করে আনল একটি সোনার আংটি। আংটিটা তার হাত ফসকে পড়ে গিয়ে গড়িয়ে এল সুলেমানের পায়ের কাছে। সেটা কুড়িয়ে নিয়ে সে হাতে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice