মনোবিদ্যার দুই স্তম্ভ : ফ্রয়েড ও পাভলভ
লেখক: বাসুদেব মুখোপাধ্যায়
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মনোবিদ্যা দর্শন থেকে নিজেকে মুক্ত করে ফেলে। চেতনা ও বস্তুর আন্তসম্পর্ক সভ্যতার সময় থেকে মানুষকে ভাবিয়েছে এবং যুগে যুগে সব বড় মাপের মানুষ এ সম্পর্কে তাঁদের মতামত রেখেছেন। এই চিন্তা-চেতনাকে দর্শন থেকে বার করে বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দু'জন বড় মাপের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভেবেছেন ও কাজ করেছেন তাঁরা হলেন ফ্রয়েড ও পাভলভ। সুতরাং এটা অত্যুক্তি নয় যে এই দুইজন মানুষ ও তাঁদের কাজ ঠিকমত জানার অর্থ হল মনোবিদ্যার একটা প্রধান অংশ জেনে ফেলা। কিন্তু এই জানার পদ্ধতিতে আমরা অবশ্যই বিজ্ঞানকে ব্যবহার করবো নইলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে। তাই এই দুটি মানুষের পরিচিতি মনোবিদ্যার প্রথম পাঠ বলে বিবেচনা করা যায়।
ফ্রয়েড ও তার মনোবিদ্যা:
সিগমুণ্ড ফ্রয়েড ১৮৫৬ সালের ৬ই মে ইহুদি পরিবারে মোরাভিয়ার ছোট্ট শহর ফেবুর্গে জন্মগ্রহণ করেন (যা এখন চেকোশ্লোভাকিয়ার অন্তর্গত)। তাঁর বাবা ছিলেন একজন উল ব্যবসায়ী। তাঁর যখন চার বছর বয়েস তখন তাঁরা ভিয়েনায় আসেন যেখানে ফ্রয়েড তাঁর জীবনের প্রায় সমস্ত সময়টুকু অতিবাহিত করেন। তিনি ভিয়েনায় মেডিক্যাল স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং তাঁর বিশেষজ্ঞতা ছিল স্নায়ুরোগবিদ্যা। ১৮৮৫ সালে প্যারিসে শার্কোর স্কুলে তিনি প্রশিক্ষণ নেন। ফ্রান্সে লিবলেট, বার্ণহেম প্রভৃতি ব্যক্তির কাছে হিপনোসিসের প্রশিক্ষণও নেন এবং ভিয়েনায় ফিরে এসে প্রক্ষোবতাড়িত বায়ুরোগীদের চিকিৎসা শুরু করেন। ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি গভীরভাবে হিস্টিরিয়া ও সেই সংক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজে ব্যাপৃত ছিলেন। আর বলা যায় তখন থেকেই মনঃসমীক্ষণ তত্ত্বের (Psychoaralysis) ওপর কাজকর্ম শুরু করেন।
দিকে নিশ্চিতভাবে এটি ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল মূল চিন্তার মূল বিষয় হিসেবে। আর যৌনতা ও শিশুদের বিষয়ে এর উদার সমর্থন ছিল। এটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যখন দেখা গেল যে মানুষ সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে না পেরে পারস্পরিক ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে লিপ্ত, এখন ফ্রয়েডের মনস্তত্ত্ব যেন তাকে অন্তর্লোকে আলোকপাত করার রাস্তা করে দিল।
ফ্রয়েডের নিজস্ব চিন্তাভাবনা বিজ্ঞানসম্মত ছিল- যার উদ্দেশ্য ছিল মনন প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটা সহজ সরল ধারণা তৈরি করা, যার দ্বারা বোঝা যাবে তাঁর রোগীদের রোগ এবং কীভাবে তারা সুস্থ হচ্ছে। কিন্তু যে বিচার-পদ্ধতি তিনি ব্যবহার করলেন তা ছিল আত্মগত ও প্রত্যক্ষবাদ সুলভ, ফলে তাই দিয়ে ক্রমশ মনন প্রক্রিয়ার জটিলতার আবরণ উম্মোচনের চেয়ে তা বাড়িয়ে তুললেন। শেষের দিকে নৃ-তত্ত্ব ও ধর্মের বিভিন্ন দিকগুলি তিনি যখন মনস্তত্ত্বের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা শুরু করলেন তখন যেন তিনি কল্পকথায় বা লোকগাথায় পৌঁছে গেছেন।
পাভলভ ও তাঁর শারীর-মনোবিজ্ঞান:
১৮৪৯ সালে মস্কো থেকে দেড়শো কিলোমিটার দূরে রিয়াজেন শহরে এক যাজক পরিবারে জেষ্ঠ্যপুত্র হয়ে পাভলভের জন্ম হয়। তিনি চার্চের স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ১৮৭০ সালে সেন্ট পিটার্সবুর্গের বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনায় ব্যাপৃত হন। সেখানে মেডিকো- সার্জিক্যাল এ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে ১৮৭৯ সালে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্নাতক হন। তখন থেকে একনিষ্ঠ গবেষক হিসাবে প্রফেসর বটকিনের গবেষণাগারের কাজে নিযুক্ত হন এবং সেই সময় থেকে সারাজীবন বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করেছেন। বলা যায় এইভাবে তাঁর সমস্ত জীবনই পরীক্ষাগারে কেটেছে। নতুন কাজের উদ্যোম তাঁর এমনই ছিল যে তাঁর ৮০ বছর বয়সে তিনি মনোরোগীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাঁর শারীরবিজ্ঞানের গবেষণার (পাচক রসের বিশ্লেষণ) সাফল্যের স্বীকৃতি হিসাবে ১৯০৪ সালে তাঁকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
পাভলভের এই সৃজনশীল মননশীলতার জন্য তাঁর পূর্বসূরীদের গভীর অবদান তিনি স্বীকার করেছেন। এক উন্মুক্ত, উদ্দীপ্তকারী, খোলামেলা, বিজ্ঞানমনস্ক আবহাওয়ায় তিনি নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। রেনে দেকার্ত থেকে শুরু করে পিসারেভ, লা মেত্রি, গলগি, দেইতার, রবার্ট হুক, হেলমহোলজ,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments