-
দক্ষিণ এশিয়ায় ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারের প্রেক্ষাপটে ইতিহাস চর্চার বিষয় হচ্ছে, কিভাবে নতুন শক্তির প্রভাবে স্থানীয় রাজ্যসমূহে ভাঙ্গন ধরে, কিভাবে শাসকশ্রেণীকে পর্যুদস্ত করা হয়; এবং কিভাবে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ার ফল ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র গঠন। এ রাষ্ট্র গঠন ছিল এমনি একটি রাজনৈতিক আইনগত প্রক্রিয়া যার মধ্যে বিশাল যুদ্ধের ভূমিকা খুব গৌণ। নতুন নতুন এলাকা একের পর এক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, প্রণীত হয়েছে নতুন আইন, স্থাপিত হয়েছে নতুন শোষণ ব্যবস্থা। ঐতিহাসিকগণ জানেন যে, ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র গঠন ছিল একটি অবিরাম প্রক্রিয়া, যা সব সময় শ্রেষ্ঠ ঘটনাসমূহের সমান্তরালে চলেনি, যদিও তাঁরা ওসব ঘটনাকে সমধিক গুরুত্ব
-
দেওবন্দ শিক্ষা কেন্দ্র ও আলীগড় শিক্ষা কেন্দ্র এই উপমহাদেশের মুসলমানদের কাছে বিশেষ পরিচিত। অবশ্য আজকালকার দিনের শিক্ষিত তরুণ মুসলমানেরা আলীগড়ের নাম যে ভাবে জানে দেওবন্দ এর নাম তেমন করে জানে না। হিন্দুদের পক্ষে এ কথা সত্য, আলীগড়ের কথা তারা অনেকেই জানে কিন্তু দেওবন্দের কথা খুব কম লোকেই জানে। অথচ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেওবন্দ শিক্ষা কেন্দ্র যে দেশপ্রেমিক ভূমিকা গ্রহণ করে এসেছে, সেজন্য হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সকলের কাছেই তা স্মরণীয় থাকা উচিত ছিল।
এই উপমহাদেশের সুদুর পল্লী অঞ্চলে মুসলমানদের কাছে একসময় আলীগড়ের চেয়েও দেওবন্দের নামই কিন্তু অনেক বেশী পরিচিত ছিল। এর প্রধান কারণ দেওবন্দ কেন্দ্র উলেমাদের দ্বারা পরিচালিত এবং এখানে প্রাচীন
-
সময়টা ছিল ১৯৪২ সাল। ঢাকা শহরের এক সামান্য দারোয়ান ছিল দ্বারভাঙ্গার গিরিধারী প্রসাদ। পটুয়াটুলির গলিতে সে কতকগুলো দোকান আর অফিসের রক্ষণাবেক্ষণ করতো। পটুয়াটুলিতে রাস্তার দুপাশে দোকান আর ছোট ছোট অফিস ছিল সে সময়ে ৷ জন বসতি ছিল না। দারোয়ানরা ছিল জিম্মাদার। গিরিধারী প্রসাদ ছিল এদের একজন। অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সৎ, কিন্তু সামান্য মাইনের লোক ছিল সে।
সময়টা ছিল কিন্তু সঙ্গীন। অনেক হিসেব করে ভারতের কংগ্রেস-নেতৃত্ব ৪২ সালের ৯ই আগস্টের ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব পাশ করেছিলেন। নৈতিক দিক দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফ্যাসিবাদী হিটলার মুসোলিনী তোজোর নিন্দা করেছিলেন তাঁরা ; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজের অধীনে ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামাও সম্ভব নয় বলে
-
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ লোকের মুখে মুখে সিপাহী বিদ্রোহ নামে প্রচলিত হয়ে এসেছে, এই নামটা আমরা পেয়েছিলাম ইংরেজদের কাছ থেকে। ব্র্রিটিশ সরকার এর নাম দিয়েছিলো Sepoy Mutiny অর্থাৎ সৈন্য বিদ্রোহ। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে তাই মনে হবে বটে তার কারণ গোরা সিপাহীদের তুলনায় দেশীয় সিপাহীদের স্বল্পবেতন উর্ধ্বতন নাগরিক প্রভুদের দুর্ব্যবহার এবং নানা রকম অভাব-অভিযোগ সৈন্যদের মধ্যে দীর্ঘদীন ধরে অসন্তোষ সঞ্চিত করে তুলছিল। এই সমস্ত অন্যায় জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বলে ১৭৬৪ সালে দেশীয় সৈন্যদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় কয়েকজনকে তোপের মুখে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। সৈন্যদের মধ্যে এই জুলুম অবাধেই চলে আসছিল। ১৮৫৭ সালে দেশীয় সৈন্যরাই বিদ্রোহে প্রথম এবং প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। এই সমস্ত কারণে
-
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক মুক্তির ইতিহাস। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা মাত্রই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। প্রায় দুইশ বছরের লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মদানের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে এবং ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হলেও ঔপনিবেশিকতার প্রভাব এখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। এই প্রভাব সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও চিন্তার গভীরে সক্রিয় রয়েছে—যা সমকালীন তাত্ত্বিক পরিভাষায় কলোনিয়ালিটি (Coloniality) বা ঔপনিবেশিকতা নামে পরিচিত। মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কলোনিয়ালিটিকে বোঝা যায় একটি ঐতিহাসিক উৎপাদন সম্পর্ক, শ্রেণি শোষণ ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ধারাবাহিক রূপ হিসেবে। ঔপনিবেশিক
-
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে : বন্দীশালার ভিতর থেকে
নলিনী দাস
১৯৩০-১৯৩১ সালে ধরা পড়ে আমরা বিপ্লববাদীরা যখন জেলে গেলাম—তখন ফ্যাসিবাদ কেন, সাম্রাজ্যবাদ কথাটারও সঠিক মানে বুঝতাম না। আমরা বুঝতাম আমাদের শত্রু বিদেশী ইংরেজ রাজত্ব; তারা শোষক ও লুণ্ঠনকারী। তাদের তাড়াতে হবে, পরাধীনতার শৃঙ্খল চূর্ণ করতে হবে। আন্দামানে দ্বীপান্তরে যখন গেলাম, তখনও এই রকমই মনোভাব।
আন্দামানেই প্রথম শুরু হল সবকিছু তলিয়ে বুঝবার চেষ্টা। পৃথিবীর নতুন নতুন ঘটনাবলী, নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং দেশকে স্বাধীন করবার উদগ্র বাসনা—সবকিছু মিলিয়ে আমরা অসীম আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলাম, বুঝতে চাইলাম—সাম্রাজ্যবাদ কি, সমাজতন্ত্রই বা কি, মুক্তির পথই বা কি রকম?
আন্দামানে প্রথম দিকে ওরা আমাদের কাছে খবরের কাগজ, পত্রিকা,
-
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী-আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। এই সময় থেকেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এক নূতন রূপ-সংগ্রামী রূপ গ্রহণ করল। নানা কারণে সারা ভারতের মধ্যে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম রাজনৈতিক সচেতনতা লাভ করেছিল। ১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলা অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করে সমগ্র ভারতকে এক নূতন পথের নিশানা দিল। এই আন্দোলন প্রধানতঃ বাংলা প্রদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বটে কিন্তু তার প্রবাহ দেখতে দেখতে সারা দেশে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই নূতন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মূলে যার দায়িত্ব সর্বাধিক তিনি হচ্ছেন ভারতের তদানীন্তন বড়লাট লর্ড কার্জন। অবশ্য দুদিন আগে হোক বা পরে হোক ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামকে কিছুতেই ঠেকিয়ে রাখা যেত
-
খিলাফত সমস্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যে এক ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করে তুলেছিল। যুদ্ধপূর্বে সংঘটিত ঘটনাবলী দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে চলেছিল। ভারতের বিপ্লবীরা এই যুদ্ধের সংকটের সুযোগে ব্রিটিশের শক্র জার্মানীর সহায়তা নিয়ে ভারতে বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন, এ কথা ইতিপূর্বে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
শুধু বিপ্লবীরাই নয়, যুদ্ধকালীন ও যুুদ্ধপরবর্তী ঘটনাগুলির মধ্য দিয়ে সারা দেশের মানুষের রাজনৈতিক আশা-আকাক্সক্ষার দ্রুত রূপান্তর চলেছিল। ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯১৬ সাল বিশেষভাবে স্মরণীয়। এই ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। লক্ষ্ণৌর যুক্ত সম্মেলনে মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে জিন্নাহ মহম্মদ
-
রেবতীমোহন বর্মণআর আমাদের ভিতরে নেই। ৬ মে (১৯৫২) তারিখে তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন। সুদীর্ঘ বারো বৎসর কাল দুরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যাধির সহিত সংগ্রাম করে শেষ পর্যন্ত এই ব্যাধির হাতেই তিনি নিজের জীবনকে সঁপে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তাঁর মৃত্যুতে আমরা যে শুধু একজন বিশিষ্ট বিপ্লবীকে হারালাম তা নয়, মার্কসবাদের একজন একনিষ্ঠ ছাত্রও আজ চিরদিনের মতো আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে তাঁর আরো অনেক অবদান দেওয়ার ছিল, কিন্তু দুষ্ট ব্যাধি তা থেকে আমাদের বঞ্চিত করে দিল।
তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কৃতী ছাত্র ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় একজন সুলেখকও ছিলেন তিনি। কিন্তু এই পরিচয় তাঁর একমাত্র পরিচয়
-
জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁদের নাম বিশেষ ভাবে স্মরণীয়। কিন্তু নিজেদের ইতিহাস সম্বন্ধে অজ্ঞতার ফলে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের ত্রুটি বিচ্যুতির দরুণ এই সমস্ত নাম বিস্মৃতির তলায় চাপা পড়ে যায়। এমনি একটি নাম বদরুদ্দিন তায়াবজী। ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টদের নামের ধারাবাহিক তালিকায় তাঁর নামটা খুঁজে পাওয়া যায় বটে, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। তাঁর দেশের মানুষ তার সর্ম্পকে খুব কম খবরই রাখে।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যখন প্রথম গঠিত হয়, সে সময় যে ক’জন নেতৃস্থানীয় মুসলমান তার সঙ্গে যোগদান করেন, নিঃসন্দেহে বদরুদ্দিন তায়াবজী তার মধ্যে প্রধান। তিনি সে সময় ভারতের একজন বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী মুসলমান হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এটা এখনকার মুসলমান সমাজ
-
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যাদের পরিচয় আছে, মৌলবী বরকতুল্লাহ্র নাম তারা অবশ্যই শুনেছেন। ১৯১৫ সালের ১লা ডিসেম্বর তারিখে কাবুলে স্বাধীন ভারতের যে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়, রাজা মহেন্দ্রপ্রতাপ ছিলেন তার রাষ্ট্রপতি, আর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মৌলবী বরকতুল্লাহ্।
মৌলবী বরকতুল্লাহ্র বিপ্লবী জীবনের সবটাই কেটেছে ভারতের বাইরে, প্রবাসে এশিয়া, আমেরিকা, ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে। তাঁর ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপের জন্য তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের চক্ষুশূল, তাই স্বদেশে ফিরে যাবার পথ কোনো দিন তাঁর জন্য উন্মুক্ত হয়নি। অবশেষে একদিন দেশ থেকে বহুদূরে বিদেশের মাটিতে তাঁকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছিল।
তাঁর জন্মস্থান ছিল ভূপোলে। ১৯০১ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য লণ্ডনে গিয়ে শ্যামলী কৃষবর্মা
-
হাকিম আজমল খান
সর্বভারতীয় কংগ্রেসী নেতাদের মধ্যে হাকিম আজমল খানের নাম সুপরিচিত। তাঁর পূর্বপুরুষেরা মুগল সম্রাট বাবরের সঙ্গে এদেশে চলে আসেন এবং তখন থেকেই ডা. আনসারীর মত হাকিম আজমল খানের পূর্বসূরীরাও চিকিৎসা বিদ্যায় সমগ্র উত্তর ভারতে অসামান্য খ্যাতিলাভ করেছিলেন। তাঁর পূর্বপুুরুষদের মধ্যে একজন সম্রাট আকবরের আমলে চিকিৎসাকে তার পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। তাঁরই এক বংশধর ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকীয় চিকিৎসক। তারপর থেকে তঁাঁদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ রাজ চিকিৎসক হিসাবে কাজ করে এসেছেন।
এই বিখ্যাত চিকিৎসক বংশের উপযুক্ত বংশধর ছিলেন হাকিম আজমল খান। তাঁর জন্ম ১৮৬৩ সালে। তাঁর পিতার নাম গোলাম মহম্মদ খান।
শিক্ষার দিক দিয়ে তিনি প্রাথমিক বাধ্যতামূলক কোরান
ক্যাটাগরি
উৎস
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.