দেওবন্দ শিক্ষা-কেন্দ্র

দেওবন্দ শিক্ষা কেন্দ্র ও আলীগড় শিক্ষা কেন্দ্র এই উপমহাদেশের মুসলমানদের কাছে বিশেষ পরিচিত। অবশ্য আজকালকার দিনের শিক্ষিত তরুণ মুসলমানেরা আলীগড়ের নাম যে ভাবে জানে দেওবন্দ এর নাম তেমন করে জানে না। হিন্দুদের পক্ষে এ কথা সত্য, আলীগড়ের কথা তারা অনেকেই জানে কিন্তু দেওবন্দের কথা খুব কম লোকেই জানে। অথচ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেওবন্দ শিক্ষা কেন্দ্র যে দেশপ্রেমিক ভূমিকা গ্রহণ করে এসেছে, সেজন্য হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সকলের কাছেই তা স্মরণীয় থাকা উচিত ছিল।

এই উপমহাদেশের সুদুর পল্লী অঞ্চলে মুসলমানদের কাছে একসময় আলীগড়ের চেয়েও দেওবন্দের নামই কিন্তু অনেক বেশী পরিচিত ছিল। এর প্রধান কারণ দেওবন্দ কেন্দ্র উলেমাদের দ্বারা পরিচালিত এবং এখানে প্রাচীন ধারায় ধর্মীয় শিক্ষার উপরেই বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়ে থাকে। অপর পক্ষে আলীগড়কে মুসলমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাশ্চাত্য জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রচারের পীঠস্থান বলা চলে। সেদিক দিয়ে এর একটা প্রগতিশীল ভূমিকা ছিল, সে কথা স্বীকার করতেই হবে।

কিন্তু আরও একটি কারণ আছে এবং সেই কারণটা একেবারেই তুচ্ছ নয়। আলীগড়ে অভিজাত ও সমাজের উচ্চশ্রেণীর মুসলমান ছেলেরাই শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে কিন্তু দেওবন্দের ক্ষেত্রে এ কথা বলা চলে না। সারা দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের সাধারণ ঘরের শিক্ষার্থীদের জন্যও তার দ্বার অবারিত। এই প্রতিষ্ঠানের আদর্শ ছিল সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার করা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা কেন্দ্রটি প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত সাধারণ মুসলমানদের সঙ্গে এবং তাদের সাংসারিক জীবনের সুখ-দুখের সঙ্গে অব্যাহতভাবে তার সম্পর্ক রক্ষা করে এসেছে।

ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা পরিচালিত এই শিক্ষা কেন্দ্রটির স্বরূপ বুঝাতে হলে তার অতীত দিনের ইতিহাসের সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা দরকার। স্যার সৈয়দ আহমদ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পরে আলীগড়ে তাঁর শিক্ষা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। দেওবন্দের শিক্ষা কেন্দ্র প্রায় একই সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তার পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের দেশপ্রেমিক ও সংগ্রামী ঐতিহ্য। এই সংগ্রামী প্রেরণার মূলে ছিলেন দিল্লীর শাহ-ওয়ালীউল্লাহ।

শাহ ওয়ালীউল্লাহের দুটি লক্ষ্য ছিল। প্রথমটি ধর্মীয়: তিনি ইসলাম ধর্মকে পরবর্তীকালের নানারূপ কুসংস্কার ও আচার বিচারের জাল থেকে মুক্ত করে হযরত মহম্মদ (দঃ) প্রবর্তিত ধর্মের প্রাথমিক বিশুদ্ধতায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। দ্বিতীয়টি বৈষয়িক: ব্রিটিশের ভারত অধিকারের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনের যে সমস্ত সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে তিনি তার সমাধান করতে চেয়েছিলেন।

১৮০৩ সালে ইংরেজদের আক্রমণ দিল্লীর পতনের পর তাঁর পুত্র ও শিষ্য শাহ আবদুল আজীজের উপর এক গুরু দায়িত্ব এসে পড়ল। তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ভারতকে ‘দার উল হরব’ অর্থাৎ যুদ্ধরত দেশ বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন। এই ফতোয়ায় সমস্ত মুসলমানদের উপর এই নির্দেশ দেওয়া হলো যে তারা হয় জেহাদ ঘোষণা করে এই দেশকে বিজেতা খ্রিষ্টানদের হাত থেকে মুক্ত করুক নয়ত এদেশ ত্যাগ করে যে-কোন স্বাধীন মুসলমানের দেশে চলে যাক। কিন্তু শুধু দেশত্যাগ করে গেলেই চলবে না, বাইরে থেকেই শক্তি সংগ্রহ করে আবার তাদের ইংরেজদের হাত থেকে এই দেশকে মুক্ত করতে হবে। একমাত্র তখনই এই দেশে ‘দার-উল্-ইসলাম’ অর্থাৎ ‘শান্তির রাজ্য’ প্রতিষ্ঠিত হবে।

সেই নির্দেশকে মান্য করে উত্তর প্রদেশের রায়বেরিলির সৈয়দ আহমদ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। শাহ আবদুল আজিজের শিষ্য ও আত্মীয় স্বজনরাও এই বিষয়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বর্ণিত এই ‘ওয়াহবী’ দল উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের দুর্গম বন্ধুর পার্বত্য অঞ্চলকে ঘাঁটি করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিল। তারা সেই সময় থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বাঁচিয়ে রেখেছিল।

১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় এই দলের কিছু কিছু লোক বিদ্রোহীদের সাথে যোগদান করেছিল। কিন্তু এই বিদ্রোহকে সম্পূর্ণভাবে চূর্ণ করে দেওয়ার পর

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice