-
ক. জাতি: একাত্মতা ও প্রতিবেশ
যে জাতির কথা আমরা বলছি তার জনসংখ্যা হচ্ছে আট কোটি। ঈশ্বরের কৃপায় ২০০০ খৃষ্টাব্দে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫ কোটিতে। মোট এলাকার পরিমাণ প্রায় ৫৫ হাজার বর্গমাইল এবং আমরা ধরে নিচ্ছি ২০০০ খৃষ্টাব্দেও তা ৫৫ হাজার বর্গ মাইলেই থাকবে। এটি হচ্ছে সম্ভবতঃ বিশ্বের সবচাইতে জনবহুল ৫৫ হাজার বর্গমাইল। প্রক্রিয়াজাত, অর্ধ প্রক্রিয়াজাত বা অপ্রক্রিয়াজাত সব ধরণের উৎপাদনের পরিমাণ আমাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে কম মাথাপিছু আয়ের দেশে পরিণত করে রেখেছে। এইসব অবধারিত সত্যের ক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যর্থতাই বিভিন্ন মহল কর্তৃক এদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ভিক্ষার ঝুলি বা এ ধরণের জ্বালাময়ী ব্যাঙ্গোক্তি প্রয়োগের সুযোগ এনে দিয়েছে।
যে সব জাতি বর্তমানে
-
ছাত্রদের শিক্ষাজীবনে আজ অগণিত সমস্যা রয়েছে। আবার ছাত্রসমাজ দেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় সমস্যায়ও জর্জরিত। এই উভয়বিধ সমস্যা ছাত্র- সমাজকে পঙ্গু করে তুলেছে। ছাত্রদের শিক্ষা-সমস্যা ছাত্রদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে বা, যে মুষ্টিমেয় সৌভাগ্যবান ছাত্র শিক্ষার সীমিত সুযোগ পাচ্ছে, তারাও শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির জন্যে প্রয়োজনীয় মানের শিক্ষা অর্জন করতে পারছে না। আবার আমাদের বন্ধ্যা সমাজ নতুন নতুন শিক্ষিত যুবকদের জন্ম আনুপাতিক হারে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারছে না। তাই ছাত্রবয়সের প্রান্তসীমায় এসে যুবক-তরুণরা এক অবধারিত নিষ্ফল ভবিষ্যতের মুখোমুখী হচ্ছে। এর ওপর রয়েছে জাতীয় জীবনে সামা-জক-অর্থনৈতিক সমস্তার চাপ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, বেকারত্ব প্রভৃতি অভিভাবকদের উপরে যে চাপ সৃষ্টি করে তার
-
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মধ্যে ‘মুজিববাদ’ এবং ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ এই দুই শ্লোগানের পরিচয়ে এক দ্বিধা-বিভক্তি ক্রমশ প্রকাশ পেতে থাকে ৷ ঐ বৎসরের ২৩শে জুলাই একই সময়ে রেসকোর্স এবং পল্টন ময়দানে পৃথক পৃথক সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রলীগের এই দ্বিধা-বিভক্তি চূড়ান্ত সাংগঠনিক রূপ লাভ করে। একদিকে যখন ‘মুজিববাদ’-পন্থী ছাত্রলীগ দেশে ‘মুজিববাদ’ প্রতিষ্ঠার শপথ নেয়, অন্যদিকে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে’র অনুসারী ছাত্রলীগ দেশে ‘শ্রেণী সংগ্রামের মাধ্যমে সামাজিক বিপ্লব সংঘটিত করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা নেয়। ১৭ই সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস উপলক্ষে পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের জনসভায় আ স ম আবদুর রব একটা পার্টি গঠন করার ইঙ্গিত দেন। ৩১শে অক্টোবর মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) জলিল এবং আ স
-
1. THE NATION IDENTITY AND ECOLOGY
THE nation of which we speak is about 80 million strong; God willing, it is likely to be in the year 2000 A.D. nearly 115 million. The habitat is approximately 55 thousand square miles to-day and we assume, will continue to be that in the 2000 A.D. It is probably the most densely populated 55 thousand square miles on earth. The volume of production, processed, semi-processed and unprocessed, after necessary exercise, gives us nearly the lowest per capita income in the world. These indubitable and unflattering facts have enabled international jesters to exercise their
-
১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম বিদ্রোহ ও অস্ত্রাগার দখলের সংগ্রামের মহানায়ক শহীদ সূর্য সেনের (মাষ্টারদা ) সংস্পর্শে আসার সুযোগ যাদের হয়েছিল তারা কেউ কেউ তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু মাষ্টারদার শিষ্য ও অনুগামী হয়েও নিরন্তর তাঁর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসার সুযোগ আমার খুব কমই ছিল। একমাত্র আমাদের দলের উচ্চতম নেতৃত্ব এবং পরবর্তীকালে মাষ্টারদা কর্তৃক আত্মগোপন অবস্থায় সশস্ত্র আন্দোলন পরিচালনার সময়ে যে- সব কর্মী তদানীন্তন কাজের স্বার্থে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাদের পক্ষেই মাষ্টারদাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে মানুষ ও বিপ্লবী হিসাবে মাষ্টারদার চরিত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন বিশদভাবে করা সম্ভবপর। তা সত্ত্বেও অতি স্বল্প সময়ের জন্য তাঁর সংস্পর্শে আসার যে সুযোগ আমি পেয়েছি
-
শুরু
এ পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার পরই কেবল জাসদের মধ্যে আত্মসমীক্ষার একটা প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটে। তবে ’৭৪-এর ১৭ই মার্চ থেকে ’৭৫-এর ৭ই নভেম্বর সময়টাতে সম্ভবত এই সমীক্ষার একটা পূর্বারম্ভও ছিল। কারণ,
ক) “১৭ই মার্চের পূর্বে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো সম্পর্কে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ, বিপ্লবের স্তর সম্পর্কে আমাদের কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য ছিল না। স্বভাবতই শত্রু-মিত্র নির্ধারণ ও আন্দোলনের রূপরেখা সম্পর্কে আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা ছিল অনুপস্থিত।”
[জাসদের দ্বিতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ কর্তৃক উত্থাপিত ‘রাজনৈতিক রিপোর্ট’, পৃষ্ঠা ১৪: 29/3/80]
অথবা, খ) “বস্তুত ১৭ই মার্চ ১৯৭৪-এ আমরা কি করতে চেয়েছিলাম? তখনকার সাহিত্যগুলো খুঁজে দেখলে মূলত একটি জবাব বেরিয়ে আসবে! গণআন্দোলনের ছেদ ঘটিয়ে তাকে
-
II ১ II
জাসদের আলোচনায় একটা অসুবিধা হলো এই যে, এটা কোন ‘পার্টি’ নয়। এই দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে: জাসদ একটি সমাজতান্ত্রিক গণ-সংগঠন; অর্থাৎ ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক জোটের মতো জাসদও নেহাতই একটা গণসংগঠন।
তাহলে পার্টি কোথায়? পার্টি নেই; আছে একটা ‘পার্টি প্রক্রিয়া’। সেটা হলো জাসদের মধ্য থেকেই ক্রমে একটা বিপ্লবী পার্টি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া। জাসদ সভাপতি জনাব জলিল এটাকে একটা তুলনা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন:
জাসদ মার্কসবাদী পার্টি নয়। জাসদকে আমরা সমাজতান্ত্রিক গণসংগঠন বলছি। এখানে বিভিন্ন শ্রেণীর সমন্বয় ঘটবে। এখানে আন্দোলনের মাধ্যমে কর্মী তৈরী হবে। যেমন ধরুন, আপনি মাখন তৈরী করতে চান। তাহলে আপনাকে একটা কড়াইয়ে দুধ জ্বাল
-
II ১ II
(ক)
জাসদ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চরিত্র এবং পুঁজিবাদবিরোধী সংগ্রামের সাথে তার সঠিক আন্তঃসম্পর্ক কি করে বুঝবে, কারণ কে যে সাম্রাজ্যবাদ, সে সম্বন্ধেই তো সে এখনও মনস্থির (!) করে উঠতে পারেনি!
১৯৭৪ সালে তারা যে ‘থিসিস’ প্রকাশ করেছিলেন, তার শুরু হয়েছিল ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ আলোচনার মধ্য দিয়ে। সেখানে বেশ কৃতিত্বের (!) সাথে আবিষ্কার করা হয়েছিল যে, “ষাটের দশক থেকে আধিপত্য স্থাপনের প্রতিযোগিতায় সংশোধনবাদীদের নেতৃত্বে রাশিয়ার অবতরণ বিশ্বসংকটের চরিত্রে এক ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে। সমাজবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের বিরোধ এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের নিজেদের মধ্যেকার বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই বৃহৎ শক্তি রাশিয়া ও আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.