- নজরুল ইসলাম
- মে ১৯৮১
- ১৫০
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মধ্যে ‘মুজিববাদ’ এবং ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ এই দুই শ্লোগানের পরিচয়ে এক দ্বিধা-বিভক্তি ক্রমশ প্রকাশ পেতে থাকে ৷ ঐ বৎসরের ২৩শে জুলাই একই সময়ে রেসকোর্স এবং পল্টন ময়দানে পৃথক পৃথক সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রলীগের এই দ্বিধা-বিভক্তি চূড়ান্ত সাংগঠনিক রূপ লাভ করে। একদিকে যখন ‘মুজিববাদ’-পন্থী ছাত্রলীগ দেশে ‘মুজিববাদ’ প্রতিষ্ঠার শপথ নেয়, অন্যদিকে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে’র অনুসারী ছাত্রলীগ দেশে ‘শ্রেণী সংগ্রামের মাধ্যমে সামাজিক বিপ্লব সংঘটিত করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা নেয়। ১৭ই সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস উপলক্ষে পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের জনসভায় আ স ম আবদুর রব একটা পার্টি গঠন করার ইঙ্গিত দেন। ৩১শে অক্টোবর মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) জলিল এবং আ স ম আবদুর রবকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে’র ৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়; আর ২৪শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক্সট্রা কাউন্সিলে এই নতুন দলের ১০৫ সদস্যের সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে এই নতুন দল ‘জাসদ’ বুর্জোয়া শোষক শ্রেণীর সরকার বলে ঘোষণা করে এবং তাকে উৎখাতের সর্বাত্মক সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। অবিভক্ত ছাত্রলীগের একটা বিরাট এবং তুলনামূলকভাবে সচেতন, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী মনোভাবাপন্ন অংশকে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী’ ছাত্রলীগ এবং জাসদ আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়। অন্যদিকে স্বাধীনতা পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাসদের জনসভাগুলোতে বেশ জনসমাগম হতে থাকে।
১৯৭৩ সালের ডাকসু নির্বাচনে জাসদপন্থী ছাত্রলীগ জয়লাভ করে (যদিও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হতে পারেনি)। সব মিলিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে উৎখাতের ব্যাপারটা জাসদ খুব আশু লক্ষ্য হিসাবে আনে। সরকারের বিরুদ্ধে জাসদ একের পর এক কার্যক্রম গ্রহণ করতে থাকে। পরপর ৩০শে ডিসেম্বর ও ২০শে জানুয়ারী (যথাক্রমে ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালের) প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। ৮ই ফেব্রুয়ারী হরতালের ডাক দেওয়া হয়। এবং ১৭ই মার্চ পল্টন ময়দানের এক উত্তেজিত সভা শেষে জাসদের বিরাট মিছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলীর বাড়ী ঘেরাও করে। ঘটনা এক পর্যায়ে গুলি বর্ষণে পৌঁছায় এবং জাসদের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হন। ঘটনার প্রেক্ষিতে জাসদের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীদিন হরতালের আহ্বান সত্ত্বেও তা সফল হয় না। ১৭ই মার্চের ঘটনার পর জাসদকে আর বেশী মিটিং, মিছিল ইত্যাদি করতে দেখা যায় না। এই সময় থেকে গোপনে গড়ে উঠতে থাকে ‘গণবাহিনী’, যদিও তখন পর্যন্তও তার কর্মতৎপরতা তেমন প্রকাশ্য রূপ লাভ করে না। ‘গণবাহিনী’র তৎপরতা সর্বসমক্ষে প্রকাশিত হয় ১৯৭৫-এর ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলীর সময়। ৭ই নভেম্বরের অভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনীর সিপাহীদের সাথে ‘গণবাহিনী’র সদস্যরাও যোগ দেয়। কিন্তু অভ্যুত্থানের উপর শেষ পর্যন্ত জাসদপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং জিয়াউর রহমান ক্ষমতা সংহত করার সাথে সাথেই পুনরায় জাসদ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ঘটানোর অভিযোগ আনেন। বিশেষভাবে অভিযুক্ত হন কর্নেল তাহের। গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনালে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়, এবং তা কার্যকরী করার ফলে অকুতোভয় কর্নেল আবু তাহেরের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। অন্যদের সকলকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এ ছাড়া ‘গণবাহিনী’র সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজনের বিরুদ্ধে একটা সাধারণ গ্রেফতার ও ট্রাইব্যুনাল অভিযানও চালানো হয় ৷ এইভাবে ৭ই নভেম্বর এবং পরের ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ইতিহাসের একটা ঘটনাবহুল, রক্তাক্ত ও বিচিত্র অধ্যায়ের শেষ হয়।
নজরুল ইসলাম
নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের অন্যতম প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও পরিবেশবিদ। মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় ও সেন্ট জোন্স বিশ্ববিদ্যালয়, এবং জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। অর্থনীতির বিভিন্ন শাখায় মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন
আরও দেখুন...-
আজ এই রাতে মৃতরা ঠান্ডায় সিঁটিয়ে গিয়ে ঘুমোয়। তুষার বইছে জলপাই বাগানের মধ্য দিয়ে, ঝরে যাচ্ছে শিকড়ের আঁকি বুঁকি ছাঁকনির মধ্য দিয়ে। স্মৃতিফলকলাঞ্ছিত কবরস্তূপের উপর দিয়ে উড়ে চলেছে তুষার (স্মৃতিফলকের সময় ছিল একদিন!) জলপাই গাছগুলি এই শীতের হাওয়ায় কেমন ন্যাড়া ন্যাড়া দেখায়। ট্যাঙ্কগুলি গোপন করার জন্য নিচের দিকের ডালপালা কেটে নেওয়া হয়েছিল। জারামা নদীর উপরে ছোট টিলাগুলিতে এখন মৃতেরা ঘুমোচ্ছে ঠান্ডায় সিটিয়ে গিয়ে। সেই ফেব্রুয়ারি মাসের শীতে ওরা মাটি নিয়েছে, আর তারপর থেকে কত-যে ঋতুচক্র পার হল তার হদিশ আর ওরা রাখেনি।
আজ থেকে ছ-বছর আগে জারামার চড়াই সাড়ে চার মাস দখলে রেখেছিল লিঙ্কন ব্যাটেলিয়ান। আর স্পেনের মাটিতে মাটি হয়ে
-
[লেখাটি প্রকাশিতব্য সংকলন গ্রন্থ “ইরানের কমিউনিস্ট আন্দোলন ও তুদেহ পার্টি”-এর জন্য লিখিত ভূমিকা]
১৯১৭ সালে সোভিয়েত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিপ্লবের ঢেউ দেশে দেশে আছড়ে পড়তে থাকে। সে জোয়ার থেকে বাদ যায়নি ইরানও। ইরানের বন্দর-ই আনজালিতে সে দেশের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় ১৯২০ সালের ২২ জুন—সে হিসেবে শতবর্ষী। এমনকি ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের চেয়েও পুরনো। কিন্তু ইরানে শ্রমিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের সূচনা উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে। সেই সময় ও বিংশ শতাব্দীর গোড়াতেই পুঁজিবাদী উৎপাদন ও শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মার্কসবাদী ভাবাদর্শও ইরানে পথ খুঁজে নেয়। প্রথম মহাযুদ্ধ পর্যন্ত ইরানে দুটি সাম্রাজ্য রাজ করত—উত্তর ইরানে জার শাসিত রাশিয়া আর আফগান সীমান্তের দক্ষিণ অংশে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments