-
বিবিক্ত, বিষণ্ন ও ভয়াবহভাবে নির্জন এই কালে লোকসাহিত্যের চর্চা, পঠন-পাঠন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা আমাদের চেতনার শরীরে স্নিগ্ধ মধুর প্রলেপের মতো। লোকসাহিত্যের সরল সহজ অনাড়ম্বর পৃথিবী একমাত্র ঠাঁই যেখানে মুখ লুকোবার মতো জায়গা আছে, অন্তত পিতৃমাতৃহীন এ-যুগে। লোকসাহিত্যের মধ্যে যুক্তিশাস্ত্রের নিয়মকানুন মানবার তেমন আয়োজন নেই অথচ শুধু তারই ভিতরে পর্যাপ্ত হৃদয় একেবারে ছড়িয়ে আছে, আর সেখানেই আমরা পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সংলাপে স্নিগ্ধ হতে পারি। একালের ধূসর সৃষ্টিহীন মুহূর্তে লোকসাহিত্য দেশের বিপুল জনসাধারণের সঙ্গে একাত্ম হতে শেখায়, আমাদের একাকিত্ববোধ, স্বল্পকালের জন্য হলেও, মুখর জনকণ্ঠের মধ্যে হারিয়ে যায়, ব্যক্তির আলাদা নির্জন অস্তিত্ব জন-অস্তিত্বের স্বাদ পায়, তদুপরি দেশ-কাল-পাত্রের দিগ্বলয় বিশ্ববলয়ের মধ্যে স্থিতি পায়, আমাদের বিষাক্ত
-
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানেই এক অপার বিস্ময়, বহুমুখী প্রতিভার সমন্বয়। শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি শাখায়ই তাঁর ছিল দাপুটে বিচরণ। দর্শন, অর্থনীতি, কৃষি, সমাজ, পল্লীজীবন ইত্যাদি নিয়ে তাঁর ছিল মৌলিক ভাবনা। পরিবেশ সচেতনতা তথা পরিবেশ-ভাবনা সাম্প্রতিক কালের বিষয় বলে বিবেচিত হলেও, অনেক আগেই রবীন্দ্রনাথ পরিবেশ নিয়ে ভেবেছেন। পরিবেশকেন্দ্রিক নানা উদ্যোগের সঙ্গে তিনি নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। পরিবেশ-ভাবনা ছিল তাঁর স্বদেশ ভাবনার বড় অংশ জুড়ে। পরিবেশ-ভাবনায় তিনি ছিলেন তাঁর যুগের চেয়ে বিস্ময়করভাবে অনেক অগ্রসর।
রবীন্দ্রনাথের পরিবেশ-ভাবনা নগরকে কেন্দ্র করে অগ্রসর হয়নি, অগ্রসর হয়েছে গ্রামবাংলাকে কেন্দ্র করে। ‘বধূ’ কবিতায় তিনি নগরকে তুলে ধরেছেন এভাবে—“ইটের পরে ইট, মাঝে মানুষ কীট,/ নাইকো ভালবাসা, নাইকো খেলা।” আর গ্রাম সম্পর্কে
-
বহু শতাব্দী থেকে এ দেশের পল্লীতে হিন্দু ও মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছে। সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে তো বটেই, এমন কি, ধর্মীয় চেতনায়ও তারা সমন্বয় সাধন করেছেন। বৈষ্ণব দর্শনের পশ্চাতে সূফী প্রভাব ঠিক কতখানি আজো তা গবেষণার বিষয়। কিন্তু পণ্ডিতগণ অনুমান করেন, সে প্রভাব যথেষ্ট গভীর। তা ছাড়া বৈষ্ণবদের সাম্যবাদী আদর্শও ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও মৈত্রীর দ্বারা প্রভাবিত। সহজিয়াদের সাধনার অথবা কবীরের ধর্মেও ইসলামের মানবিক আদর্শ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কবীরের সদগুরু ও সত্যপীর এক কিনা অথবা সত্যপীরের কল্পনায় কবীরের সমন্বয়ধর্মী মনোভাব কাজ করেছে কিনা জানিনে; কিন্তু সত্যপীর হিন্দু-মুসলমানের যুগল আদর্শের সংশ্লেষিতরূপ। হিন্দু ও মুসলমানের এই ভাবের সমন্বয় অত্যুজ্জ্বলভাবে বিধৃত আছে এ দেশের সাহিত্য, সঙ্গীত,
-
সুদীর্ঘ ষাটবছর ধরে বাংলাসাহিত্যকে নানা আশীর্বাদে ধন্য করেছেন রবীন্দ্রনাথ। সে দানের কোন হিসেব নেই। জীবনের নানা দিকে তাঁর দান অজস্র ধারায় বর্ষিত হয়েছে। শুধু যে নূতনতর প্রকাশ-ভঙ্গীর সৃষ্টি তাই নয়, মানব চিত্তকেও নূতনতর সমৃদ্ধির দানে পুষ্ট করেছেন তিনি। যে বিরাট মন সমগ্র ভারতবর্ষকে সুদীর্ঘকালের সাধনায় নানা বৈভব বিলিয়ে গেল, তার পরিণতির যে ইতিহাস লোকচক্ষুর অগোচরে তাকে জানবার বাসনা সকলেরই আছে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের বহির্জীবনে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছিল তার সম্বন্ধে দেশের লোকের ঔৎসুক্য খুব বেশি নয়। তাঁর যে সাধনা তাঁকে মহর্ষি করে তুলেছিল সেই সাধনার কথা দেশ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। রবীন্দ্রনাথের জীবন দেবেন্দ্রনাথের মত নয়। লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেকে তিনি
-
রবীন্দ্রসাহিত্য বিরাট মহাসাগরের মতো। তার কোথায় কি আছে, কোথায় কত গভীরতা এসব নির্ণয় করা যেমন-তেমন কথা নয়। রবীন্দ্রনাথের কোনো এক কবিতায় তিনি তাঁর অনবদ্য ভঙ্গিতে অজানা বন্ধুকে যা বলেছিলেন, তার মর্মার্থ অনেকটা এই : হে বন্ধু, লোকে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তোমাকে চিনি কিনা? আমি গর্ব করে বলি ‘হ্যাঁ চিনি।’ কিন্তু তারা যখন জিজ্ঞাসা করে তুমি কেমন? তখন কি যে বলবো, বুঝতে পারিনে ; কেবল বলি কি জানি? তারা তখন বিদ্রূপের হাসি হেসে চলে যায়। দেখ, আমি যে তোমাকে একেবারে চিনিনে তাই বা কেমন করে বলি? কত সকাল-সন্ধ্যা-দুপুরে আভাসে-ইঙ্গিতে হৃদয়ে তোমার স্পর্শ পেয়েছি, অভিভূত হয়েছি, কিন্তু নিশ্চয় করে ত কিছুই বলতে
-
সতেরো বছর বয়সে প্রথম ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের “য়ূরোপ-প্রবাসীর পত্র” প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালে—বলা হয় সেই থেকে তাঁর ভ্রমণ সাহিত্যের শুরু। লক্ষণীয় কোনো উপন্যাস রচনার আগেই রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এক নাতিদীর্ঘ গ্রন্থে প্রকাশিত হয়—আরো দুবছর পর অর্থাৎ ১৮৮৩ সালে বেরোয় ‘বৌঠাকুরাণীর হাট’। কিন্তু যে সরল ও প্রাঞ্জল গদ্য ঐ সতেরো বছরের রবীন্দ্রনাথের হাত থেকে বেরিয়েছিল, তৎকালীন প্রচলিত গদ্যের মাপে শুধু হয়, আধুনিকতার যে কোনো মাপকাঠিতেই তা উৎকর্ষের একটি অনতিক্রম্য স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের ও গদ্য ভাষার যে ফর্মটি দেখা যায় তা “য়ূরোপ প্রবাসীর” গদ্যে প্রচ্ছন্ন, এবং বোধ করি তা থেকে উদ্ভূত। বস্তুত গদ্যশিল্পী রবীন্দ্রনাথকে সম্যকরূপে উপলব্ধি করতে হলে
-
বৈশাখে আমি বাংলাদেশে আসি এবং বাংলা একাডেমীর একটি সভা দিয়ে আমার এখানকার কার্যক্রম শুরু হয়। আবার বাংলা একাডেমীর সভা দিয়েই দেখছি আমার এখানকার কার্যক্রম শেষ হতে চলেছে। কাল সকালে আমার কলকাতায় ফিরে যাওয়ার কথা। বাংলা একাডেমীকে, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালককে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাবার এটাই উপযুক্ত মুহূর্ত। আপনারা যাঁরা আজকের এই সভায় উপস্থিত আছেন—তাঁদের সবাইকেও এই সঙ্গে আমার ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকের সভার বিষয় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক মহাশয় এইমাত্র আপনাদের জানিয়েছেন।
এমন একটি ব্যক্তি অথবা সত্তাকে যদি কল্পনা করা যায় তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বনির্ভর তবে তাঁর শিক্ষার কোনো প্রয়োজন নেই। শিক্ষার তাঁদের প্রয়োজন যারা সম্পূর্ণ নন। জন্মসূত্রেই সম্পূর্ণ এবং স্বনির্ভর কোনো সত্তার শিক্ষার
-
বৈশাখ মাস এলেই অনিবার্যভাবে রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে। রবীন্দ্রনাথ বৈশাখের রুদ্র রূপ দেখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ এক রুদ্র রূপের মধ্য দিয়ে বৈশাখকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বৈশাখ আসে মানুষের জীবনের সমস্ত জীর্ণতাকে উড়িয়ে নিতে। জীর্ণতা, অসদ্ভাব, অকল্যাণ এবং যে নির্যাতন মানুষের জীবনের মধ্যে প্রত্যহ গড়ে উঠেছে, সে নির্যাতন এবং অসদ্ভাবের বিরুদ্ধেই বৈশাখ তার কল্লোলিত রূপ নিয়ে আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়। সে কারণেই তিনি বলেছেন, যে রুদ্র বৈশাখ এখন এলো তার সঙ্গে আমি যদি সামঞ্জস্য বিধান নাও করতে পারি তাহলে আমাকে পথের এক প্রান্তে রেখে দাও, দাঁড়িয়ে আমি সমস্ত পৃথিবীর মানুষের চলাচল দেখবো, সমস্ত মানুষ যে পথে অনবরত অগ্রসর হচ্ছে, দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে
-
রবীন্দ্র-সাহিত্য মূলত বিশ্বের জিনিস, সে ভাবের জিনিস, কোনো ভাষার গণ্ডি, কোনো দেশের গণ্ডি তাকে সম্পূর্ণ বেঁধে ফেলতে পারে না—তার ভাব হতে রূপে আবার রূপ হতে ভাবে অবিরাম যাওয়া আসা। এ প্রসঙ্গেগীতাঞ্জলি’র ভূমিকায় কবি ইয়েটসের উক্তি স্মরণীয় : “রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের কবিতাবলীর গদ্যানুবাদ আমার রক্তে এমন দোলা দিয়েছে যা বহুকাল অনুভব করিনি। দিনের পর দিন এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি আমি সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছি—রেঁস্তোরা, বাস ও ট্রেনের কামরায় কবিতাগুলো পড়তে পড়তে আমি অনেক সময় পড়া বন্ধ করেছি, যাতে আমার ভাবাবেগ সহযাত্রীদের চোখে না পড়ে।... সমস্ত জীবনব্যাপী যে জগতের স্বপ্ন আমি দেখেছি কবিতাগুলো আমাকে সে রাজ্যে পৌঁছে দিয়েছে। এ কাব্য মহত্তর ঐতিহ্যের সৃষ্টি;
-
এক
রবীন্দ্রনাথ কবি, তবে তিনি আর দশজন কবির মতো কেবল কতিপয় দ্যুতিময় কবিতার নির্মাতা ছিলেন না। অর্থাৎ তাঁর কবিত্ব সীমাবদ্ধ থাকে নি কেবল কাব্য-নির্মাণ কলায়; নাট্য-সৃজন সংবেদনায়, গল্প-উপন্যাসের শিল্পিত রূপায়ণে, প্রবন্ধ রচনার প্রগাঢ় প্রজ্ঞায় কিংবা সঙ্গীত—গীতিনাট্যের সাংকেতিক সুর-মূর্ছনায়। তাঁর এ কবি-শক্তি সর্বানুভূমিতে যেমন দীপ্র, সর্বত্রচারিতায় তেমনি ঈর্ষণীয় ক্ষিপ্র। ‘ভূমা’র প্রবল আকর্ষণে তিনি আগ্রহী হয়েছিলেন ‘বিশ্ব পরিচয়ে’, সীমাবদ্ধকালের খণ্ডিত মানুষ তাই তাঁর অন্বিষ্ট ছিল না কদাচ, জীবনের খণ্ডাংশকে প্রতিফলিত করা তাঁর কবি-স্বভাব বিরোধী ছিল তাঁর আজন্ম সাধনায় তিনি সাক্ষাৎকার প্রার্থনা করেছেন সম্পূর্ণ স্বাধীন সত্তায় সমুজ্জ্বল মানুষের সার্বিক জীবনকে। এবং তাঁর কবি-প্রত্যয়ের কেন্দ্রীয় মানব-সত্তাকে চিত্রিত করতে গিয়ে অনিবার্যভাবে প্রতিবিম্বিত হয়েছে, মানুষের সমাজ-সভ্যতা,
-
নদী কিংবা প্রবহমান জলধারাকে নানারূপে ও প্রতীকে তুলে ধরার চেষ্টা বাংলাসাহিত্যে এক ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য। কবিতা, গান, ছোটগল্প ও উপন্যাসে একাধিক লেখকের হাতে নদী নানা ভূমিকায় উপস্থিত। রবীন্দ্রনাথসহ পরবর্তী যুগের আধুনিক কবিদের অনেকে এই বিশেষ দিকে তাঁদের মেধা ও সময় ব্যয় করেছেন। আধুনিকদের মধ্যে এ বিষয়ে কবি বিষ্ণু দে বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে।
নাম উল্লেখ না করে বলা যায় এদের মধ্যে কেউ চঞ্চলা জলস্রোতে গতির সৌন্দর্য বা বেগের আবেগ লক্ষ করে অভিভূত, কেউ উদাসী জলধারায় মল্লার বা টোড়ির বিষণ্ণতা অনুভব করেন। আবার কেউ নদীস্রোতের উজান-ভাটিতে জীবনের তাৎপর্যময় রূপ খুঁজে পান এবং সে ধারায় ভেসে সচ্ছল জীবনের উন্মুক্ত পত্তনে পৌঁছাতে চান। অন্য
-
এক
১৩৪৮ সালের ২২শে শ্রাবণ রাত্রে রবীন্দ্রনাথের প্রজ্বলিত মরদেহের সামনে দুঃখছিন্ন আরেক বয়ঃকনিষ্ঠ কবি গভীর বেদনায় বলে উঠেছিলেন, এই একটি লোকের চলে যাওয়ায় এখন থেকে সব পাল্টে গেল। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের প্রায়-দৈবী সেই উচ্চারণের যাথার্থ্য যত দিন গেছে তত বেশি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে। মৃত্যু যখন জীবন থেকে ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেয় তখন শূন্যতা নেমে আসে হয়তো এক বা একাধিক ব্যক্তির জীবনে, হয়তো-বা একটি কি দুটি পরিবারে। সেই ফাঁকটুকু ধীরে ধীরে ভরে দেয় সময়। জীবন নিরবধি বয়ে চলে, মৃত্যু ক্রমশ দূরস্মৃতি হয়ে থেকে যায়। বকরূপী রাক্ষস যুধিষ্ঠিরের নিকট যখন সপ্ত পরমাশ্চর্যের ধাঁধা ধরেছিলেন তখন ধর্মপুত্র একটি উত্তরে বলেছিলেন, ‘এক পরমাশ্চর্য হলো এই যে,
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন (১)
- অম্লান দত্ত (১)
- আনিসুজ্জামান (২)
- আনোয়ারা বেগম (১)
- আবদুল মান্নান সৈয়দ (১)
- আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন (১)
- আবু মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১)
- আহমদ রফিক (১)
- উজ্জ্বলকুমার মজুমদার (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (২)
- কাজী মোতাহার হোসেন (১)
- নরেন বিশ্বাস (১)
- নলিনীকান্ত ভট্টাশালী (১)
- নিবারণ পণ্ডিত (১)
- নৃপেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় (১)
- প্রক্রিয়াধীন (২)
- প্রবোধচন্দ্র সেন (২)
- মনসুর মুসা (১)
- মযহারুল ইসলাম (১)
- লক্ষ্মীনারায়ণ রায় (১)
- সন্জীদা খাতুন (১)
- সৈয়দ আকরম হোসেন (১)
- সৈয়দ আলী আহসান (১)
- সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (১)
- সোমেন বসু (১)
- হায়াৎ মামুদ (১)
- হাসান মুরশিদ (৩)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.