ইসলাম যেভাবে নিজ পথ থেকে সরে গেছে
ভবিষ্যতের ঐতিহাসিকরা যাকে ‘সন্ত্রাসের শতাব্দী’ বলে আখ্যায়িত করতে পারেন তার একটা রূপরেখা তৈরি করতে হলে আমাদেরকে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী একগুঁয়েমী ও ইসলামিক ধর্মীয় মতান্ধতার মতো বিপদজনক উভয়-সঙ্কটের গতিপথ নির্দ্ধারণ করতে হবে। এই জটিল ঘটনাস্রোতের মধ্যে যত্নের সঙ্গে পথ করে আমাদের এগুতে হবে একটি যুক্তিশীল, গণতান্ত্রিক, মানবতাবাদী ও সেক্যুলার ভবিষ্যতের দিকে। তা না হলে জাহাজের দুর্ঘটনা ও ধ্বংস অনিবার্য।
প্রায় চার মাস হতে চলল যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কম্যুনিটির নেতৃবৃন্দ এবং এমনকি প্রেসিডেন্ট বুশ পর্যন্ত রুটিন মাফিক জোরালো ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন যে ‘ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম—১১ সেপ্টেম্বর ধর্মান্ধরা তাকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে।’
এই দুই দাবীই অসত্য।
প্রথমত খ্রিষ্ট, ইহুদি, হিন্দু বা যে কোনো ধর্মের মতোই ইসলামও শান্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয় না। যুদ্ধ সংক্রান্ত ব্যাপারও না। প্রত্যেক ধর্মের মূলকথাই হল এর নিজস্ব শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে পরিপূর্ণ বিশ্বাস এবং সত্য সম্পর্কে স্বকীয় ভাষ্যকে অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেবার স্বর্গীয় অধিকার। মধ্যযুগে ক্রুসেড ও জিহাদ দুই-ই রক্তে ভিজে গেছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে সব খ্রিষ্টান মৌলবাদী রয়েছে তারা গর্ভপাত বিষয়ক ক্লিনিকে আক্রমণ করছে এবং ডাক্তারদের হত্যা করছে; মুসলিম মৌলবাদীরা তাদের ধর্মের নানা তরিকার মধ্যে পারস্পরিক যুদ্ধ ঘোষণা করছে; ইহুদি দখলদার অভিবাসীরা এক হাতে ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং কখনও অন্য হাতে ইসরাইলি সাবমেশিনগান উজিস (Uzis) তুলে ধরে জলপাই বাগান পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং প্যালেস্টাইনিদের তাদের পৈতৃকভূমি থেকে উচ্ছেদ করছে, এবং ভারতে হিন্দুরা প্রাচীন মসজিদ ধ্বংস ও গীর্জা ভস্মীভূত করছে।
দ্বিতীয় দাবীটি সত্য থেকে আরো দূরবর্তী। যদি কিছুটা প্রতীকী অর্থে ধরে নিই যে ইসলাম সত্যিই ছিনতাই হয়ে গিয়েছে তাহলে সে ঘটনাতো মাত্র তিনমাস আগে ঘটে নি। সাতশ বছরের বেশ আগে ইসলাম এক গুরুতর আঘাতের মুখে পড়ে এবং তার প্রভাব আর দূরীভূত হয় নি।
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থান কোথায়? লক্ষ্য করুন, আমি ইসলাম সম্পর্কে এ প্রশ্ন করছি না; কারণ ইসলাম একটা বিমূর্ত ব্যাপার। পাকিস্তানের অগ্রগণ্য সমাজকর্মী মওলানা আবদুস সাত্তার ইদাই এবং তালিবানের মোহাম্মদ ওমর দুজনই ইসলামের অনুসারী, কিন্তু আগের জনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ায় ব্যাপারটি অনেক আগেই ন্যায্য হয়ে গেছে; অন্য দিকে পরের জন অজ্ঞ, মানসিক রোগগ্রস্থ এক নিষ্ঠুর লোক। অন্যান্যের মধ্যে প্যালেস্টাইনের লেখক এডওয়ার্ড সাইদ বেশ জোরালোভাবে দেখিয়েছেন যে, বিভিন্ন লোকের জন্য ইসলাম ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। আমার নিজের পরিবারের মধ্যেই ব্যাপক ভিন্নতাধর্মী ইসলামের অনুশীলন করা হয়। এ ধর্মে বিশ্বাসী এবং এর অনুসরণকারীরা যেমন বহু বিচিত্র, এ ধর্মটিও তাই। সত্যিকার ইসলাম বলে আলাদা করে কিছু নাই।
বর্তমানে মুসলমানের সংখ্যা একশ কোটি। পুরো বা কাছাকাছিই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্পন্ন ৪৮টি দেশের কোনটিই এখন পর্যন্ত টেকসই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করে নি। প্রকৃতপক্ষে সকল মুসলিম রাষ্ট্রেই আত্মস্বার্থ সেবক দুর্নীতিবাজ আভিজাতদের আধিপত্য; এরা নিরাশা তাড়িত হয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং জনগণের সম্পদ চুরি করে। এসব দেশের কোনটিতেই সুস্থিত শিক্ষাপদ্ধতি অথবা আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন একটি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।
যুক্তিবিচারকেও আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে।
আপনি কোনো বিজ্ঞান-বিষয়ক জার্নালে চোখ বুলালে কদাচিৎ কোনো মুসলিম নাম দেখবেন। যদি দেখেন তাহলে তাঁর পশ্চিমের কোন দেশে বাস করারই সম্ভাবনা। এর অল্পকটি ব্যতিক্রম আছে, পাকিস্তানের আবদুস সালাম এবং আমেরিকান স্টেভেন ইউনবার্গ ও শেলডন গ্লাসহাও একত্রে ১৯৭৯-এ নোবেল পুরস্কার পান। আমি সালামকে যথেষ্ট ভাল করেই জানতাম, আমরা এমনকি একসঙ্গে একটা বইয়ের ভূমিকাও লিখেছি। তিনি একজন অসামান্য লোক ছিলেন। নিজ দেশ ও ধর্মের প্রতি তাঁর ভালবাসা ছিলো প্রগাঢ়। তবু তিনি প্রচণ্ড দুঃখ নিয়ে মারা গেছেন, কারণ পাকিস্তান তাঁকে অবজ্ঞা করেছে এবং ১৯৭৪ সালে পার্লামেন্টের এক আইনে তাঁকে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments