ইতিহাসের দৃষ্টিতে ঢাকা
শুভ স্মরণ। ঢাকা আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পূর্বে কেমন ছিল? এখানকার জনসাধারণের সমাজ কি ছিল, সভ্যতা সংস্কৃতির অবস্থা কী রূপ ছিল, শিক্ষা-দীক্ষার স্বরূপই বা কেমন ছিল? কোন্ কোন্ বিদ্যা ও শিল্পকলার অনুশীলন হতো? কী ধরনের বসবাস ছিল? সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকেরা কি করত? বিয়ে-শাদীতে কী কী আনুষ্ঠানিকতার প্রচলন ছিল? দুঃখ-শোক কিভাবে পালন করা হতো? মেলা-পার্বণে কি হতো? নিমন্ত্রণে কী ধরনের বাড়াবাড়ি ছিল? এখানকার প্রতিভাবান এবং শৌখিন অধিবাসীরা পোশাক পরিচ্ছদে কী কী কাটছাট সৃষ্টি করেছিল? ঢাকা নিজস্ব কোন্ শিল্পজাত দ্রব্যের জন্য সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত ছিল? অর্থাৎ সেই ঢাকা যা হিন্দুস্থানে প্রাচ্য তাহজীব তমদ্দুনের সর্বশেষ লালন ক্ষেত্র ছিল এবং এক পর্যায় পর্যন্ত আজও আছে। এ সম্পর্কে কিছু শোনার আগে ঢাকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং বাসিন্দাদের সম্পর্কে মোটামুটিভাবে জেনে নেয়া উচিৎ।
ঢাকা হিন্দু শাসনামলেও জনবসতিপূর্ণ ছিল কিন্তু তৎকালীন ইতিহাস তমসাচ্ছন্ন। বাস্তব এই যে, বখতিয়ার খিলজীর' বঙ্গ বিজয়ের অনেক আগেই মুসলমানদের এখানে আগমন ঘটেছিল এবং তাঁদের নতুন বসতি গড়ে উঠেছিল। মুসলিম শাসনের প্রাথমিক পর্যায়েও যাকে আফগানী (পাঠান) শাসন বলা হয়ে থাকে, যেখানে তুর্কি, পাঠান, সৈয়দ এবং স্থানীয় নওমুসলিম সুলতানগণ শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন; আমরা ঢাকাকে জনবসতিপূর্ণ-দেখি। মোগল যুগে, যার প্রারম্ভ আকবরের অথবা সত্যিকার অর্থে জাহাঙ্গীরের সময়ে হয়েছে, দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঢাকা 'জাহাঙ্গীর নগর' নামে রাজধানী ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকালেও ঢাকা কখনো নামহীন থাকেনি। কেননা ঢাকা বাংলার নায়েব নাযিমদের অবস্থান ক্ষেত্র ছিল। এ জন্য এটা বলা প্রয়োজন যে, কোন্ কোন্ সময়ে এই বিশাল ঢাকার কোন্দিকে কতটা বিস্তার বা সংকোচন ঘটে। যেন পাঠানদের ঢাকা থেকে মোগলদের ঢাকা এবং মোগলদের থেকে কোম্পানি আমলের ঢাকাকে এবং এই পুরাতন ঢাকা থেকে আজকার নতুন ঢাকাকে পৃথক করা যায়।
বর্তমান ঢাকার সীমানা এমন যে, দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী, উত্তরে রমনার পর ময়মনসিংহের চৌরাস্তা, পশ্চিমে বুড়িগঙ্গার প্রাচীন ধারা এবং নূরপুর মহল্লা ইত্যাদি এবং পূর্বে আলমগঞ্জ, ফরিদাবাদ, গেণ্ডারিয়া অতিক্রম করে সম্মুখদিকে অর্থাৎ পূর্বদিকে সম্প্রসারিত। এই চতুঃসীমার মধ্যবর্তী জায়গায় অনেক উঁচু নিচু ধরনের জমি রয়েছে। নগরীর পশ্চিম অংশ এবং মধ্য শহরের পূর্বাংশ নিচু এবং কোথাও কোথাও বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যায়।
আগে শহরের মধ্যে একটি নালা বা খাল প্রবাহিত ছিল অর্থাৎ দোলাই খাল, যা পূর্বে দোলাই নদী' বলা হতো। এটিই ঢাকার পূর্ব প্রান্তসীমা ছিল। এই খালের এক অংশ শহরের মধ্যে এখনকার ইংলিশ রোড পর্যন্ত প্রবাহিত ছিল। এ পর্যন্ত এই খাল যথেষ্ট প্রশস্ত ছিল এবং প্রকৃতই নদীর মতোই দেখায়। এরপর কোথাও চওড়া কোথাও সরু হয়ে বংশাল, নাজিরা বাজার, মিরনের জল্লা, সিক্কাটুলী, আমানাত খানের দেউড়ি হয়ে চাঁদ খানের পুলের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হোসেনী দালানের পূর্বে গিরদে কিল্লা এবং চুরিহাট্টার পিছন দিক হয়ে রহমতগঞ্জের শেষে পশ্চিম সীমায় বুড়িগঙ্গায় পড়ত। কিন্তু এখন চাঁদখার পুলের পরে যে গমন পথ ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে এবং সেই খালের সব চিহ্নই লুপ্ত হয়ে গেছে। বুড়িগঙ্গা এবং উক্ত খালের মধ্যবর্তী অঞ্চল পুরাতন শহর বা পাঠানদের ঢাকা। কেননা এই অংশে সমস্ত পাঠানী স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। যেমন এই খালের পশ্চিম তীরে ৮৬১ হিজরিতে তৈরি (১৪৫৫ খ্রি.) বিনত বিবির মসজিদ রয়েছে। সুখের বিষয় সেখানে আজও নামাজ পড়া হয়। এই অংশেই মিরনের নালা-এর পাশে হজরত শাহজালাল দক্ষিণীর মাজার বিদ্যমান এবং এটা জানা আছে যে হজরত শাহজালাল দক্ষিণীর' শাহাদাত ইউসুফ শাহের (বাংলার সুলতান) সময়ে তার কর্মচারীদের হাতে ৮৮১ হিজরিতে সংঘটিত হয়। এই অংশে পশ্চিম-প্রান্ত-সংলগ্ন খ্রিস্টান গলিতে ৮৬৩ হিজরির তৈরি একটা খুব বড় মসজিদ ছিল, যা ১৮৯৭ খ্রি. এর ভূমিকম্পে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments