লাইম গাছটি আর অতিলোভী বুড়ির কাহিনী

এক-যে ছিল বুড়ো আর বুড়ি। বড়ো গরিব তারা। বুড়ি একদিন বললে: ‘তুমি বুড়ো বনে গিয়ে কিছু লাইম কাঠ কেটে আনলেও তো পার। আঁচ দেবার মতো তো কিছু থাকবে।’

বুড়ো বললে, ‘বেশ।’ কুড়ুল নিয়ে চলে গেল বনে।

বুড়ো তো এল বনে। একটা লাইম গাছ বেছে নিয়ে কাটবার জন্যে যেই কুড়ল হাঁকিয়েছে, হঠাৎ শোনে মানুষের ভাষায় লাইম বলছে: ‘হেই গো, ভালো মানুষ, কেটো না আমায়, তোমার বিপদে কাজে লাগব।’

ভয়ে বুড়োর হাত থেকে কুড়ুল খসে পড়ল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবল কিছুক্ষণ, তারপর ফিরে গেল বাড়ি।

বাড়ি এসে বললে কী ঘটেছিল। বুড়ি কিন্তু বলে: ‘আহ্ কী বোকা তুমি? এক্ষুনি লাইম গাছের কাছে গিয়ে বলো একটা ঘোড়া আর তার সঙ্গে গাড়ি দিতে। তোমার আমার পায়ে হেঁটে আসা যাওয়া অনেক হল বাপু।’

‘তা বলছ যখন, বেশ,’ এই বলে বুড়ো টুপিটি মাথায় দিয়ে চলে গেল।

লাইম গাছের কাছে এসে বললে: ‘লাইম, ও লাইম, বুড়ি হুকুম করেছে তুমি যেন আমাদের একটা ঘোড়া আর সেইসঙ্গে গাড়ি দাও।’

লাইম গাছটি বললে, ‘ঠিক আছে, বাড়ি যাও।’

বাড়ি ফিরল বুড়ো, কুঁড়ের কাছে গাড়ি দাঁড়িয়ে, তাতে জোতা ঘোড়া।

বুড়ি বললে, ‘দেখছ তো বুড়ো, এখন আমাদের মনিষ্যি বলা চলে। শুধু আমাদের কুঁড়েটা ভেঙে পড়ো-পড়ো। যাও বুড়ো, একটা বাড়িও চেয়ে নাও ওর কাছে। হয়ত দেবে।’

লাইম গাছের কাছে গেল বুড়ো, চাইল একটা বাড়ি।

লাইম গাছটি বললে, ‘ঠিক আছে, বাড়ি যাও।’

বাড়ি এল বুড়ো, চিনতে আর পারে না। পুরনো কুঁড়ের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে নতুন, দেখনসই এক কোঠাবাড়ি। ছেলেমানুষের মতো আনন্দ তাদের।

‘তা বুড়ো, আরো কিছু গরুবাছুর হাঁসমুরগি চাইলে পার, তাহলে আর কিছু আমাদের লাগবে না।’

লাইম গাছটির কাছে গিয়ে বুড়ো গরুবাছুরও চাইল।

‘ঠিক আছে,’ লাইম গাছটি বললে। ‘বাড়ি যাও।’

বাড়ি এল বুড়ো, আনন্দ আর ধরে না, গরুবাছুর, হাঁসমুরগিতে আঙিনা ভরা।

বুড়ো বললে, ‘হ্যাঁ, এবার আর আমাদের আর কিছুর দরকার নেই।’

‘না বুড়ো, যাও গো, গিয়ে টাকাও চেয়ে নাও।’

লাইম গাছটির কাছে গিয়ে বুড়ো টাকাও চাইল।

‘ঠিক আছে,’ লাইম গাছটি বললে, ‘বাড়ি যাও।’

বাড়ি এল বুড়ো, বুড়ি ওদিকে টেবিলের সামনে বসে মোহর গাদি করছে।

বুড়ি বললে, ‘হ্যাঁ, এই তো বুড়ো, এখন আমরা বেশ বড়োলোক! তবে এতেও হয় না, লোকে আমাদের যাতে ভয় পায়, সেটাও দরকার, আমরা তো এখন ধনী! লাইম গাছের কাছে যাও বুড়ো, বলো গে, এমন যেন করে দেয় লোকে যাতে ভয় পায় আমাদের।’

লাইম গাছটির কাছে গেল বুড়ো, চাইলে যেন ওইরকমটাই হয়।

‘ঠিক আছে,’ বললে লাইম গাছটি। ‘বাড়ি যাও।’

বাড়ি এল বুড়ো, সেপাই লশকর গিজগিজ করছে সেখানে, পাহারা দিচ্ছে তাদের। কিন্তু এতেও বুড়ির মন ওঠে না।

বললে, ‘তা বুড়ো, এবার দরকার গাঁয়ের সব লোক যেন আমাদের ক্ষেতমজুর হয়, আর কিছু আমাদের তো এখন চাইবার নেই, সবই আছে আমাদের।’

গেল বুড়ো লাইম গাছটির কাছে, চাইল যেন ওইরকমটাই সে করে দেয়। অনেকখন চুপ করে রইল লাইম গাছটি। শেষে বললে, ‘বাড়ি যাও, তোমাদের শেষ ইচ্ছেও পুরণ করব।’

বাড়ি এল বুড়ো, দেখে কিছুই নেই, দাঁড়িয়ে আছে সেই পুরনো কুঁড়েটা, তার কাছে বুড়ি। অতিলোভী বুড়ির ইচ্ছে হয়েছিল সব লোককে ক্ষেতমজুর করবে, এই তার শাস্তি।

ইউক্রেনের লোককথা, Ukrainian Folk Tales, সংকলক: ভ্লাদিমির বইকো (ভাষাবিদ্যার ডক্টর), মূল রুশ থেকে অনুবাদ: ননী ভৌমিক, শিল্পী: ব্লাদিমির গর্দিচুক, রাদুগা প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৮৮

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice