আনিসুজ্জামানের কৃতি ও কীর্তি
লেখক: আহমদ কবির
আনিসুজ্জামান বাংলা বিদ্যাভুবনের এক বিরাট ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বলতম ছাত্র। মুহম্মদ শহীদুল্লাহর স্নেহধন্য তিনি। মুহম্মদ আবদুল হাই, মুনীর চৌধুরী, আহমদ শরীফ, সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখ বিখ্যাত শিক্ষকেরা সবাই একবাক্যে বলে গেছেন তাঁদের সেরা ছাত্রটি হলেন আনিসুজ্জামান। তাঁর শিক্ষক ডক্টর কাজী দীন মুহম্মদেরও একই কথা। আনিসুজ্জামানের ছাত্রত্বের অবসান হয়েছে পঞ্চাশ বছর আগে। তারপর তিনি নিজেও হাজার হাজার ছাত্রের জন্ম দিয়েছেন, ঐ ছাত্ররা আবার তাদের ছাত্র গড়েছে। আসলে আনিসুজ্জামান কয়েক প্রজন্মের শিক্ষক। তিনি এখনও শিক্ষকতা করছেন এবং নিশ্চয়ই আজীবন তাঁর শিক্ষকতার অবসান হবে না। কেবল পরীক্ষার ফলে নয়, বিদ্যাবত্তা, পাণ্ডিত্য ও গবেষণার জন্য তরুণ বয়স থেকেই আনিসুজ্জামানের খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলা বিভাগকে বিভাগের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এই স্বর্ণযুগের ফসল আরও অনেকে, কিন্তু আনিসুজ্জামান যে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন সেটি উত্তরকালে তাঁর মেধার বিকাশ ও কর্মে সুফলের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। দিনে দিনে আনিসুজ্জামানের খ্যাতির মহিমা ব্যাপ্ত হয়েছে। এবং তা দেশের সীমাও অতিক্রম করেছে। আনিসুজ্জামান পৃথিবীর বহু দেশের সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিদ্বৎ সভায় যোগ্যভাবে স্বদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং সব জায়গায় তাঁর বিদ্যাবত্তার স্বাক্ষর রেখেছেন। সুতরাং, কেবল বাংলাভাষী অঞ্চলে সুপন্ডিত হিসেবে তাঁর পরিচিতি নয়, বাইরের জগতেও।
আনিসুজ্জামান উত্তম গবেষক এবং মননশীল লেখক। তাঁর মননচর্চা বাংলাবিদ্যাকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি বাংলাদেশের পটভূমিতে মানববিদ্যা ও সমাজবিদ্যার নানা প্রান্তকে উজ্জ্বল করেছে। সাহিত্য, ভাষা, শিক্ষা, দেশ, জাতি, সম্প্রদায়, সংস্কৃতি, ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি নানা বিষয়ে তাঁর প্রচুর লেখা আছে, ইংরেজি ভাষায়ও। এগুলো ছাড়া আলোচনা, সমালোচনা, ভাষ্য পরিচিতি, সম্পাদনা, ভূমিকা লিখন ইত্যাদি মিলিয়ে তাঁর কাজের পরিমাণ ব্যাপক। একসময় তিনি কিছু গল্পও লিখেছেন এবং দুটি বিদেশী নাটকের রূপান্তরও করেছেন। কিন্তু গবেষণা ও প্রবন্ধ রচনায় তিনি আনন্দ পেলেন বেশি। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ ও তাদের সাংস্কৃতিক অভিপ্রায় এবং তাদের স্বরূপ অনুসন্ধান তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মূল প্রসঙ্গ। ছাত্রাবস্থা থেকে এই প্রসঙ্গগুলো নিয়ে ভাবছিলেন। পরে নানা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্রে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঐ প্রসঙ্গগুলোর তাৎপর্য ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। আনিসুজ্জামান বাংলাদেশের স্বাধীনতার যোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রবাসী সরকারের কাজ করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের বাংলা ভাষ্যের প্রণেতাও তিনি। দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কার্যক্রমের সঙ্গে আনিসুজ্জামানের সম্পৃক্ততা সবসময়ই রয়েছে। আনিসুজ্জামান বাংলাদেশের সম্মানিত বুদ্ধিজীবী; ব্যস্ততম বুদ্ধিজীবীও। প্রায় সব প্রগতিপন্থী ও মানববাদী সাহিত্য প্রতিষ্ঠান, সংঘ, সমিতির সভায় বিংবা সাংস্কৃতিক সম্মেলনে আনিসুজ্জামানের পৌরোহিত্য একটি নিয়মিত ব্যাপার। তাঁকে ছাড়া সভা-সমিতি যেন সচলই হতে চায় না, গুরুতর আলোচনা-সভা বা রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সভা যে ধরনেরই হোক না কেন। অন্যদিকে বইমেলা, গ্রন্থপ্রকাশ, পুস্তকের মোড়ক উন্মোচন, চিত্র প্রদর্শনী, সংগীত জলসা, আনন্দ সম্মিলন, বরণসভা, স্মরণ সভা ইত্যাদি সংস্কৃতিমনা শহুরে মধ্যবিত্ত বাঙালির যত ধরনের আয়োজন রয়েছে সবটাতেই আনিসুজ্জামানের উপস্থিতি বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতারও প্রমাণ। আনিসুজ্জামান অজাতশত্রু কিনা তা ভেবে নেওয়া যেতে পারে, যদিও অনেকে তা বলেন, কিন্তু পক্ষ-বিপক্ষ শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সকলের কাছে যে তিনি প্রিয় সেটি তাঁর প্রতি তাদের প্রসন্নতা দেখে বোঝা যায়। আনিসুজ্জামানের এই অবস্থান তৈরি করেছে তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞানবুদ্ধি বিনম্র বৈদগ্ধা, স্বভাব-মাধুর্য ও সুশোভন আচরণ। রুষ্টতা তাঁর স্বভাবে একেবারেই নেই; সকলকে প্রিয়ভাষণে আমোদিত করেন এবং মন্দের মধ্যেও তিনি গুণ খোজেন। খুব সামাজিক মানুষ তিনি, প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সকলের খোঁজ খবর নেন এবং অনুষ্ঠানাদিতে যোগ দেন। সাধারণ পায়জামা-পাঞ্জাবি ও স্যান্ডেল পরা এবং সম্পূর্ণ আধুনিক রুচির ও মনমানসের সৌম্যদর্শন আনিসুজ্জামান সকলের প্রিয় মানুষ। ছাত্র ও ভক্তজনের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments