সাপ
‘নেড় গার্লানের উত্তরাধিকারী’—পরিচিত লোকেরা ঠাট্টা করে ওদের এই আখ্যাই দিয়েছিল—ছিল সাতজন অল্পবয়সী ছাত্রছাত্রী, গার্লানেরই দেওয়া একটা মোটরবোটের যৌথ মালিক। গার্লান ক্ষয়রোগে সুইজারল্যাণ্ডে দেহত্যাগ করে।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি ‘উত্তরাধিকারীদের’ প্রথম ভ্রমণ শুরু হল। তারা বন্য জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে স্নার্ক হ্রদের তীরের দিকে যাত্রা করল।
অষ্টম একজন ব্যক্তি আমন্ত্রিত হয়েছিল—কোলবেয়র। যে ক’টি মেয়ে এই ভ্রমণে চলেছে তাদেরই একজন—জয় টেভিসের প্রতি কোলবেয়রের অসুখী প্রেম এক বছর আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং প্রায়ই মন্তব্যের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ষোল বছর বয়স থেকে শুরু করে আজ অবধি জয় টেভিস একের পর এক ক্ষত সৃষ্টি করে গেছে, কিন্তু যেহেতু ক্ষত নিরাময়ের ক্ষমতা কিংবা ইচ্ছেও তার ছিল না সেই হেতু চিকিৎসকের সহায়তা ছাড়াই সেগুলি বেশ তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। কোলবেয়র কিন্তু অন্যদের তুলনায় বেশ মারাত্মক রকমের জখম হয়, আর এ ব্যাপারটা সে গোপনও করত না।
সে জয়কে তিন বার তার প্রস্তাব নিবেদন করে; প্রথমে হাসির উদ্রেক করে, পরে প্রকাশ পায় ‘বন্ধু’ হিসেবে গ্রহণের ইচ্ছা এবং অবশেষে খোলাখুলি বিরক্তি। তাকে জয়ের ভালো লাগে নি। সিরিয়াস স্বভাবের যে-সমস্ত লোক একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এবং যারা প্রেমে পড়ে উদাস উদাস হয়ে যায় তাদের সে ভয় করত। এ রকম অতি সংযত প্রকৃতির কোন লোক তার স্বামী হতে পারে একমাত্র এই চিন্তাই অদৃষ্টগোচর জোরাজুরির কথা ভেবে তাকে প্রবল উত্তেজিত প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলা।
কিন্তু কোলবেয়র নাছোড়বান্দা ধরনের ছিল না, জয়ও তাকে এড়িয়ে চলত না, প্রথমেই তার কাছ থেকে কথা আদায় করে দিয়েছিল যে সে তাকে আর প্রস্তাব নিবেদন করবে না। কোলবেয়র তার কথা মেনে নিল এবং এমন আচরণ করতে লাগল যেন কখনই ‘জয়, আমার স্ত্রী হও!’ এই সাধারণ কথাগুলি বলে তাকে ঘাঁটায় নি।
‘বন্য জীবনের’ তৃতীয় দিন বনের ভেতরে যাবার বাসনা জয়ের হল, সে কোলবেয়রকে তার সঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ জানাল; তার মনে এরকম একটা ক্ষীণ আশা ছিল যে আর প্রস্তাব নিবেদন না করার যে প্রস্তরকঠিন প্রতিশ্রুতি কোলবেয়র দিয়েছিল এর ফলে তা ভঙ্গ করার একটা অজুহাত সে পাবে। আজ তিন মাস হল একটি ভালোবাসার কথা কেউ তাকে বলে নি। তার ইচ্ছে হচ্ছিল এমন কোন ছোটখাটো ঘটনা ঘটে যা প্রেমেরই মতো, অথচ ক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিরাপদ মনোভাবের উদ্রেক করে। কোলবেয়র যখন পেছন পেছন চলতে লাগল তখন জয়ের মনে হচ্ছিল পেছন থেকে যেন একটা পতনোন্মুখ দেয়াল ভয়ে ভয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। উপযুক্ত মূহুর্তটি আঁচ করে এক পাশে সরে দাঁড়ালেই হল—দেয়াল ভেঙে পড়বে ফাঁকা জায়গার ওপর।
তারা বনের ভেতরে এক ফাঁকা জায়গায় বেরিয়ে এলো। সেখানে লম্বা লম্বা ঘাস, আর ইতস্তত ছড়িয়ে আছে পাথর। তারা দুজনে পাথরের ওপর গিয়ে বসল, ভাবতে লাগল যার যার নিজের ভাবনা।
কোলবেয়র মন্তব্য করল যে খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে ফেরা দরকার।
“আমাদের সম্পর্ক যে সাধারণ সম্পর্ক হয়েছে, এতে কি আপনি খুশি?” খানিকক্ষণ চুপচাপ থাকার পর জয় বলল।
“আমার মনে হয় এই প্রশ্ন আর উঠতে পারে না,” কোলবেয়র সন্তর্পণে জবাব দিল, সঙ্গত কারণেই এর মধ্যে একটা প্যাঁচ আছে বলে সে মনে মনে সন্দেহ করল। “আমি কথা দিয়েছি। অবশ্য, যদি…”
“না,” জয় তার কথা শেষ না করতে দিয়ে বলে উঠল, “আমি আপনাকে আগেই বারণ করে দিয়েছি, আর আপনিও কথা দিয়েছেন। আপনি কি আপনার প্রতিশ্রুতি ভাঙ্গতে চান?”
“মরে গেলেও না,” কোলবেয়র প্রত্যুত্তরে গম্ভীর ভাবে বলল, “যে প্রতিশ্রুতি আপনাকে আমি দিয়েছি তা ভাঙ্গছি না। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।”
জয় বিরক্ত হয়ে তার দিকে তাকাল। কোলবেয়র বসে বসে এমন বিনীত
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments