- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
নাইটিঙেল পাখির কথা
চীন-সম্রাটের প্রাসাদের মতো চমৎকার প্রাসাদ পৃথিবীতে আর একটিও ছিল না। আগাগোড়া মিহি চীনে-মাটির তৈরি, এমনি পাতলা যে, এতটুকু ছুঁলেই বুঝি ভেঙে পড়ে!
বাগানে ছিল দুনিয়ার যত সেরা ফুল। সব চাইতে সুন্দর ফুলগুলোর গায়ে আবার ছোটো-ছোটো রুপোর ঘুন্টি বাঁধা থাকত, তার টুং-টাং শব্দ কানে গেলে ফুলের দিকে একবার না চেয়ে পাশ দিয়ে কারো যাবার উপায় ছিল না। বাস্তবিকই চীন সম্রাটের বাগানের সব কিছু সাজান, গোছান নিখুঁত। তার উপর এত বড়ো বাগান যে মালীরাও জানত না কোথায় তার শেষ। কিন্তু কেউ যদি হাঁটতে হাঁটতে বাগানের সীমানা ছাড়িয়ে যেত, দেখতে পেত তার পরে ঘন বন, তার গাছগুলি কি উঁচু আর তার পরেই সমুদ্র। বন একেবারে সাগরতীর অবধি নেমে গেছিল, সে সাগরের জল কি গভীর, কি ঘন নীল! বড়ো-বড়ো জাহাজগুলি বনের গাছতলার কাছ ঘেঁষে ভেসে যেত। গাছের ডালপালার মধ্যে একটি নাইটিঙেল পাখি থাকত। সে পাখি এমনি মধুর সুরে গান গাইত যে রাতে যখন জেলেরা মাছ ধরার জাল নিয়ে বেরুত, সে সুরের রেশ কানে গেলেই, হাজার কাজ ফেলে তারা চুপ করে দাঁড়িয়ে গান শুনত।
পৃথিবীর সব দেশ থেকে ভ্রমণকারীরা সম্রাটের রাজধানীতে আসত, শহর, প্রাসাদ, বাগান, যা দেখত তারই সুখ্যাতি করত। কিন্তু যেই না তারা নাইটিঙেল পাখির গান শুনত, অমনি সবাই একবাক্যে বলত, "এই হল সবার সেরা জিনিস।" দেশে ফিরে গিয়ে তারা ঐ পাখির গল্প করত আর যে-সমস্ত পণ্ডিতরা শহর, প্রাসাদ, বাগানের গুণগান করে বই লিখত, তারাও বলত ঐ পাখির কোনো তুলনা নেই। সাগরতীরের সেই বনের নাইটিঙেল পাখির বিষয়ে কবিরা সব অপূর্ব কবিতা রচনা করত।
সে-সব বই পৃথিবীর সব দেশে যেত; এমনি করে একটি বই একবার চীন সম্রাটের হাতেও এল। সম্রাট সে বই পড়ছেন তো পড়ছেন-ই, পড়ছেন আর ঘন ঘন মাথা নাড়ছেন। বইতে তাঁর শহরের, প্রাসাদের, বাগানের যা উচ্ছসিত প্রশংসা, সম্রাট পড়ে আহলাদে আটখানা। কিন্তু শেষের দিকে একটি কথা পড়ে তিনি তো অবাক! বইতে লিখেছে, 'কিন্তু সেখানকার সব. জিনিসের সেরা জিনিস হল ঐ নাইটিঙেল পাখি।'
সম্রাট বললেন, "এ আবার কি মাথা-মুণ্ডু লিখেছে! নাইটিঙেল আবার কি? এমন কথা তো শুনিও নি, জানিও নি! আমার সাম্রাজ্যে-শুধু তাই কেন, আমারই বাগানে—এমন পাখি আছে, অথচ আমি সে কথা কখনো শুনি নি! বাস্তবিকই বই পড়ে কিছু কিছু শেখা যায়!”
অতএব প্রধানমন্ত্রীর ডাক পড়ল। তিনি এমনি হোমরা-চোমরা ব্যক্তিবিশেষ যে, সাধারণ লোকে তাঁর সঙ্গে কথাই বলতে পেত না। যদি-বা সাহস করে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করত, তাঁর একমাত্র উত্তর ছিল, "দুঃস্!” তাকে তো আর কিছু উত্তর বলা চলে না।
সম্রাট বললেন, "শুনছি নাকি এখানে নাইটিঙেল নামে এক আশ্চর্য পাখি আছে; আমার গোটা সাম্রাজ্যে তার গানের মতো মূল্যবান জিনিস নাকি আর কিছু নেই! তার কথা আমাকে বলা হয় নি কেন?"
প্রধানমন্ত্রী তো অবাক! “সে কি কথা! আমি তো কস্মিন্ কালে তার নামও শুনিনি; সে তো কখনো রাজসভায় হাজিরা দেয় নি যে জানব।"
সম্রাট বললেন, "আমার ইচ্ছা আজ সন্ধ্যাবেলায় সে আমার কাছে এসে গান শোনাক! আমার কি আছে না আছে সারা পৃথিবীর লোকে জানে, অথচ আমিই জানি না!” প্রধানমন্ত্রী বললেন, "কি জানি আমি তো তার বিষয়ে কিছুই শুনি নি। খুঁজে দেখব, পাবও নিশ্চয়।”
কিন্তু পাবেটা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী এখানকার সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন, ওখানকার সিঁড়ি বেয়ে নামেন, এখানে সভাঘরে দেখেন, ওখানে দালানে দেখেন, কত লোকের সঙ্গে দেখা হয়, কেউ নাইটিঙেলের নামও শোনে নি। অগত্যা সম্রাটের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, "ঐ লোকটা আগাগোড়া বানিয়ে লিখেছে। বইয়ে যা কিছু লেখে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দেরসেন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments