আমাদের সময়টা ছিল একটি যুগসন্ধিক্ষণ

আজ যখন পেছন ফিরে তাকাই, মনে হয় কি এক দুর্লভ ও দুর্দান্ত সময় আমরা পার হয়ে এসেছি। মনে পড়ে সেই প্রায় চার দশক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো। মানুষ যখন মহান কিছু সৃষ্টির কাজে মনেপ্রাণে জড়িয়ে থাকে তখন ঠিক বুঝতে পারে না কি অসাধারণ কাজ সে করে চলেছে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ সে তো একা সব কিছু করে না। অনেকের সঙ্গে সে তার অবদান রাখে। পরে দেখে সবাই মিলে কি বিশাল একটা কাজ তারা করে ফেলেছে। আমাদের মহান স্বাধীনতা, স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি সেরকমই এক বিপ্লবাত্মক ঘটনা। আজ গর্ব করে বলি ১৯৭০ সালের ঠিক আগে ও পরের সময়টাতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সে সময় সেখানে ছিলাম বলেই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হতে পেরেছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও আমাদের মহান স্বাধীনতা এক সূতায় গ্রথিত হয়েছিল। এ বন্ধন আজো অটুট রয়েছে। এই গর্বটুকু আমরা বুকে ধরে রেখেছি অনেক যত্নে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ঐতিহাসিক ছয় দফা দেন তখন আমরা ঢাকা কলেজের ছাত্র। সারা বাংলাদেশ তখন বাঙালির অধিকারের দাবিতে সোচ্চার।

আমরা জানতাম আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে কারণ আমরা বাঙলার স্বাধিকার আন্দোলনের সামনের সারির সৈনিক হতে চাই। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি ছিল। ১৯৬৭ সালে আমরা, মানে সেযুগের একঝাঁক চৌকস, তরুণ ছাত্রছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান)-এ ভর্তি হই। আমি ছিলাম বিজ্ঞানের ছাত্র। ভর্তি হই পরিসংখ্যান বিভাগে। পড়াশোনাই ছিল আমাদের একান্ত কর্তব্য। সেটা আমরা করতাম। কিন্তু আইয়ুবের সামরিক স্বৈরশাসন আর পাকিস্তানের পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠির জাতিগত শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা না বলে পারতাম না।

খুব আপন মনে হতো আমাদের সায়েন্স এনেক্স ক্যাম্পাসকে। এতো শান্ত ও নিরিবিলি আর হয় না। আমাদের শিক্ষকরাও ছিলেন বেশ যত্নশীল। এককোণে ছিল সুরেশদার ক্যান্টিন। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে চলতো চায়ের আড্ডা। সকালের দিকে সাবসিডিয়ারি ক্লাসে যেতাম কার্জন হলে। দুপুরের পর চলে যেতাম সোজা মধুর ক্যান্টিনে। বলতে দ্বিধা নেই সেখানেই শুরু হতো আমাদের আসল ক্লাস। তখন আইয়ুব-মোনায়েম চক্রের গুষ্টি উদ্ধার করার কাজে আমরা মনোনিবেশ করতাম। সারাটা দিন ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করতাম। হলে যেতাম রাতে। আমাদের এফএইচ হলের নিচতলার ১৫২ নম্বর রুমের কথা মনে পড়ে। মনের কোণে ভেসে ওঠে কত স্মৃতি।

আইয়ুব মোনায়েম চক্রের ছাত্র সংগঠন এনএসএফের ছাত্ররা ক্যাম্পাসে বড় উৎপাত করতো। সে সময় প্রতিটি হলে মাসে একবার ফিস্ট হতো। এনএসেএফর গুণ্ডারা খোকা-পাচপাত্তুর নেতৃত্বে গিয়ে চড়াও হতো হলে। সাধারণ ছাত্রদের খাবার ওরা দল বেধে গিয়ে খেয়ে আসতো। এই খোকা আর পাচপাত্তু ছিল নামকরা গুণ্ডা। তারা সন্ত্রাস করে আইয়ুবি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন দমনের কাজে নিয়োজিত ছিল। ডাকসু ও হল নির্বাচনে তারা ভোট পেতো না। তখন তারা ক্যাম্পাসে সৃষ্টি করতো এক নৈরাজ্যকর অবস্থা। সবাই ভয়ে হল ছেড়ে চলে যেতো। এনএসএফের গুণ্ডারা হল দখল করে গেটে পাহারা বসাতো। তিন-চার দিন পর ধীরে ধীরে ছাত্ররা হলে ফিরে আসতে শুরু করলে গেটে গুণ্ডাদের হাতে তাদের অপদস্থ হতে হতো। তখন গুণ্ডাদের হাতে পাঁচ-দশ টাকা করে গুজে দিয়ে মানসম্মান নিয়ে যার যার রুমে যাওয়ার অধিকার পেতো।

বিশেষভাবে এফএইচ হল ও ঢাকা হলের (শহিদুল্লাহ হল) অবস্থা ছিল এরকম। কারণ ওসব হলেই থাকতো দুর্ধর্ষ খোকা আর পাচপাত্তু।

পাচপাত্তু নামটা নিয়ে অনেক মজার গল্প আছে। সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছরের অনার্স পাশ করে এক বছরের মাস্টার্স কোর্স করলেই চলতো। আবার কেউ দুই বছরের পাসকোর্স শেষে মাস্টার্স পার্ট ওয়ানে ভর্তি হতে পারতো। এর পর তাদের মাস্টার্স পার্ট-টুতে পড়তে হতো। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় এদের অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো। পাচপাত্তু যে বিশ্ববিদ্যালয়ে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice