আঁধারে আলো
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে প্রবেশের পর মাঠভর্তি ছাত্রীদের কণ্ঠস্বর ভেসে এল কানে। কলেজের বান্ধবীরা আড্ডায় বাঁধনহারা আনন্দে মশগুল। মাঠের এক প্রান্তে চোখ চলে গেল। তিন-চারজন ছাত্রী হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। তাদের জীবন কলেজের অন্য সব ছাত্রীর জীবন থেকে আলাদা, তারা দৃষ্টিশক্তি থেকে বঞ্চিত। সাধারণভাব তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি। বদরুন্নেসা কলেজের দশজন ছাত্রী দৃষ্টিশক্তিবঞ্চিত। জগতের আলো তাদের জগৎকে আলোকিত করতে না পারলেও, জ্ঞানের আলোয় আমাদের চিরচেনা জগৎ তাদের কাছে পেয়েছে এক রূপ।
যারা চোখে দেখতে পায় না তাদের অর্জনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীলতার হাতিয়ার হিসেবে সাদা ছড়ির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস পালন করা হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার জন্য এই ব্যস্ত পৃথিবীতে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলা খুবই কঠিন, বিশেষভাবে নারীদের জন্য। তারপরও কেউ কেউ সব বাধাকে উপেক্ষা করে, সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে জ্ঞানের আলোয় এই পৃথিবীকে দেখছে, স্কুলে পড়াশোনা করছে, এসএসসি পাস করে আর দশজন সাধারণ মেয়ের মতো কলেজে ভর্তি হচ্ছে, স্নাতকও সম্পন্ন করছে। তেমনি দশজন দৃষ্টিশক্তিবঞ্চিত নারী বর্তমানে বদরুন্নেসা কলেজে অধ্যয়নরত। তারা কলেজের হলেই থাকে।
তারা দশজন আবাসিক হলে সব সময় একসাথেই থাকে। তাদের মধ্যে পাঁচজন কলেজের প্রথম বর্ষের এবং বাকি পাঁচজন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাদের শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে কথা হচ্ছিল তাসলিমা সুলতানা মিতুর সাথে।
মিতুর বাড়ি টাঙ্গাইলে। বাবা মো. তারা মিয়া শিকদার দোকানকর্মী, মা শেফালী সিকদার গৃহিণী। ওরা চার বোন ও এক ভাই। মিতু সবার বড়। পাঁচ বছর বয়সে সে ঢাকার মিরপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে ভর্তি হয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। ছোটবেলা থেকে হলেই তার জীবন কাটছে। তার অন্য ভাই-বোনেরা টাঙ্গাইলের স্কুলে পড়ে। মিতু বলে, বাবা-মায়ের ইচ্ছার কারণেই আজ সে কলেজে পড়তে পারছে। মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল থেকে সে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। মিতু আর্টসে পড়াশোনা করছে। মিতু বলে, কলেজে এসে তাদের সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা হলো বইয়ের অভাব। তাদের জন্য কোনো পাঠ্যবই নেই। সামনে টেস্ট পরীক্ষা, কিন্তু এখনো কোনো বই তাদের কাছে নেই। এসএসসি পরীক্ষার সময় তাদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা সব টেক্সট বই ছিল, কিন্তু এখন কোনো বই-ই নেই।
মিতুর সাথে একই স্কুলে পড়ত রাজিয়া সুলতানা। রাজিয়া বলছিল স্কুলে পড়াশোনা খুবই ভালো হতো। বইয়ের অভাব ছিল না। তারা প্রথম ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়া শিখেছে স্কুলে। আজকের একা থাকা, রিকশায় চলাফেরার সাহস তারা স্কুল থেকেই পেয়েছে। যদিও সবকিছুই অন্যের বিশ্বস্ততার ওপর নির্ভরশীল। তাদের এসএসসি পরীক্ষা আলাদা রুমে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় খাতা লেখার জন্য সহায়তাকারী রাইটার তাদেরই জোগাড় করতে হয়। অনেক সময়ই দেখা যায় রাইটার পাওয়া এক সমস্যা। এইচএসসি পরীক্ষার জন্য তাই তারা এখন থেকেই রাইটার খুঁজছে, যে তার কথা শুনে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখবে।
মুন্নি আক্তার বরিশালের সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে বদরুন্নেসা কলেজে পড়ছে। জানতে চাই, তাদের জন্য আলাদা কলেজ হওয়া উচিত কি না। সে বলে, যা হওয়ার নয়, তা নিয়ে স্বপ্ন দেখা উচিত নয়। মুন্নি বলে, তারা দৃষ্টিহীনতার কারণে চাকরির জন্য প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারে না। ব্যবহারিক ক্লাস করতে পারবে না দেখে বিজ্ঞানেও পড়তে পারে না। কলেজের ক্লাসে শিক্ষকদের পক্ষে সব সাধারণ ছাত্রী সাথে সাথে তাদের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয় না। সহপাঠীরাও নিজেদের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাই তাদের সাহায্য করতে পারে না। ক্লাসের লেকচার রেকর্ড করে তারা পড়ে। রেকর্ড করা ক্যাসেট শুনে ব্রেইল পদ্ধতিতে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice