- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ১৯০
গড়ানে-মটর
ছিল একজন লোক। তার ছয় ছেলে, একটি মেয়ে।
গেল তারা জমি চষতে, বোনকে বললে যেন খাবার নিয়ে যায়। বোন বললে: ‘কিন্তু কোথায় তোমরা চষবে? আমি তো জানি না।’
ওরা বললে: ‘যেখানে চষব, বাড়ি থেকে সে জায়গাটা পর্যন্ত ফালের দাগ দিয়ে যাব। তুই সেই দাগ ধরে চলে যাবি।’
এই বলে চলে গেল তারা।
এখন সেই মাঠের কাছে বনে এক নাগ থাকত ৷
দাগটা সে বুজিয়ে দিতে শুরু করল। আর নিজে তার বদলে আরেকটা দাগ টেনে নিয়ে গেল তার নিজের পুরী পর্যন্ত।
মেয়েটি এদিকে ভাইদের জন্যে খাবার নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল সেই দাগ ধরে।
যেতে যেতে যেতে গিয়ে পৌঁছল একেবারে নাগের আঙিনায়। নাগও তাকে ধরে রাখল সেখানে।
সন্ধেয় বাড়ি ফিরল ছেলেরা, মাকে বলে: ‘সারা দিন হাল দিলাম, তুমি আমাদের খাবারও পাঠালে না।’
‘পাঠালাম না মানে? আলেঙ্কা যে নিয়ে গেল! আমি ভাবছিলাম তোমাদের সঙ্গে ফিরবে। পথ হারাল নাকি?’
ভাইরা বললে: ‘খুঁজতে যেতে হয় ৷’
ছয় ভাই সেই নতুন দাগ ধরে পৌঁছল নাগের আঙিনায়। এসে দেখে: বোনটি সেখানে।
‘দাদারা আমার, নাগ যে আসবে, কোথায় তোমাদের লুকিয়ে রাখি ৷ তোমাদের যে খেয়ে ফেলবে!’
নাগ ওদিকে উড়ে আসছে।
ফোঁস ফোঁস করছে, ‘মানুষের গন্ধ পাঁও! তা কী হে ছোকরারা, লড়বে নাকি মিটমাট করে নেবে?’
ওরা চেঁচাল, ‘না! লড়ব!’
‘চলো তাহলে লোহার ঝাড়াইতলায়।’
গেল তারা লোহার ঝাড়াইতলায় লড়তে।
বেশিক্ষণ লড়াই চলল না: নাগ ঘা মারতেই তারা লুটিয়ে পড়ল লোহার ঝাড়াইতলায়। আধমরা অবস্থায় তাদের তুলে নিয়ে নাগ ফেলে দিলে গভীর অন্ধকূপে।
মা-বাপে ওদিকে ছেলেদের পথ চেয়ে আছে―নেই তো নেই-ই।
একদিন লোকটার বৌ গেল নদীতে কাপড়চোপড় কাচতে, দেখে রাস্তায় একটা মটরদানা গড়াচ্ছে। মটরদানাটা তুলে নিয়ে সে খেয়ে ফেলল।
তারপর তো ছেলে হল তার। নাম রাখল গড়ানে-মটর।
ছেলে বেড়ে ওঠে, অল্প বয়সেই হয়ে উঠল প্রকাণ্ড। একদিন বাপ-ছেলেয় মিলে কুয়ো খুঁড়ছিল—খুঁড়তে খুঁড়তে গিয়ে ঠেকল এক মস্তো পাথরে।
বাপ ছুটে গেল লোক ডাকতে, পাথরটা যাতে তুলে ফেলতে সাহায্য করে।
বাপ যেতে না যেতেই গড়ানে-মটর নিজেই পাথরটা তুলে ফেলে দিলে। এল লোকজনেরা, ব্যাপার দেখে একেবারে থ’। গায়ে ওর এত জোর ভয় পেয়ে গেল, চেয়েছিল তাকে খুন করতে। ছেলে ওদিকে সে পাথর ওপরে ছুঁড়ে লুফে নেয় ৷
এমন কাণ্ড দেখে লোকেরা পালিয়ে গেল দিগ্বিদিকে। বাপে-ছেলেতে আরো খোঁড়ে―খুঁড়তে খুঁড়তে গিয়ে ঠেকল মস্তো এক লোহার চাঙড়ে।
গড়ানে-মটর সেটা টেনে তুলে লুকিয়ে রাখল।
একদিন গড়ানে-মটর বাপকে শুধায়, মাকে শুধায়: ‘আমার যেন ভাইবোন ছিল? তাই না?’
ওরা বললে, ‘হারে বাছা, ছিল তোর বোন আর ছয় ভাই। তবে বাছা এই হয়েছে, সেই হয়েছে।’
সব কথা তাকে বলল ৷
ছেলে বলে, ‘তাহলে আমি ওদের খুঁজতে যাব।’
বাপ-মায়ে কত বোঝায়: ‘যাস নে বাছা: ছয়জনে গেল, ফিরল না, তুই তো একা, নির্ঘাৎ তুই মারা পড়বি!’
‘না যাব! ওরা যে আমাদেরই রক্তমাংস, উদ্ধার করব না, সে কি হয়!’
যে লোহাটা খুঁড়ে তুলেছিল, সেটা নিয়ে সে গেল কামারের কাছে।
বললে, ‘আমায় একটা তরোয়াল বানিয়ে দাও বেশ বড়োসড়ো।’
এমন তরোয়াল কামার বানাল যে কামারশাল থেকে সেটা বার করে আনতে পারল বহু কষ্টে। গড়ানে-মটর তরোয়ালটা নিয়ে বোঁ করে হুঁড়ে দিল আকাশে। বাপকে বললে: ‘ঘুমতে যাচ্ছি, বারো দিন পরে, তরোয়াল যখন মাটিতে এসে পড়তে যাবে, আমায় জাগিয়ে দিও।’
এই বলে সে শুল।
তেরো দিনের দিন শোঁ শোঁ শব্দ করে তরোয়াল এসে পড়ছে। ছেলেকে জাগিয়ে দিল বাবা। ছেলে লাফিয়ে উঠে মুঠো বাড়িয়ে ধরল। তরোয়াল যেই সেই মুঠোতে আছড়ে পড়া,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments