যুগোশ্লাভিয়া
দুই কোটি ২৮ লাখ (১৯৮৩’র তথ্য) মানুষের দেশ যুগোশ্লাভিয়ার আয়তন ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮ শত ৪ বর্গ কিলোমিটার। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই দেশটি ১৯৪৪ সালের শেষ দিকে ফ্যাসিস্টদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে। যুগোশ্লাভ জনগণের জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণে পরিণতি লাভ করে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত পরাধীন থাকার পর দেশটি দ্বিতীয় মহাসমর উত্তরকালে প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করেছিল।
যুগ যুগের পরাধীনতা
যুগোশ্লাভিয়ার প্রাচীন অধিবাসী ছিল ইলিরিয়ান ও কেল্টরা। আড্রিয়াটিক সাগরের তীরে বেশ কিছু গ্রীক এসেও উপনিবেশ স্থাপন করেছিল এক সময়ে। কিন্তু ইতিহাসের স্বাভাবিক নিয়মে কোন রাষ্ট্র গড়ে ওঠার আগেই খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে রোমানরা এসে এই ভূখণ্ড দখল করে ইলিরিয়া নামে একটি প্রদেশের পত্তন করে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। পাঁচশ বছর পর বিশাল রোম সাম্রাজ্য বিভক্ত হয়ে গেলে এই প্রদেশটিও বিভক্ত হয়ে দুই সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হয়ে যায়।
সপ্তম শতক থেকে শ্লাভরা এই অঞ্চলে আসা শুরু করে। ধীরে ধীরে তারা ভূখণ্ডই দখল করে না, অধিকন্তু জনগোষ্ঠীকেও পুরোপুরি গ্রাস করে নিল এবং তারা নিজেরাও আর বিদেশী থাকল না। শ্লাভদের নিয়ন্ত্রণে সার্বিয়া, বসনিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্র গড়ে উঠল কালক্রমে। চতুর্দ্দশ শতাব্দীর শুরুতে তুর্কীরা এই অঞ্চল দখল করে নেয় এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত তুর্কী শাসনের অধীনে থাকে বর্তমান যুগোশ্লাভিয়া।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়ে অস্ট্রিয়া ষড়যন্ত্রমুলকভাবে এই দেশটি অধিকার করে। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান নাৎসী বাহিনীর নেতৃত্বাধীন অক্ষশক্তির পদানত হয়ে যুগোশ্লাভিয়াকে বিদেশী আগ্রাসনের শিকার হয়েই কাটাতে হয়েছে।
সংগ্রামের প্রথম পর্ব
উনিশ শতকের প্রথম দিক থেকে যুগোশ্লাভিয়ায় একটি আন্দোলন জন্মলাভ করে যার মূল শ্লোগান ছিল ‘সব শ্লাভ এক গোষ্ঠী’।
রুশ, চেক, পোলিশ, ইলিরিয়ান প্রভৃতি গোষ্ঠিতে অবস্থানরতরা এক অবিভাজ্য সত্ত্বার অধিকারী। এই বক্তব্য উদারনৈতিক বৃদ্ধিজীবী ও নবোদ্ভূত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অংশবিশেষকে আকৃষ্ট করে। দক্ষিণ শ্লাভ জনগোষ্ঠীর এই শ্লাভদের থেকে অনেকে আঠার শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুতে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া প্রভৃতি দেশে পড়তে গিয়েছিলেন। সেই সব দেশে পণ্ডিতদের সংস্পর্শে তাদের মধ্যে আত্মসচেতনতা ও আত্মঅধিকারের মনোবৃত্তি জাগরিত হয়। তদুপরি এই সময়ে ইউরোপ জুড়ে জাতীয় চেতনা বিকাশের যে স্রোত বয়ে যায় তাও স্পর্শ করে যুগোশ্লাভদের। ফলে আধুনিক অর্থে জাতীয় স্বাধীনতা, স্বাধীকার, সংগ্রাম-আন্দোলন ইত্যাদি প্রশ্নগুলো দোলা দেয় যুগোশ্লাভিয়ার জনগোষ্ঠীকে। সেই সাথে রাষ্ট্রচিন্তাও যুগোশ্লাভদের চেতনায় বিকশিত হতে থাকে আঠার-উনিশ শতকের ইউরোপের বিপ্লবী বুর্জোয়া আন্দোলনের প্রভাবে। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিকাশের পর্যায়ও এই সময় লক্ষ্য করা যায়। মধ্যবিত্তের মনোজগতের পরিবর্তনের হাওয়া অন্যদেরও স্পর্শ করে।
উনিশ শতকের প্রথম দিকে কৃষক বিদ্রোহ ঘটে সার্বিয়ায়। তুর্কী সৈনিকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে সংঘটিত হয় এই বিদ্রোহ। শেষ পর্যন্ত ১৮০৪ সালের এই বিদ্রোহ তুর্কীদের বিরুদ্ধে সার্বিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপ লাভ করে। সার্বিয়ার দ্বিতীয় বিদ্রোহ ঘটে ১৮১৫ সালে। ১৮২৮ সালে রাশিয়া তুর্কীদের আক্রমণ করে সার্বিয়াকে স্বায়ত্তশাসন দিতে বাধ্য করে। ক্রমান্বয়ে সংবিধান ও আইন পরিষদ গঠিত হয়। ফলে স্বায়ত্তশাসিত সার্বিয়ায় আধুনিকতা বিস্তারের পথ উন্মুক্ত হয়। স্বায়ত্তশাসিত সার্বিয়ায় স্বাধীনতা ও বৃহত্তর সার্বিয়া (তথা যুগোশ্লাভিয়া) গঠনের ধারণা বিস্তার লাভ করে মধ্য উনিশ শতকে। ১৮৬০ এর দশকে তুর্কী বাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণের বিক্ষোভ প্রত্যক্ষ সংঘাতের সূচনা করে। ১৮৭৮ সালে ইউরোপীয় শক্তিসমূহের বার্লিন কংগ্রেসে সার্বিয়ার স্বাধীকার স্বীকৃত হয়। এর চার বছর পর সার্বিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কায়েম হয় রাজতান্ত্রিক শাসন। মন্টেনিগ্রোতেও সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয় স্বাধীনতার দাবিতে। ১৮৭৮ সালে তাকে স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯১২ সালে তুর্কীদের বিরুদ্ধে সার্বিয়াসহ বলকান দেশগুলো অভিযান চালিয়ে তুরস্ককে হটিয়ে দেয়।
স্বাধীন যুগোশ্লাভিয়া
অস্ট্রিয়া কর্তৃক সার্বিয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছিল প্রথম মহাযুদ্ধ। এক বছরের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments