চার্লস্ ডিকেন্স
অনেকের মতে চার্লস্ ডিকেন্স-ই হচ্ছেন ইংল্যাণ্ডের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক। এ বিষয়ে অবশ্য মতভেদ থাকতে পারে। তবে একথা ঠিক যে, উপন্যাস লেখকের যা প্রধান গুণ সেই গল্প বলার ক্ষমতা ও চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার শক্তি তাঁর অসাধারণ ছিল।
বলা বাহুল্য, ডিকেন্স-এর লেখার আরও অনেক গুণ ছিল এবং ত্রুটিও। সে-সব আলোচনা এখানে আমার করার ইচ্ছে নেই। তাঁর সাহিত্য-বিচারের জন্য এ প্রবন্ধ নয়। আমি যথারীতি শুধু তাঁর জীবন ও তাঁর প্রেম সম্বন্ধে খুব সংক্ষেপে সামান্য দু-চার কথা এখানে লিখবো।
১৮১২ সালে ইংল্যান্ডের পোর্টসী-তে চার্লস্ ডিকেন্স-এর জন্ম হয়। জন ডিকেন্স ও এলিজাবেথ ডিকেন্স-এর তিনি দ্বিতীয় সন্তান ও প্রথম পুত্র। তাঁর বাবা জন ডিকেন্স নেভি পে-অফিসে সামান্য কেরানীর কাজ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমিতব্যয়ী এবং সেজন্য সব সময়ই অভাব ও ধারদেনায় বিশেষভাবে জর্জরিত থাকতেন। দেনার দায়ে তাঁকে কয়েকবার জেলেও যেতে হয়েছে। সংসারের এই অনটন ও বিশৃঙ্খলার মধ্যেই চার্লস্ ডিকেন্স মানুষ হয়েছেন। এর ফলে বাল্যে পড়াশোনাটাও তাঁর ভালোমত হয় নি।
বারো বছর বয়সেই তাঁকে একবার স্কুল ত্যাগ করে ফ্যাক্টরির কাজে ঢুকতে হয়েছিল। সপ্তাহে ছ শিলিং করে পেতেন তিনি সেখানে। এই সামান্য অর্থই তখন তাঁদের সংসারের পক্ষে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। কাজ অবশ্য তাঁর খুব কঠিন ছিল না। শিশি-বোতল পরিষ্কার করে তাতে লেবেল লাগাতে হতো তাঁকে। কিন্তু এত অল্প বয়সে পড়াশুনা ছেড়ে তাঁকে যে বাধ্য হয়ে ফ্যাক্টরির কাজ করতে হচ্ছে, এই অনুভূতিটা তাঁকে বিশেষভাবে পীড়া দিত। এটা তাঁর এতই মনোবেদনার কারণ হয়েছিল যে, উত্তরজীবনে ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের কাছেও তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইতেন না।
সৌভাগ্যক্রমে এ কাজ তাঁকে বেশী দিন করতে হয় নি। তাঁর বাবার সঙ্গে ফ্যাক্টরির মালিকদের ঝগড়া হওয়ায় তাঁর চাকরি যায় এবং জন ডিকেন্স তাঁর মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁকে আবার স্কুলে ভর্তি করে দেন। এর পর পনেরো বছর বয়স পর্যন্ত ডিকেন্স স্কুলে পড়েন। অতঃপর চিরদিনের জন্য তিনি স্কুল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রথমে তিনি এক আইন-ব্যবসায়ীর আফিসে সংবাদবাহকের কাজ নেন। অবশ্য এ কাজও তাঁকে বেশী দিন করতে হয় নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর বাবা তাঁকে আর একজন আইনজীবীর অফিসে কেরানীর কাজ জুটিয়ে দেন। সপ্তাহে দশ শিলিং করে পেতেন তিনি এখানে। অল্পদিনের মধ্যে একাজও তাঁর অত্যন্ত একঘেয়ে ও খারাপ লাগতে থাকে। তাঁর মত ব্যক্তির কাছে তা লাগা অস্বাভাবিকও ছিল না। তা-ছাড়া কোনো ভবিষ্যতও ছিল না সে কাজে। সুতরাং অন্য কোনো বৃত্তিতে জীবনে উন্নতি করার আশায় তিনি অবসর সময়ে শর্টহ্যাণ্ড শিখতে থাকেন এবং কিছুকাল পর রিপোর্টারের কাজ গ্রহণ করেন। এই কাজে কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর বেশ সুনাম হয়। এই সময় তিনি ‘দি মান্থলি ম্যাগাজিন’ ও ‘দি মর্নিং ক্রনিক্স’-এ ধারাবাহিক ভাবে লণ্ডন-জীবনের কতকগুলি নকশা লেখেন। এজন্য অবশ্য তিনি কোনও পারিশ্রমিক পান নি। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে এই লেখাগুলি একজন প্রকাশকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয় এবং ডিকেন্স-এর চতুর্বিংশতিতম জন্মদিবসে এগুলি পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়। প্রথম সংস্করণের জন্য তাঁকে দেড়শ পাউণ্ড দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, প্রকাশক তাঁকে আরও লেখার জন্য অনুরোধ জানান।
ইতিমধ্যে আরও একজন প্রকাশক তাঁকে একটি স্পোর্টিং ক্লাব সম্বন্ধে কিছু সরস গল্প লিখতে অনুরোধ করেন। ডিকেন্স প্রথমে জানান যে, এ সম্বন্ধে তাঁর কোনো জ্ঞান নেই। সুতরাং এ বিষয়ে কিছু লেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থের প্রলোভন এড়াতে না পেরে তিনি লিখতে প্রবৃত্ত হন।
এই হচ্ছে সংক্ষেপে তাঁর প্রসিদ্ধ পুস্তক ‘দি পিক্উইক্ পেপারস’-এর জন্মকাহিনী। পুস্তকাকারে ‘দি পিক্উইক্ পেপারস’ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডিকেন্স বিখ্যাত হয়ে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments