- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২৭৮
পালোয়ান আর সিমুর্গ পাখি
এক গ্রামে ছিল এক কামার। তার এক ছেলে ছিল—বিশালদেহী বীর, নাম খালিম।
ছোট বয়স থেকে এত বেশি খেত আর এত তাড়াতাড়ি বাড়তে লাগল যে কামার যত ভেড়াই জবাই করুক না কে কিছুতেই ছেলেকে পেটভরে খাওয়াতে পারে না।
শেষে এমন অবস্থা দাঁড়াল যে দিনে তিনটি উটের মাংস খেলেও হয় না তার। তখন খালিম ঠিক করল ঘর ছেড়ে চলে যাবে সে শিকার করে নিজের আহার যোগাবে।
ঘর ছেড়ে চলে যাবার আগে, সেই শেকলটা কাঁধে ঝুলিয়ে চলল যেদিকে দুচোখ যায়।
পথ চলতে থাকে সে, শিকার করে, খায়, ঘুমোয় আবার পথ চলে।
একদিন পথে তার দেখা হল সাদাকান নামে এক পালোয়ানের সঙ্গে পালোয়ানটা পথের মাঝে দাঁড়িয়ে এক হাতে শিকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলছে একটা মস্ত বটগাছ। সাদাকানের সম্বন্ধে লোকে বলে যে সে দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী লোক।
যখন সেই সর্বপরিচিত পালোয়ান দেখল তার চেয়েও লম্বা ঐ যুবক বীরকে কাঁধে চল্লিশমন ওজনের শেকল কাঁধে নিয়ে যাচ্ছে, তখন ইচ্ছে হল তার সঙ্গে শক্তি পরীক্ষা করে দেখে।
যে জিতবে অন্যজন তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেবে।
আরম্ভ হল লড়াই।
কিন্তু প্রখ্যাত পালোয়ান সাদাকান কামারের ছেলে যুবক বীর খালিমকে একটুকুও নড়াতে পারল না। হেরে গেল সে। আর হিংসায় তার মনে আগুন জ্বলল।
একসঙ্গে তারা দু’জনে পথ চলা আরম্ভ করল, অনেক পথ চলে শেষে তারা এসে পৌঁছাল এক দূর দেশে।
সেখানে তারা অনেক শিকার করল, বুনো ছাগল মারল অনেক। মস্ত এক হাঁড়িতে করে রান্না চাপান, খেল দু’জনে আর বাকিটা রেখে দিল পরের দিনের জন্য।
সকালবেলায় ঘুম ভেঙে তারা দেখে হাঁড়ি ফাঁকা, কিছু নেই তাতে আর ছাগলের চামড়াগুলোও উধাও হয়ে গিয়েছে।
চোরকে খুঁজতে লাগল দুই পালোয়ান, কিন্তু কাউকে খুঁজে পেল না ধারেকাছে। আবার পথ চলতে চলতে তারা এসে পৌঁছাল এক গভীর গিরিখাতের কাছে।
ঝুঁকে গিরিখাতের মধ্যে তারা দেখল যে কালকে তাদের মারা ছাগলগুলোর চামড়ার ওপর শুয়ে আছে এক ডাইন।
ঘুমোচ্ছে ডাইন, খালিম পালোয়ান একটুও না দেরী করে তার ওপরে ফেলে দিল নিজের চল্লিশমন ওজনের শেকলটা, এক ঘায়েই মেরে ফেলল তাকে।
তখন তারা গিরিখাতে নেমে দেখে সেখানে এক চমৎকার বাগান। বাগানের সোনার বেড়ার ওপাশে অপূর্ব সব গাছ গজিয়েছে। সেই বাগানে থাকে অনেক সুন্দরী মেয়ে যারা ঐ ডাইনের হাতে বন্দি।
বাগানের সোনার ফটকের কাছে বসে ছিল এক বুড়ি। সে পালোয়ানদের বাগানে ঢুকতে দেবে না কিছুতেই। কিন্তু খালিম সোনার ফটক খুলে ভিতরে ঢুকে বন্দিনী সুন্দরীদের বলল সে ডাইনকে মেরে ফেলেছে সে, এখন মেয়েরা সবাই মুক্ত, যে সেখানে খুশি চলে যেতে পারে তারা।
মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী যে তাকে মনে ধরল তার। মেয়েটিরও পছন্দ হল খালিমকে। সে রাজি হল তাকে বিয়ে করতে, চলল সেও তার সঙ্গে।
পালোয়ান সাদাকনের মন আবার জ্বলতে লাগল খালিমের প্রতি হিংসায়: তারও পছন্দ হয়েছে ঐ মেয়েটিকেই।
মেয়েটিকে একটা পালকের মত করে উঠিয়ে নিয়ে খালিম এগিয়ে চলল বাগান ছেড়ে।
যেখানে তারা নেমেছিল গিরিখাতে সেখানে এসে খালিম কাঁধের শেকলটা নিয়ে এক ঝটকা দিয়ে ছুঁড়ে দিল ওপর দিকে। শেকলটা গিয়ে আটকে গেল খিরিখাতের উঁচু পাড়ের ওপর গজান একটা গাছে। তখন খালিম পালোয়ান প্রথমে সাদাকানকে সেই শেকল ধরে ধরে উঠে যেতে বলল, বলল সে যেন ওপরে উঠে শেকলটাকে গাছে আরও ভালো করে আটকে দেয়। সাদাকান ওপরে উঠে গেল, তারপর মেয়েটিকে ওপরে উঠতে সাহায্য করল। এবার খালিমের ওঠার পালা। কিন্তু হিংসুটে সাদাকান ঠিক করল তাকে মেরে ফেলবে। তাই ভারী শেকলটা ছুঁড়ে দিল একেবারে তার গায়ের ওপর।
খালিম জ্ঞান হারিয়ে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments