কালো শালোয়ার

দিল্লী আসার আগে ও আম্বালা ছাউনিতে থাকত, সেখানে কয়েকজন গোরা ওর খদ্দের ছিল। এই গোরাদের সঙ্গে মেলামেশার জন্যে ও দশ-পনেরোটা ইংরেজী শব্দ শিখে গিয়েছিল। ওদের কাছ থেকে শেখা এইসব শব্দ ও অবশ্য সব সময় ব্যবহার করত না। কিন্তু দিল্লী এসে ওর কারবার যখন মন্দা হল, তখন ও ওর প্রতিবেশী তমনচা জানকে বলল, “দিস লাইফ ভেরি ব্যাড।—এই জীবন এত কষ্টকর যে একটু খাবারও জোগাড় হয় না।”

আম্বালা ছাউনিতে ওর ধান্ধা খুব ভালোভাবে চলত। ছাউনির গোরারা মদ খেয়ে ওর কাছে আসত। আর ও তিন চার ঘণ্টার মধ্যে আট দশটি গোরার সঙ্গে কাজ-কারবার পুরো করে বিশ ত্রিশ টাকা রোজগার করে নিত। এই গোরারা ওর দেশের লোককে মোকাবিলা করার জন্যে খুব জবরদস্ত ছিল। এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে, এই গোরারা যে ভাষায় কথা বলত তা সুলতানা বুঝতে পারত না, বরং এই ভাষা না জেনে সুলতানা ভালোই করেছিল। যদি তারা ওর কাছে কিছু জানতে চাইত তবে ও মাথা কাত করে বলত, “সাহেব, তোমাদের কথা আমি বুঝি না।” আর তারা যদি বেশী জবরদস্তি করত তবে ও নিজের ভাষায় তাদের গালিগালাজ দিত। তারা যদি অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত তবে ও বলত, “সাহেব, তোমরা একেবারে উল্লু কা পাট্ঠা। হারামজাদা—বুঝেছ?” যখন সাহেবদের এইভাবে গালিগালাজ করত তখন ওর কণ্ঠে কোন তেজ থাকত না, বরং ভালোবাসায় গদগদ হয়ে বলত। ওরা যখন হাসত তখন ওদের মুখ দেখে সুলতানার মনে হত যেন বিলকুল উল্লু কে পাট্ঠে।

কিন্তু এখানে, দিল্লীতে ও যতদিন হয় এসেছে তার মধ্যে একদিনও কোন গোরা ওর কাছে আসেনি। তিন মাস ধরে ও হিন্দুস্থানের এই শহরে আছে, শুনেছে এই শহরে বড় লাট সাহেব থাকেন—যিনি গরমের সময় সিমলাতে যান। এই তিন মাসে মাত্র ছ’জন মানুষ ওর কাছে এসেছে। মাত্র ছ’জন অর্থাৎ মাসে দু’জন। আর এই ছ’জন খদ্দেরের কাছ থেকে খোদার নামে শপথ করে বলা যায় ও মাত্র সাড়ে আঠেরো টাকা কামিয়েছে। তিন টাকার চেয়ে বেশী কেউ দিতেই চায় না। এই ছ’জনের মধ্যে পাঁচ জনের কাছে সুলতানা তার রেট দশ টাকা বলেছিল। কিন্তু আশ্চর্যের কথা তারা প্রত্যেকেই বলেছিল, তিন টাকার বেশী এক কানা কড়িও দেব না। জানি না কেন তারা প্রত্যেকেই ওকে তিন টাকার সামগ্রী ভাবল। তাই ষষ্ঠ খদ্দের যখন এল তখন ও নিজেই তাকে বলল, দেখ, “আমি পুরো তিন টাকা নেব। এর এক-আধলা কম বললে হবে না। তোমার মর্জি হয়তো থাক, নয় চলে যাও।” ষষ্ঠ খদ্দেরটি ওর এই জবাব শুনে কোন দর-দাম না করে থেকে গেল। অন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে যখন নিজের কোট খুলতে লাগল তখন সুলতানা তাকে বলল, “দুধের জন্যে একটা টাকা দাও দেখি।”

পুরো একটাকা সে সুলতানাকে দিল না, নতুন রাজার একটা চকচকে আধুলি পকেট থেকে বের করে দিল। আর সুলতানাও চটপট সেই আধুলিটা নিয়ে নিল, যা পাওয়া যায় তাই যথেষ্ট।

তিন মাসে সাড়ে আঠেরো টাকা। মাসে বিশ টাকা তো এই বাড়িরই ভাড়া—যাকে বাড়ির মালিকরা ইংরেজীতে ‘ফ্ল্যাট’ বলে। এই ফ্ল্যাটে এমন স্যানেটারি ব্যবস্থা ছিল যে, লোহার শিকল ধরে টানলেই সমস্ত নোংরা জলের তোরে একেবারে নীচের নর্দমায় হাওয়া হয়ে যেত এবং খুব শব্দ হত। প্রথম প্রথম এই শব্দে ও খুব ভয় পেয়ে যেত। প্রথম দিন ও যখন পায়খানায় গেল সেদিন ওর কোমরে একটা টনটনে ব্যথা হচ্ছিল। কাজ সেরে উঠতে গিয়ে ও এই শিকল ধরে নিজেকে কোন মতে সামলিয়ে নেয়।

এই শিকল দেখে ও ভেবে ছিল, তাদের

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice