পৃথিবীর প্রাচীনতম কাব্য
গিলগামেশ কাব্য, বাবিলের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সুন্দর কবিতা পৃথিবীর বিখ্যাত সাহিত্য-কীর্তিগুলোর মধ্যে এক বিশেষ স্থান পেয়েছে। গিলগামেশ কাব্য পৃথিবীর প্রাচীনতম বীরগাঁথা, যাকে ব্যাবিলনীয় অডিসি আখ্যা দিলে ভুলে হবে না। কাব্যের নায়ক গিলগামেশ অডিসিউস আর হেরাক্লিসের মতোই কীর্তিধর বীর। যদিও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষণার জন্য পুরাকাহিনি সমৃদ্ধ, গিলগামেশ কাব্যে মানুষের গভীরতম আবেগ এবং যন্ত্রণার ছবি আমরা দেখতে পাব। মানুষের সার্বজনীন আশা-নিরাশার সমস্যা গিলগামেশ কাব্য যেভাবে স্থাপন এবং আলোচনা করেছে, তা যে কোনো আধুনিক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করবে। এই চিরন্তর আবেদনের জন্যেই গিলগামেশ কাব্য চিরকাল মানুষকে আনন্দ দিয়ে আসবে।
গিলগামেশ কাব্য হেনরী লেয়ার্ড আসূরবানিপালের বিখ্যাত গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। এটা আসূরবানিপালের সময়ই অর্থাৎ খৃষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে লেখা হয়েছিল। মূল কাব্য বারটা বড় মৃৎফলকে লেখা, এগারটা মৃৎফলকে তিনশ’ লাইন আছে, দ্বাদশটিতে প্রায় দেড়শ’। কোনো কোনো মৃৎফলকের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে অংশগুলো কাব্যের অন্যান্য প্রাপ্ত সংস্করণের সাহায্যে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে যে, গিলগামেশ কাহিনি মেসোপটেমিয়ার দারুন জনপ্রিয় ছিল যার জন্য মূল কাহিনির প্রচুর সংস্করণ বিভিন্ন সময়ে হয়েছিল। আমাদের আলোচিত সংস্করণটি বাবিলনীয় এবং অপেক্ষাকৃত পরের। মূল কাহিনি বহু প্রাচীন,—সুমেরীয় এবং সুমেরের উরুক শহরে গিলগামেশ নামে সত্যিই একজন কীর্তিমান রাজা ছিলেন।
এবার গিলগামেশ কাব্য প্রকাশের গল্পে আসা যাক। লেয়ার্ড আসূরবানি—পালের পুরো গ্রন্থাগারটাই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে পাঠিয়েছিলেন। হাজার হাজার মৃৎফলক, তার উপর লুপ্ত ভাষা—এগুলো পড়তেও প্রচুর সময় প্রয়োজন। গ্রন্থাগার আবিষ্কারের দীর্ঘ বাইশ বছর পরে জর্জ স্মিথ নামে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের একজন বিশেষজ্ঞ স্তম্ভিত ইউরোপের কাছে ঘোষণা করলেন যে, তিনি আসূরবানিপালের গ্রন্থাগারে মহাপ্লাবনের কাহিনি পেয়েছেন, যার সঙ্গে বাইবেলে বর্ণিত নোয়াহ’র প্লাবনের বর্ণনার অদ্ভুত সাদৃশ্য আছে। ঘোষণাটি হয়েছিল ৩রা ডিসেম্বর ১৮৭২ খৃষ্টাব্দে। ‘বাইবেলীয় পুরাতাত্ত্বিক সংস্থা’র একসভায় জর্জ স্মিথ কতকগুলো মৃৎফলকের অনুবাদের ভাষ্য দিচ্ছিলেন। ব্যাপারটা যে খুবই বিস্ময়কর সন্দেহ নেই। এর আরও পরে খ্রিষ্টপূর্ব দুহাজার অব্দের এক সুমেরীয় মৃৎফলকে একই রকম প্লাবনের কাহিনি পাওয়া গেছে। যেখানে নূহর নাম থাকার কথা সেখানে ছিল জিউসদ্রা। জর্জস্মিথের গবেষণা পত্রটির শিরোনাম ছিল ‘প্লাবনের কাহিনির ক্যালডীয় ভাষ্য।’
ব্যাপার হচ্ছে এই যে, গিলগামেশ কাব্যের এক অংশে এই প্লাবনের কাহিনি আছে। জর্জ স্মিথ গিলগামেশ কাব্যেরই দুটো মৃৎফলকের অনুুবাদ করেছিলেন। জর্জ স্মিথের ঘোষণার ফলে প্রাচীন মৃৎফলক পড়বার এক প্রচণ্ড উৎসাহ পড়ে গেলো এবং অচিরেই গিলগামেশ কাহিনি আত্মপ্রকাশ করল। তবে পুরো কাহিনি সাজাতে এবং অনুবাদ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। কারণ আগেই বলেছি যে মূল বারটি মৃৎফলকের কিছু অংশ নষ্ট হয়েছে। এই শূন্যস্থান বিভিন্্ন আসিরীয়, ব্যাবিলনীয় এবং হিট্টিয় ও হুররীয় সংস্করণের সাহায্যে পূরণ করা হয়েছে। আসিরীয় লিপিকার প্রতিটি মৃৎফলকের শেষে লিখেছেন:
‘যে সব কিছু দেখেছিল’ (অমুক সংখ্যক ফলক)
গিলগামেশ (ধারাবাহিক)
মূল অনুসারে লিখিত এবং সংগৃহীত
আসূর বানিপালের প্রাসাদ, বিশ্ব সম্রাট, আসিরিয়ার রাজা।
আমাদের কবিতার মূল চরিত্র যৌবনদীপ্ত বলশালী এক নৃপতি। তাঁর নাম গিলাগামেশ। সুমেরীয় রাজ তাকিয়ায় উরুক নগরীর প্রথম রাজবংশের পঞ্চম রাজার নাম গিলগামেশ, রাজত্বকাল ১২৬ বছর। তাঁর নামের সঙ্গে পরবর্তী কালের বহু পুরাকথা আর কিংবদন্তী জড়িয়ে আছে।
আমাদের কাব্য এবং সুমেরীয় রাজা উতুহেগালের একটি লিপি অনুযারী গিলগামেশ লুগালবান্দা দেবের পত্নী নিনসুন দেবীর পুত্র। কিন্তু গিলগামেশের পিতা লুগালবান্দা দেব নন, একজন অজানা মানুষ, সুমেরীয় রাজ তালিকায় যাকে নাকি বলা হয়েছে ‘কুলাবের প্রধান পুরোহিত’, কুলাব হচ্ছে উরুক নগরীর একটি এলাকা। মানুষের ঔরসে দেবীর গর্ভে জন্ম বলেই গিলগামেশের দুই-তৃতীয়াংশ দেবতা, এবং এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। গিলগামেশের একটি অন্যতম কীর্তি হচ্ছে উরুকের নগর প্রাকার নির্মাণ। কাব্যে এবং উরুক নগরীর আরেক পরবর্তী রাজার লিপিতে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments