-
গিলগামেশ কাব্য, বাবিলের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সুন্দর কবিতা পৃথিবীর বিখ্যাত সাহিত্য-কীর্তিগুলোর মধ্যে এক বিশেষ স্থান পেয়েছে। গিলগামেশ কাব্য পৃথিবীর প্রাচীনতম বীরগাঁথা, যাকে ব্যাবিলনীয় অডিসি আখ্যা দিলে ভুলে হবে না। কাব্যের নায়ক গিলগামেশ অডিসিউস আর হেরাক্লিসের মতোই কীর্তিধর বীর। যদিও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষণার জন্য পুরাকাহিনি সমৃদ্ধ, গিলগামেশ কাব্যে মানুষের গভীরতম আবেগ এবং যন্ত্রণার ছবি আমরা দেখতে পাব। মানুষের সার্বজনীন আশা-নিরাশার সমস্যা গিলগামেশ কাব্য যেভাবে স্থাপন এবং আলোচনা করেছে, তা যে কোনো আধুনিক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করবে। এই চিরন্তর আবেদনের জন্যেই গিলগামেশ কাব্য চিরকাল মানুষকে আনন্দ দিয়ে আসবে।
গিলগামেশ কাব্য হেনরী লেয়ার্ড আসূরবানিপালের বিখ্যাত গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। এটা আসূরবানিপালের সময়ই অর্থাৎ
-
প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার ইতিহাসে সে নামটি সবচেয়ে বিখ্যাত হয়ে আছে সেটি হচ্ছে হাম্বুরাব্বি। ব্যাবিলনের এই বিখ্যাত নৃপতির নাম তাঁর একটি বিশেষ কীর্তির জন্য মানব সভ্যতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এই অনুপম কীর্তিটি হচ্ছে হাম্মুরাব্বি প্রণীত আইনসংহিতা। সভ্যতার ইতিহাসে হাম্মুরাব্বির আইনসংহিতা প্রথম সুসংবদ্ধ বিধানমালা। হাম্মুরাব্বির রাজত্বকাল হচ্ছে খ্রিষ্টপুর্ব ১৭৯২ থেকে ১৭৫০ সাল। এই দীর্ঘ বিয়াল্লিশ বছর হাম্মুরাব্বি অত্যন্ত পারদর্শিতার সঙ্গে এক বিশাল ভূখণ্ড শাসন করেন। তাঁর এই নির্বিঘ্ন শাসন তাকে পৃথিবীর ইতিহাসে একজন অন্যতম সার্থক নৃপতি হিসেবে স্থান দিয়েছে। তার সিংহাসনারোহণের সময় প্রাচীন মেসোপটেমিয়া খণ্ড খণ্ড রাজত্বে বিভক্ত ছিল। হাম্মুরাব্বি তাঁর প্রতিবেশী রাজ্যগুলো যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে তাঁর কর্তৃত্বাধীনে আনেন এবং সমগ্র মেসোপটেমিয়ার এক
-
মেসোপটেমিয়ার বিজ্ঞান সম্বন্ধে কিছু বলার আগে আসেরিয়ার দ্বিগ্বীজয়ী সম্রাট আসূরবানিপালের কাছে আমাদের ঋণের স্বীকার করা দরকার। কারণ, মেসোপটেমিয়া সম্বন্ধে আজ যতটুকু জানতে পেরেছি, তার প্রায় সবটাই তাঁর কল্যাণে। আসিরিয়ার পূর্ববর্তী কীর্তিধর রাজাদের জয় করা সাম্রাজ্যসীমা তিনি আরও বিস্তৃত করেছিলেন। বিদ্রোহী প্রজাদের নির্মমভাবে হত্যা করতেন তিনি, ধ্বংস করতেন তাদের নগর। আসিরীয় নিষ্ঠুরতা তখনকার সভ্যজগতে ত্রাসের ব্যাপার ছিল। আসূরবানিপালের নামে মিশর থেকে পারস্য পর্যন্ত সবাই আতঙ্কিত হতো। যুদ্ধপ্রিয়, নির্মম আর নৃশংস ছিল এই আসিরীয়রা। শুধু তরবারির শাসনে এক বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্য তারা টিকিয়ে রেখেছিল দীর্ঘকাল। সমস্ত সাম্রাজ্য লুঠ করা সম্পদে রাজধানী নিনেভা হয়ে উঠেছিল অনুপমা, অতুলনীয়া।
যুদ্ধক্ষেত্রে যিনি পরিচয় দিতেন চূড়ান্ত বর্বরতার, ভাবতেই
-
সুদূর মহাকাশে আছেন,
দেবতা ভয়ঙ্কর
মানুষের সামাজিক সত্তা বা অস্তিত্ব নির্ধারিত করে তার চেতনাকে। আর এই চেতনায় ধরা পড়ে সামাজিক অস্তিত্বের রূপ, সেটা হচ্ছে—বাস্তব জগত। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি খুব উন্নত, সেজন্য তার মনের আয়নায় প্রতিফলিত বাস্তব-বিশ্বের ছবি সে রঙীন করে আঁকতে পারে। সে তার চিন্তাকে নানা অলঙ্কারে সাজায়, রূপ দেয় সুন্দর কাহিনিতে। কিন্তু এসবের ভেতরে রয়ে যায় সেই মূল জিনিসটি, যে উৎস থেকে সব কল্পকাহিনির উদ্ভব... বাস্তব পৃথিবী। কাহিনি যত জটিল আর বর্ণাঢ্যই হোক না কেনো, তার একেবারে ভেতরের মূল ব্যাপারটা কিন্তু ঠিকই থেকে যায়, হয়ত নীচে তলিয়ে থাকে। এই কল্পকাহিনি আর রূপক মানুষের সমৃদ্ধ মনীষার ফসল সমাজে মানুষের তৈরী অন্যান্য
-
খড়কুটোর সেপাই দেখেছেন কখনো?
প্রিয় পাঠকবর্গের কাছে আমি সেই-যে সেই চটের থলে আর খড়ের আঁটি দিয়ে বানানো ডামি-লড়াইয়ের কথাই শুধোচ্ছি। আমার ধারণা, আপনারা জীবনে অন্তত একবার ওদের নিশ্চয়ই দেখেছেন।
সত্যিকারের লড়ুয়েরা যখন যুদ্ধের মহড়া দেয়, তখন ঐ খড়ো-সেপাইদের সিনা লক্ষ্য করে সঙিন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পচা কুটো-কাটা আর বাতিল বস্তার ছোঁড়া টুকরো দিয়ে সাধারণতঃ এই ডামিগুলো তৈরী হয় যদিও, কিন্তু মাঝে মাঝে আবার কেউ কেউ মনযোগ দিয়েও বানায় বৈকি! যেমন কোনো কোনো ডামির মুখে মানুষের মুখের আদল সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে, চোখ আর নাক বানাতে তো রীতিমতো পরিশ্রমই করা হয়।
কাৎলো গাঁয়ের ছোঁড়ারা একদিন হৈ হৈ করতে করতে এসে ছাউনীটা ভরে
-
হিটলারের শেষ দশ দিবস
ঠিক কুড়ি বৎসর আগে, ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ এপ্রিল বেলা সাড়ে তিনটের অল্প পূর্বে হিটলার তার অ্যার-রেড় শেল্টার (বুঙ্কার মাটির গভীরে কন্ক্রিটের পঞ্চাশ ফুট ছাতের নিচের আশ্রয়স্থল কামানের বা প্লেন থেকে ফেলা গোলা বুঙ্কারের গর্ভ পর্যন্ত কিছুতেই পৌঁছতে পারে না) থেকে বেরিয়ে করিডোরে এলেন। সঙ্গে তার নবপরিণীতা বধূ এফা, প্রায় পনের বৎসরের বন্ধুত্বের (হিটলারের শেষ উইলে তিনি এই শব্দটিই ব্যবহার করেছেন। বস্তুত নিতান্ত অন্তরঙ্গ কয়েকজন অনুচর ভিন্ন দেশের-দশের লোক জানত না যে হিটলার ও এফার মধ্যে সম্পর্ক ছিল স্বামী-স্ত্রীর) পর তিনি প্রায় চল্লিশ ঘণ্টা পূর্বে এঁকে বিয়ে করেছেন। করিডরে গ্যোবে, বরমান প্রভৃতি প্রায় পনেরোজন তাঁর নিকটতম মন্ত্রী,
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.