-
আমাদের এই বিংশ শতাব্দী এবং বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকাল সমাজতন্ত্রের তথা সাম্যবাদের অভ্যুদয়ের উদয়াচল। অপরদিকে এই শতাব্দী ধনিকতন্ত্রের অস্তমিত হওয়ার কাল। এই কালসন্ধিতে সর্বদেশের শিল্পী সাহিত্যিকদের জীবন ও সাধনা পরস্পরবিরোধী আকর্ষণ বিকর্ষণের লীলাভূমি হতে বাধ্য। শিল্পীচিত্রের স্বাতন্ত্র্যবোধ ও সর্বজনীনতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা ও দায়িত্বশীলতা এই শতাব্দীর শুরু থেকেই নতুন কালের রসায়নের ভাণ্ডে কখনো অপূর্ব বর্ণবিভাময় নব উপাদান গড়ে তুলেছে, কখনো ধুম্রবহ্নি সমন্বিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শিল্পী সাহিত্যিকদের প্রতিভার জন্য ডেকে এনেছে বিপর্যয়, কিংবা সৃষ্টিকে করেছে অনাসৃষ্টি। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে সোভিয়েট ইউনিয়নের বোরিস পাস্তারনাক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের লেখক-জীবনের বিস্ফোরিত গতি পরিণতি এই দ্বন্দ্বের লীলাভূমিকে প্রকট করে দেখিয়েছে।
-
[তৎকালীন অস্ট্রিয়ার কোমোটাউ অন্চলের এক সৈনিক পরিবারে ১৮৯৯ সালে ফিশার জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম মহাযুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তবে মূলত ছিলেন দর্শনের ছাত্র ও সাংবাদিকতায় অনুরাগী। কমুনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন ১৯৩৪ সালে। ১৯৪৫ সালে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কালে, অস্ট্রিয়ায় অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠায় অংশ নেন। কিছু সময় ওই সরকারে শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। ১৯৫৯ সালের পর থেকে সম্পূর্ণরূপে সাহিত্যসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ওই বছরই প্রকাশিত হয় শিল্প-সমালোচনামূলক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ the Necessity of Art। মার্কসবাদীর দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত এই বইয়ে তিনি কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করেছেন—কেন শিল্পী বিশেষ পদ্ধতিতে আঁকেন, উপন্যাসবিচারের মাপকাঠি কি হবে, বা শিল্পকলাই বা কি? জার্মান ভাষায় রচিত উক্ত পুস্তকটি প্রকাশের পর থেকে
-
বাংলায় সাধারণভাবে এবং ঢাকাতে বিশেষভাবে তবলার পৃষ্ঠপোষকতার শখ সার্বজনীন। এর বড় কারণ এই যে, এখানে হিন্দুস্থানের প্রসিদ্ধ তবলাবাদকরা সব সময়েই আসা-যাওয়া করতেন এবং এখানকার বিত্তবান সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ তবলা বাজানোতে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ওয়াজেদ আলী শাহ্' বিশেষ তবলাবাদক হোসাইন বখশের পুত্র আতা হোসাইনও বাবার মতো তবলাবাদনে বিখ্যাত ছিলেন এবং বলা হয়ে থাকে তার বাজানোতে এতই নৈপুণ্য ছিল যে লোকেরা শুধুমাত্র তবলা শ্রবণ করেই মুগ্ধ হয়ে যেত। আতা হোসেইন দীর্ঘদিন ঢাকায় থেকেছেন এবং এখানকার শাসক শ্রেণির লোকেরা (আমিরগণ) তাঁর সম্মান করতেন। স্থানীয় তবলা বাদক ছিলেন খয়রাতী জমাদার, ইনি প্রকৃতপক্ষে মাহুতদের জমাদার ছিলেন কিন্তু এই বিদ্যায় তার পূর্ণতা ছিল। দুনী খান যিনি
-
'গানবাজনায় ঢাকার নাম ছিল। অনেক ধ্রুপদী গায়ক ছিলেন। ভগবান সেতারীর বাজনা ছিল অপূর্ব, কেশব বন্দ্যোপাধ্যায়ের তবলা-বাদনের খ্যাতি ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল। মধ্যবিত্ত সমাজে দুটি ছোট মেয়ের খুব নাম—একজন রানু সোম, প্রতিভা বসু নামে যাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি, এবং অন্যজন রেণুকা সেনগুপ্ত—যাঁর “যদি গোকুলচন্দ্র ব্রজে না এলে” গানটির রেকর্ড বিক্রি হয়েছিল রেকর্ড ভেঙে। অন্য গায়ক ও সংগীতজ্ঞ আসতেন বাইরে থেকে। একবার এলেন দিলীপ রায় এবং মাতিয়ে দিয়ে গেলেন। আর একবার এলেন আলাউদ্দীন খাঁ, যিনি সৃষ্টি করলেন ইন্দ্রজাল। নজরুল ইসলাম এসেছিলেন— যেখানে ডাকা হয় সেখানেই আবৃত্তি করতেন। “বিদ্রোহী" আর গেয়ে শোনালেন “দুর্গম গিরি কান্তার মরু”। (আট দশক—ভবতোষ দত্ত। পৃ. ৫৪ )
ঢাকা যখন
-
...গান-বাজনার পথটা ঢাকায় তিরিশ দশকেও বড়ো হেয় বলে গণ্য করা হত। কিন্তু সেইসঙ্গে একদিকে স্বদেশি গানের রেয়াজ আর অন্যদিকে ছিল ব্রহ্মসংগীতের প্রচলন। দেশাত্মবোধক নানা গানের প্রচলনের সঙ্গত কারণ ছিল। মুকুন্দ দাসের যাত্রা ঘুরে ফিরে পাড়ায় পাড়ায় চলত। দ্বিজেন্দ্রলালের নাটকের গানগুলোও প্রচলিত হয়েছিল। বিপ্লবী ভূপেন রক্ষিতে পিতা যোগেশ রক্ষিত, রবীন্দ্রনাথ, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলালের গান শেখাতেন। তখন বাড়ির মেয়েরা, যারা স্কুলে যেত, তাদের মধ্যে হারমোনিয়াম বাজিয়ে সা রে গা মা সাধার প্রচলন হয়েছে। নিতান্ত ছেলেবেলায় স্কুলের প্রাইজ বিতরণী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের গান করেছিলাম । সেই থেকে বাড়িতে বাধা সত্ত্বেও গানের টান থেকে গেল। পাড়ায় কিশোরদের থিয়েটারের জন্য দাদার (বিপ্লবী অনিল রায়) ডাক এল। লীলাদির
-
বাংলার প্রথম মোগল গভর্নর ইসলাম খান', যাঁকে ঢাকার পুনরুজ্জীবিত আবাদীর প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয়, তিনি এখানে মাত্র ৫ বৎসর ৩ সপ্তাহ ১৯ দিন বসবাস করেন এবং তাঁর পুরা শাসনকাল অধিকাংশই যুদ্ধ বিগ্রহের ব্যবস্থাপনায় অতিবাহিত হয়েছে। মিস্টার শার্লীমেন তাঁর বাংলার ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, ইসলাম খানের দরবারে বার শত 'কাঞ্চনী", নর্তকী চাকরিরত ছিল, যাদের পেশা ছিল নাচ-গান। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম খানের ঢাকায় আগমনের পূর্বেই ঢাকা যথেষ্টভাবে জন অধ্যুষিত ছিল এবং এখানে গান বাজনার প্রচুর চর্চা ছিল, অন্যথায় হঠাৎ করেই অথবা এত কম সময়ের মধ্যে বার শত কাঞ্চনী কোথা থেকে আগমন করবে? ইবনে বতুতার কাছ থেকেও এর সত্যতা
-
লোক মারফৎ নির্দেশ চলে এল। একটি চিঠি নিয়ে এসেছে ছেলেটি। চিঠির মধ্যে জরুরী নির্দেশ, আমাকে অবিলম্বে ১ নং ঢাকেশ্বরী মিলের কবির দল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে। শুধু বেরিয়ে পড়া নয়, সেই দলের নেতৃত্বও নাকি আমাকেই করতে হবে। একবার ভেবে দেখুন ব্যাপারটা। কবি গানের সঙ্গে আমার কোনো কালেই তেমন ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল না। আর বেছে বেছে সেই দলের অধিকারী মনোনীত করা হয়েছে আমাকে! অতি বড় বীরপুরুষও অনুরূপ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে পারে না-আমি তো কোনো ছার।
১৯৪৬ সালের কথা। সাধারন নির্বাচন আসন্ন। তখন কমিউনিষ্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল না, অন্যান্য পার্টির মতো তারাও প্রকাশ্যে কাজ করবার অধিকারী ছিল। নারায়ণগঞ্জ মহকুমা ও ঢাকা
-
পূর্ব বাংলায় বর্তমানে একটি অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ রচিত হয়েছে বলে আমবা অনেক সময়েই দাবি করি এবং গর্বিত হই। কোনো একজন মানুষ অথবা একটি প্রতিষ্ঠানের নয় বরং বহুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই পূর্ব বাংলার সংস্কৃতির এ রূপান্তর ঘটতে পেরেছে। সরকারি প্রতিকূলতা কী করে একটি মহৎ কাজে অন্যথায় নিষ্ক্রিয় মানুষকে সকর্মক করে তুলতে পারে, তার চমৎকার দৃষ্টান্ত দেখতে পাই রবীন্দ্রশতবার্ষিকী উৎসবকে কেন্দ্র করে। বাঙালি সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা তখনো যথেষ্ট ছিলেন না পূর্ব বাংলায়। তবু অনেকেই ছিলেন। এরা শতবার্ষিকীর কিছুকাল আগে ঠিক করেন যে, সাড়ম্বরে তাঁরা শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালন করবেন রাজধানী ঢাকাতে। জাস্টিস মুরশেদ, প্রেস ক্লাব ও বেগম সুফিয়া কামালের নামে এরা তিনটি
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
উৎস
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.