ঢাকার সংগীত সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড
বাংলার প্রথম মোগল গভর্নর ইসলাম খান', যাঁকে ঢাকার পুনরুজ্জীবিত আবাদীর প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয়, তিনি এখানে মাত্র ৫ বৎসর ৩ সপ্তাহ ১৯ দিন বসবাস করেন এবং তাঁর পুরা শাসনকাল অধিকাংশই যুদ্ধ বিগ্রহের ব্যবস্থাপনায় অতিবাহিত হয়েছে। মিস্টার শার্লীমেন তাঁর বাংলার ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, ইসলাম খানের দরবারে বার শত 'কাঞ্চনী", নর্তকী চাকরিরত ছিল, যাদের পেশা ছিল নাচ-গান। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম খানের ঢাকায় আগমনের পূর্বেই ঢাকা যথেষ্টভাবে জন অধ্যুষিত ছিল এবং এখানে গান বাজনার প্রচুর চর্চা ছিল, অন্যথায় হঠাৎ করেই অথবা এত কম সময়ের মধ্যে বার শত কাঞ্চনী কোথা থেকে আগমন করবে? ইবনে বতুতার কাছ থেকেও এর সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি বলেন যে, বাংলাদেশে খুবই কম মূল্যে এমন ক্রীতদাসী পাওয়া যেত যারা ফার্সি গজল ভাল গাইত। যা হোক, সাধারণভাবে বাংলা এবং বিশেষভাবে ঢাকা প্রাচীনকাল থেকেই সঙ্গীতানুরাগীতার দিক থেকে বিখ্যাত ছিল।
এটা বাস্তব যে, ঢাকার লোকেরা অনেক রসিক। বলা হয়ে থাকে যে, যেমন লক্ষ্মৌর সাধারণ লোক সুর এবং লয়ের পার্থক্য জানে অনুরূপ ঢাকাবাসীও কী হিন্দু, কী মুসলিম, সকলেই তাল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এমন লোক এখানে অনেক পাওয়া যাবে যে, যাদের মৌলভীআনা চালচলনের জন্য কেউ ধারণাই করতে পারবে না যে জনাবের গান বাজনাতেও দখল আছে। সাধারণ লোকের মাঝেও এই (তাল, সুরের) পার্থক্য বুঝার শক্তি ছিল যে, (গান শুরু হতেই) আগত রাগরাগিণীর নাম নির্বিবাদে বলে যেতে পারত এবং তাদের সামনে অসময়োচিত কিছু অবতারণা করা হলে আপত্তি তুলত। বিত্তবানদের মধ্যে তো প্রত্যেক জায়গাতেই গান বাজনার আকাঙ্ক্ষা কমবেশি বিদ্যমান কিন্তু ঢাকার জনসাধারণের মাঝে বাংলার অন্যান্য স্থানের চেয়ে এই আকাঙ্ক্ষা বেশি রয়েছে এবং সব সমইে তারা তাদের এই আকাঙ্ক্ষা অব্যাহত রেখেছেন। সুতরাং 'রিখতী" এর উদ্ভাবক সায়াদত ইয়ার খান রঙ্গিন গত হিজরী শতাব্দীর মাঝামাঝি ভ্রমণের উদ্দেশ্য ঢাকা এসেছিলেন। তিনি এখানকার ঘাটু' গানের উল্লেখ করেছেন এবং অনুরূপভাবে আগা সাদেক বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মীর্জা সাদেকের মুন্সী ১১২২ হিজরীতে তার গ্রন্থ "মাজমুআ-উল-ইন্শা" তে লিখেছেন ঘাটুর গান আমি দেখিনি কিন্তু এর কথা অবশ্যই শুনেছি এবং আজ ঘাটুর গান জানা লোক শহরে নাম মাত্র রয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম এর স্বরূপ সম্পর্কেও অজ্ঞাত যে, ঘাটুর গান আবার কী জিনিস? অবশ্য ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলায় এর চর্চা কিছু কিছু এখনও বাকি আছে। জানা নেই এই আকাঙ্ক্ষা কোথা থেকে এসেছিল এবং "ঘাটু" শব্দের উৎপত্তিই বা কী? যতদূর জানা যায় ঘাটু গান হলো কোন সুন্দর বালককে গান ও নাচের তালিম দেয়া, ঠুংরি এবং গজল মুখস্ত করান, উস্তাদদের গান এবং স্থানীয় কবিদের গানও শেখান হতো। বেশির ভাগ মুসলিমরাই এর অনুরাগী ছিল এবং অধিকাংশ মহল্লাবাসীদের মধ্যে দল ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা থাকত। প্রথম কোন শক্তিশালী ব্যক্তি বালককে কাঁধে বসিয়ে নিত, সঙ্গে বড় জমায়েত থাকত যারা কাঁসর বাজাত এবং তাদের মধ্যে দু একজনের ঢোলও থাকত। মেয়েদের পোশাক ও গহনায় সজ্জিত বালক গান গাইত এবং গানের সঙ্গে সঙ্গে বলে যেতো, এটা শুরু। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বালক অনুরূপভাবে তার জবাব দিত। তারপর বালকদের মাটিতে নামিয়ে দেয়া হতো। অতঃপর নাচও শুরু হয়ে যেত। দর্শকরা চতুর্দিকে থাকত এবং প্রশংসা করে উৎসাহ দিত। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অধিকাংশই মারামারিতে সমাপ্তি লাভ করত, যাতে গরিব গায়ক বেশি মার খেতো অথবা তাকে অন্যদল জোর করে 'মালে গণিমতের" মতো ছিনিয়ে নিয়ে যেত এবং এটাই এর শেষ। সাধারণ জনতাই এই শখের অনুরক্ত ছিল এবং বংশীয় ভদ্রলোকেরা এর থেকে দূরে দূরে থাকতেন। এই শখকে লীলা এবং যাত্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। যাত্রা শহরের হিন্দু ভায়েরা শুরু
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments