-
লেফ্ট-রাইট-লেফ্ট। লেফ্ট-রাইট-লেফ্ট। এভাবেই রাজপথে মার্চ করে চলে পৃথিবীর সবদেশের সৈনিকেরা। এখন তোমাদের কাছে যে দেশের গল্প করব, সে দেশের সৈনিকেরা এক সময়ে ছিল পৃথিবীর সেরা সৈনিক। রাজপথ কাঁপিয়ে তারা যাত্রা করত পৃথিবীর নানা দিকে—অজানা নানা দেশ জয় করতে। তখন দেশটির নাম ছিল রোম, আর সে দেশের লোকদের বলা হতো রোমান।
সেই রোম বর্তমানে ইতালির রাজধানী। টাইবার নদীর তীরে অবস্থিত রোম ছিল সারা পৃথিবীর শক্তিকেন্দ্র। তখন প্রবাদ ছিল যে সব রাজপথই রোম নগরে গিয়ে শেষ হয়। অর্থাৎ রোমানরা দিগ্বিজয় করে সুন্দর রাজপথ নির্মাণ করেছিল অধিকৃত সব সাম্রাজ্য সহজে শাসন করার সুবিধার্থে। পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ চারিদিকে তখন তাদের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠার
-
নানাবাড়ির দোতলার দক্ষিণের শেষ ঘরটায় বসে ডিভিডিতে ‘অ্যানাকোন্ডা’ ছবিটা দেখছি আমরা চারজনে। লিলি খালা বসেছে খাটে, রবিন, মনি আর আমি মেঝেয়, পুরু কার্পেটে। কিছুক্ষণ আগে লিলি খালা ডিভিডির কপিটা নিয়ে এসেছে রাস্তার মোড়ের আনন্দ ভিডিও থেকে, সাথে জুটে গেলাম আমরা তিনজনও। ওদিকে ছবিটি শুরু হতে-না-হতেই ননী মামা এসে হাজির, আমাদের পিছন থেকে টিভির দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। পরে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল।
রোমহর্ষক সিনেমা। একদল অভিযাত্রী একটা বৈজ্ঞানিক অভিযানে যায় ব্রাজিলের আমাজান জঙ্গলে। সেখানেই পড়ে যায় ভয়ঙ্কর এক অ্যানাকোন্ডা সাপের পাল্লায়। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় অভিযাত্রীদেরই। কিন্তু প্রায় পুরো ছবিতেই সাপটার ভয়াবহ কাণ্ডকারখানা দেখে সত্যিই গায়ের রোম একেবারে
-
শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার আশার গুড়ে এক ট্রাক বালি ছিটিয়ে দিয়ে বৃষ্টিটা শুরুই হয়ে গেল। প্রথমে টিপটিপ ইলশেগুড়ি বৃষ্টি। আমরা এই ইলশেগুড়িকে পাত্তা না দিয়ে নিজেদের কাজ চালিয়েই যেতে থাকলাম। কিন্তু সময় যতই এগিয়ে যেতে থাকল বৃষ্টির তোড়ও ততই বাড়তে থাকল এবং খুব অল্প সময় যেতে-না-যেতেই তা ঝমঝমে বৃষ্টিতে রূপান্তরিত হলো।
খোলা আকাশের নিচে চাই করা সব জিনিসপত্র নিয়ে আমরা সবাই একেবারে আকূল-পাথারেই পড়ে গেলাম। ‘কী করব, কী করব’ কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। শেষে লিলিখালা কো ত্থকে যেন একটা বিশাল পলিথিনের পর্দা এনে ক্রিকেট-পিচ ঢাকার মতো করে চুলো আর খাবার দাবার সব ঢেকে দিল। নইলে সব ভিজে একাকার হয়ে একেবারে
-
নানাবাড়ির ড্রয়িংরুমের নরম কার্পেটে বসে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখছি রবিন, মনি আর আমি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ান ট্রফির ফাইনাল খেলছে ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমরা তিনজনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাপোর্টার। ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করে মাঝারি ধরনের একটা স্কোর করেছে। কিন্তু ওই রান চেজ করতে গিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রায় সব ব্যাটসম্যান একেবারে কুপোকাত। কিন্তু শেষদিকে ব্রাডস ও ব্রাউনের দুর্দান্ত লড়াই খেলাটাকে দারুণভাবে উপভোগ্য করে তুলল।
আমাদের একটু পেছনেই বড় সোফাটায়ার খুব আয়েশী ভঙ্গিতে বসে সত্যজিৎ রায়ের জমজমাট গোয়েন্দা কাহিনি ‘দার্জিলিং জমজমাট’ পড়ছে টুটুল মামা। মাঝে-মধ্যে আবার ঢাউস সাইজের একটা নোটবুকে কী যেন লিখছে আর হাসছে মুচকি মুচকি।
খেলা শেষ। শেষ পর্যন্ত জিতে গেল ওয়েস্ট
-
এর আগের গল্পগুলোতে তোমরা জানতে পেরেছ যে বিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে এবং সে সময়টি ছিল যিশুখ্রিস্ট জন্মের কয়েক শতাব্দী আগে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা বাধা পায় খ্রিস্ট জন্মের কয়েকটি শতাব্দী পর—আর সে বাধার মূল কারণটি কিন্তু তারই প্রচারিত নতুন ধর্ম-খ্রিস্ট ধর্ম। কীভাবে এ বিষয়টি ঘটলো, সেটাই এখন তোমাদের সংক্ষেপে বলছি। আর ধর্মের সে বাধাটি জয় করে তার হাজার বছর পর বিজ্ঞান আবার আমাদের ফিরে এলো—সে গল্পটিই হচ্ছে রেনেসাঁ বা নবজাগরনের গল্প। তাহলে এসো, সে গল্পটিই এখন কাছে শোনা যাক।
ইউরোপে খ্রিস্টান ধর্মের উত্থান শুরু হয় চতুর্থ শতকে, যখন রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন নিজে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহন
-
সংস্কৃতির সাধনা মানুষকে মানবিক করে তোলে, তাকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ করে। শুধু মানুষ-সমাজ বা রাষ্ট্র নয়, মূলত তাকে জীবনের প্রতি, প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীল করে বিশ্বদৃষ্টিসম্পন্ন করে তোলে। অগণিত মানুষের মাঝে সে তার কৃত্তির স্বাক্ষর রেখে যেতে পারে। উদীচীর প্রয়াত সভাপতি বদিউর রহমান তাঁর কৈশোর থেকেই এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়কে অতিক্রম করেও হয়ে উঠেছিলেন সেরকম এক ফলবান বৃক্ষ। হাসিমূখে জয় করে নিয়েছিলেন পরম দুঃখকেও। তাঁর প্রতি আভূমিনত শ্রদ্ধা।
বদিউর রহমান জন্ম নিয়েছিলেন ১৯৪৭ সালের ১৫ জানুয়ারি বরিশালে। তাঁর বাবা হাবিবুর রহমান ছিলেন রাজনীতি সচেতন একজন মানুষ। তিনি এ কে ফজলুল হকের কেএসপি’র সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে যুক্ত ছিলেন। মা
-
নৌবহরের গল্পের সাথে যে সাগরটির নাম সবচেয়ে বেশী জড়িত, তার চারদিকে তিনটি মহাদেশের ভূমি—এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ। তাই অজানাকাল থেকে সে সাগরটির নাম ভূমধ্যসাগর। সে সাগরে প্রাচীন যে নৌবহর ভাসত, তার জাহাজগুলো অবশ্য এখনকার বিরাট বিরাট যান্ত্রিক জাহাজের মতো ছিল না। ছিল কাঠের তৈরি বড় বড় নৌকা। সেগুলো চলত পালের হাওয়ায় আর ক্রীতদাসদের অমানুষিক পরিশ্রমে বাওয়া লম্বা লম্বা দাঁড়ের শক্তিতে।
ভূমধ্যসাগরের একদিকে ফিনিশিয়া নামে এক প্রাচীন রাজ্য ছিল। ফিনিশিয়রা ছিল সে যুগের সবচেয়ে নামকরা বণিক—একজায়গা থেকে পণ্যসামগ্রী কিনে অধিক লাভে অন্য জায়গায় তারা বিক্রি করত। তাদের নাবিকরা সুদক্ষ হওয়ায় জাহাজগুলো দ্রুত চলতে সক্ষম ছিল। ফিনিশিয়রা সাগর পাড়ি দিয়ে দেশে দেশে
-
সকালের নাস্তা সকাল-সকাল শেষ করার জন্য বড় বড় নাস্তার ডিমগুলি সামনে রেখে আমরা সবাই গোল হয়ে বসে আছি। নানাবাড়ির রান্নাঘরের লাগোয়া ঘরটার মেঝেতে পাটি বিছিয়ে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। লাল আটার মোটা মোটা রুটি, বুটের ডাল, পাঁচ রকমের মিশেলে দেওয়া সবজির নিরামিষ, গরুর মাংসের ভুনা, নারকেলের সন্দেশ আর রসমালাই নিয়ে নানাভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছি, তিনি এলেই খাওয়া শুরু হবে। এত সব খাবার অবশ্য প্রতিদিন হয় না। ঢাকা থেকে মেজ খালারা এসেছেন, তাদের জন্যই এই স্পেশাল আয়োজন।
পুবের ঘর থেকে নানাভাইয়ের কোরান-শরিফ পড়ার মিষ্টি করুণ সুর ভেসে আসছে। তিনি সকাল সাতটা পর্যন্ত কোরান-শরিফ পড়বেন সে তো এখনও প্রায় দু’তিন মিনিট বাকি।
-
গতকাল বিকালে আমাদের হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। এখন বেশ কদিন আর আমাদের স্কুলে যেতে হবে না। আমাদের স্কুলের নিয়ম হচ্ছে হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষার পর দশ থেকে বারোদিনের ছুটি। ছুটির দিনগুলিতে টিচাররা আমাদের খাতাগুলি দেখবেন আর আমাদের ফেল করাবেন। ছুটির শেষে তারা খুব হাসি-হাসি মুখ করে ক্লাসে ঢুকবেন। হাতে খাতাগুলি তো থাকবেই আরও থাকবে তিন-চারটা করে বেত। ফেল-করাদের পিঠে পড়বে চারটা-পাঁচটা ছ’টা করে বেত।
তবে মার থেকে বাঁচতে আমরাও করি নানান রকম কারিগরি। যেমন মাজুল মামা স্কুলে যায় ‘অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে’ মনি-রবিনের কাঁধে ভর দিয়ে। ওর মুখের দিকে চেয়ে বেত মারা তো দূরের কথা ওকে দুদিনের ছুটি দিয়ে দেন ক্লাস-টিচাররা। রবিন
-
রবিনের হাতে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা কাহিনি ‘দার্জিলিং জমজমাট!’ মনির হাতে ক্রীড়া-লেখক কাজী আবদুল আলীমের ‘খেলাধুলার আইন কানুন’ আর আমার হাতে প্রজাপতি প্রকাশনার বাংলা-অনুবাদ রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ‘ট্রেজর আইসল্যান্ড’। তিনজনের হাতেই বই কিন্তু কেউ পড়ছি না। পড়ার মতো মনের অবস্থা নেই কারও। তিনজনের মুখই খুব গম্ভীর, ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসছি তিনজনই’।
শেষ পর্যন্ত আমিই প্রথমে একটু সামলে নিলাম। মনের রাগটা ভিতরে রেখেই রবিন-মনির গম্ভীর মুখের দিকে চেয়ে একটা গদগদমার্কা হাসি দিয়ে খুব নরম গলায় বললাম, ‘তা-হলে চল ময়নামতি। কুমিল্লা তো কাছেই, পয়সা খরচও কম হবে। ময়নামতি পাহাড় আর লালমাই পাহাড় তো দেখলামই, অষ্টম শতকে বানানো বৌদ্ধদের শালবন বিহারও দেখলাম। এ-ছাড়া ক্যান্টনমেন্টে
-
নানাবাড়ি পুকুরঘাটে কাত হয়ে থাকা ঝাকড়া-পাতার চালতা গাছটায় বসে ভীষণ জটিল এবং চরম আপমানজনক একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করছিলাম আমরা চারজন অর্থাৎ দুলুমামা, রবিন, মনি আর আমি। সবার মুখই খুব গম্ভীর, রাগে থমথমে, উত্তেজনায় লাল। কেউ কোনো বলছে না। আসলে কথা বলার মতো মনের অবস্থাই নেই কারও।
বিষয়টা খুলেই বলি তা হলে—
আমাদের তোতা মামা থাকেন কানাডায়, সেখানেই চাকরি করেন, প্রচুর আয়-রোজগার। কদিন আগেই তিনি বাড়িতে বেশ কিছু টাকা পাঠিয়েছেন। কেন জানি, সেই টাকা পাওয়ার পর থেকেই বাড়ির প্রায় সবাই খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, শরীর স্বাস্থ্যের হয়ে যাচ্ছিল চরম অবনতি। সমুদ্রের বাতাস গায়ে না লাগালে নাকি সেই স্বাস্থ্য উদ্ধারের আর
-
দিনের পর দিন দারুণ গরমে আমরা সবাই একেবারে নাস্তানাবুদ। সকাল থেকেই শুরু হয় নতুন ব্লেডের মতো ধারালো রোদ্দুরের ঝালাপালা, সারাদিন চলতেই থাকে, মনে হয় যেন রুটি সেঁকার একটা গনগনে তন্দুরে আমাদের ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। পার্থক্যের মধ্যে তন্দুরের রুটিগুলি সেঁকা হয়ে গেলে লম্বা একটা শিক বিঁধিয়ে তুলে আনা হয়, আমাদের তোলা হচ্ছে না, সেঁকতে সেঁকতে মচমচে করা হচ্ছে।
আর বাতাসও নেই বললেই চলে। মাঝে মধ্যে বইছে যা-ও বইছে সে-ও আগুন-গরম। শরীরটা ঠান্ডা তো হয়ই না বরং চোখে মুখে ফোস্কা পড়ার অবস্থা।
ইকবাল মামার ধারণা, সূর্যটা ক্রমশই নিচের দিকে নামছে, অচিরেই মানুষের মাথার উপর চলে আসবে এবং রোজ-কিয়ামত হয়ে যাবে। সকালে ঘুম
ক্যাটাগরি
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.