-
লেংগুরা কলমাকান্দা থানার একটি গ্রাম। গুণেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এই গ্রামটি হাজং-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ ও সরকারের দৃষ্টির সামনে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে নিয়েছিল। শুধু লেংগুরা নয়, এই লেংগুরকে কেন্দ্র করে গুণেশ্বরীর এপারে ওপারে কৃষক আন্দোলন ব্যাপকভাবে ও দৃঢ়ভাবে সংগঠিত হয়ে উঠেছিল। এই অঞ্চলে বহু সচেতন ও সক্রিয় কর্মী লাল ঝাণ্ডার নীচে এসে সমবেত হয়েছিল। সমগ্র পাহাড় অঞ্চলে সংগ্রামী হাজং-কৃষকদের এইটিই ছিল সর্বপ্রধান দুর্গ।
এই লেংগুরা অঞ্চল আরও একটি ঐতিহ্য বহন করে আসছিল। এই অঞ্চলের হাজং কৃষকরা ইতিপূর্বে আরও একটি আন্দোলন করে এসেছে। তবে সেই আন্দোলন কৃষকের অর্থনৈতিক দাবী-দাওয়া নিয়ে নয়, সেই আন্দোলন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী স্বাধীনতার আন্দোলন—সমগ্র ভারত ব্যাপী
-
জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁদের নাম বিশেষ ভাবে স্মরণীয়। কিন্তু নিজেদের ইতিহাস সম্বন্ধে অজ্ঞতার ফলে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের ত্রুটি বিচ্যুতির দরুণ এই সমস্ত নাম বিস্মৃতির তলায় চাপা পড়ে যায়। এমনি একটি নাম বদরুদ্দিন তায়াবজী। ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টদের নামের ধারাবাহিক তালিকায় তাঁর নামটা খুঁজে পাওয়া যায় বটে, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। তাঁর দেশের মানুষ তার সর্ম্পকে খুব কম খবরই রাখে।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যখন প্রথম গঠিত হয়, সে সময় যে ক’জন নেতৃস্থানীয় মুসলমান তার সঙ্গে যোগদান করেন, নিঃসন্দেহে বদরুদ্দিন তায়াবজী তার মধ্যে প্রধান। তিনি সে সময় ভারতের একজন বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী মুসলমান হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এটা এখনকার মুসলমান সমাজ
-
দেওবন্দ এর শিক্ষাকেন্দ্র থেকে যারা স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্র নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ্ সিন্ধীর নাম উল্লেখযোগ্য। এক বিচিত্র চরিত্র, দীর্ঘকাল ধরে উল্কার মত জ্বলতে জ্বলতে চলেছেন, কিন্তু নিজে উল্কার মত পুড়ে ছাই হয়ে যাননি। বিপ্লবী ওবায়দুল্লাহ্ দেওবন্দ থেকে যে অগ্নিমশাল নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, তা নিয়ে দেশ-দেশান্তরে অক্লান্তভাবে ছুটে বেড়িয়েছেন।
জীবনের কৈশোর থেকে তার বিদ্রোহের শুরু। এ এমন এক বিদ্রোহের ডাক যার প্রেরণায় মানুষ পুরাতনকে ছেড়ে নুতন এবং নুতনকে ছেড়ে নুতনতর লক্ষ্যের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে ভয় পায় না। ১৮৭১ সালে পাঞ্জাবের শৈলকোট জেলায় এক সম্ভ্রান্ত শিখ পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ইসলামের উদার বাণীর অমোঘ আহ্বান শুনতে
-
আড্রিয়াটিক সাগরের তীরে ইউরোপীয় ক্ষুদ্র দেশ আলবেনিয়ার আয়তন ২৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার। ২৫ লাখ ১১ হাজার (১৯৭৯’র তথ্য) মানুষের এই দেশটি ১৯৪৪ সালের নভেম্বর মাসে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে সমাজতন্ত্রের পথে যাত্রা করে। দেশের অধিকাংশ মানুষ (৭০%) মুসলিম ধর্মাবলম্বী। বাকিদের ২০% অর্থোডক্স ও ১০% রোমান ক্যাথলিক। সুদূর অতীত থেকে দেশের মানুষ বিদেশী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে।
বিদেশী আধিপত্য
পর্বত ঘেরা, সাগর ধোয়া এই দেশটির সাথে ভৌগলিক কারণেই বাইরের যোগাযোগ খুব ক্ষীণ। দেশের প্রাচীন ইতিহাসও বাইরের দুনিয়ার কাছে অনেকটা রহস্যাবৃত। তবে ইউরোপের বিশেষত বলকান অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ইতিহাসের সাথে সঙ্গতি রক্ষা করে একথা ধারণা করা হয় যে, আলবেনিয়ার
-
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ১০ মাইলের মধ্যে অবস্থিত পশ্চিম গোলার্ধের একমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সন্ধিস্থলে আটলান্টিক মহাসাগর বিধৌত ১৬০০ দ্বীপের দেশ কিউবার আয়তন ১ লাখ ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার। তবে এই দ্বীপমালার মধ্যে কিউবা দ্বীপের আয়তনই সবচেয়ে বড় (৯৪%)। ১৭ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবীদের শাসন কায়েম হয়।
আগের কথা
কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের (১৪৯২) আগে কিউবার আদি অধিবাসীরা ছিল রেড ইণ্ডিয়ান। দেশটিতে সোনা-রূপার সন্ধান না পাওয়ায় ইউরোপীয় অনুসন্ধানী ও বসতি স্থাপনকারীরা কিউবাকে ছাড়িয়ে চলে যায় উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকায়। কিন্তু কালক্রমে স্পেনীয়রা এই দ্বীপের দেশে ঘাঁটি গেড়ে বসে। তাছাড়া অনেক ভাগ্যান্বেষী এবং উদ্বাস্তু ইউরোপ থেকে এখানে
-
১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় তখন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের অধিকাংশই পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিল। আজ ১৯৭১ সালে তাঁদের সকলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। বুদ্ধিজীবীদের মানসচৈতন্যের এই পরিবর্তন বিস্ময়কর হলেও অস্বাভাবিক নয়। দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একটি প্রবল প্রতিবাদ ছিল অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে। এই অর্থনৈতিক শোষণের ক্ষমতা ছিল যাদের, তারা সেই ক্ষমতার প্রয়োগে শিক্ষা ও রাজনীতি ক্ষেত্রে আপন প্রতিষ্ঠাকে সম্ভবপর করেছিল। তাই অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একটি রাজনৈতিক পরিমণ্ডল নির্মাণ করেছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্য। তখন অর্থনৈতিক ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বাংলাদেশের হিন্দু ভূস্বামীবৃন্দ এবং এই ক্ষমতার বলে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন অগ্রসর এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভের অধিকারী।
-
নজরুলের কারাদণ্ড হয়েছিল তাঁর নিজেরই প্রতিষ্ঠিত, ধূমকেতু’তে ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামে একটি কবিতা লেখার জন্য। নজরুলই বাংলার প্রথম দণ্ডিত লেখক নন। তাঁর আগে বেশ কিছু কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক সরকারী রোষে পড়েছেন ও দণ্ডিতও হয়েছেন। এক্ষেত্রে বিশেষ করে উল্লেখ্য, মুকুন্দদাস, সখারাম গণেশ দেউস্কর। কিন্তু নজরুলকে নিয়ে যেমন দেশজুড়ে আন্দোলন, বিক্ষোভ হয়েছে, তেমন অন্য কারো ক্ষেত্রে হয়নি। নজরুলকে কারারুদ্ধ করা হলে সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। এমন ব্যাপক প্রতিবাদের নানা কারণ আছে। যেসব বাঙালী সাহিত্যিক বা কবির বই ইংরেজ আমলে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল নিঃসন্দেহে নজরুল তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কবি। আর জনপ্রিয়তায় তিনি তো সমসাময়িক সকলের উপরে ছিলেন। সেযুগে তরুণদের মুখে মুখে ফিরত
-
এদেশে শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করার পাশাপাশি কমিউনিস্টরা প্রথম থেকেই নতুন ধারায় সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেন। সাম্যবাদ শুধু মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিই নিশ্চিত করে না, পুরনো শোষণভিত্তিক সমাজের মূল্যবোধের পরিবর্তে মানুষকে শোষণহীন সমাজ গড়ে তোলার কর্মীতে রূপান্তরের ভেতর দিয়ে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের সৃজনীশক্তি বিকাশের পথও উন্মুক্ত করে দেয় এবং সৃষ্টি করে নতুন যুগের নতুন মানুষ। কমিউনিজম এজন্যই সবদিক থেকে মানব মুক্তির এবং মানস মুক্তির মতবাদ। মানুষের চিন্তাজগতের এই পরিবর্তন বা মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত জীবন-ভাবনা অবশ্য সহজ-সরল পথে আপনা থেকে গঠিত হয় না। সেজন্য প্রয়োজন পুরনো, পশ্চাৎপদ, রক্ষণশীল, সামন্তবাদী, পুঁজিবাদী ভাবধারার বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম।
কমিউনিস্ট বুদ্ধিজীবীরা এই সংগ্রামে তৎকালীন বাংলাদেশে
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক (২)
- অমিত রঞ্জন দে (১)
- আব্দুল লতিফ (১)
- এম আর আখতার মুকুল (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (১)
- কে জি মুস্তফা (১)
- ড. ভেলাম ফন স্ক্রেন্ডেল (১)
- তপন কুমার দে (১)
- নজরুল ইসলাম (১)
- নিতাই দাস (১২)
- প্রক্রিয়াধীন (৪)
- মণি সিংহ (২)
- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম (২)
- মোহাম্মদ শাহ আলম (১)
- রণেশ দাশগুপ্ত (১)
- শওকত ওসমান (১)
- শিশির কর (১)
- সত্যেন সেন (২৪)
- সামিহা সুলতানা অনন্যা (২)
- সৈয়দ আলী আহসান (১)
- সৈয়দ তোশারফ আলী (১)
- হাসান তারেক (১)
- হাসান মুরশিদ (৫)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.