-
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পশ্চাতে সাংস্কৃতিক অনেক কারণ ছিলো, সন্দেহ নেই। বাঙালি সংস্কৃতিকে স্বাধীনতার পর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছেন পশ্চিমে পাকিস্তানি কায়েমি স্বার্থবাদীরা। কেননা পূর্ব ও পশ্চিমের অতি দুর্বল সাংস্কৃতিক যোগসূত্রকে তাঁরা মজবুত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণের কারণস্বরূপ অন্য একটি কথাও বিশেষভাবে মনে রাখা আবশ্যক যে পশ্চিম পাকিস্তানি শোষণকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের পথে পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে সহনীয় করে তুলতে চেয়েছিলেন শাসক সম্প্রদায়। সম্মানজনক শর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন জাতির সঙ্গেও বোধহয় সহাবস্থান সম্ভব, এবং তেমন অবস্থায়, একাত্মতা বোধ না করলেও, পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তান একটি ঢিলে কনফেডারেশনের অধীনে হয়তো বাস করতে পারতো। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর
-
আধুনিক দৃষ্টিতে জনশিক্ষা বলতে আমরা যা বুঝি ঊনবিংশ শতাব্দীতে তা ছিল না। জনশিক্ষার প্রতি সমাজের দৃষ্টিও সেভাবে আকৃষ্ট হয়নি। দেশের উচ্চ ও মধ্যবিত্তের ছেলেরাই কিছু কিছু শিক্ষার সুযোগ পেতো, বেশীর ভাগ গরীব অন্ত্যজ শ্রেণীর লোকেরা কোনরকম সুযোগ পেতো না।
স্যার জন শোরের শাসনকালেই (১৭৯৩-৯৮) ভারতবর্ষে জনশিক্ষার প্রশ্নটি সরকারী ভাবে উত্থিত হয়। তার Notes on Indian Affairs দলিলে তিনি এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন এবং মাতৃভাষার মাধ্যমে যাতে দেশের সাধারণ মানুষ শিক্ষালাভ করতে পারে তার জন্য তৎকালিক বিদ্যালয়গুলির উন্নতি সাধন ও প্রয়োজনবোধে নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
সুচিন্তিত সরকারী প্রচেষ্টা কিংবা দেশীয় বিদ্যোৎসাহী বা মিশনারীদের পদক্ষেপের পূর্বেই ১৮০০ সালে
-
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে বঙ্গসাহিত্য সম্বন্ধে দুটি বক্তৃতা লিখতে অনুরোধ করেছেন। আমিও তাতে স্বীকৃত হয়েছি।
বঙ্গসাহিত্য সম্বন্ধে অসংখ্য সন্দেহ এবং তর্কের অবসর আছে। প্রথম কথা হচ্ছে, সাহিত্য আমরা কা'কে বলি?—প্রসিদ্ধ ইতালীয় দার্শনিক Benedetto Croce একটি পুস্তিকা লিখেছেন, তা'তে তিনি প্রথমেই এই প্রশ্নটি করেছেন—Che cosa e arte? অর্থাৎ Art বস্তুটি কি? এবং উত্তরে যা বলেছেন, তা' সকলেই জানে; কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধিকাংশ লোকেই ভুল করে। এর পর তিনি Art-এর আটদশ রকম ব্যাখ্যার উল্লেখ করেছেন; ও অবলীলাক্রমে প্রত্যেকটি খণ্ডন করেছেন। এবং শেষে আর্ট বলতে কি বোঝায়, সে বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন।
বলা বাহুল্য এটি একটি দার্শনিক প্রশ্ন। আমি সাহিত্য সম্বন্ধে
-
মধ্যযুগের বাংলা সংস্কৃতি দীর্ঘ ইতিহাসের প্রান্তে এসে হারিয়ে ফেলেছিল তার প্রাণশক্তি। কারণ সে-সংস্কৃতিতে অখণ্ডতা ছিল হয়তো কোনো-একরকম, কিন্তু ছিল না বিস্তার ও বৈচিত্র্য, টিকে থাকার জন্য যা খুব জরুরি। উনিশ শতকের জাগরণ যাকে বলি, সেই ঘটনা মুক্তি এনে দিল বাঙালিকে তার সেই বদ্ধতা থেকে। এসে গেল আত্মবিস্তারের ও আত্মবিকাশের সুযোগ। বাঙালি আর শুধুই বাঙালি নয়, সে ভারতবাসী এবং কখনো-কখনো বিশ্ববাসী, আন্তর্জাতিক। রামমোহন রায় পরিচয় করিয়ে দিলেন আমাদের বেদান্তের ভারতবর্ষের সঙ্গে, আরবি তর্ক-বিজ্ঞানের সঙ্গে, সুফি প্রেমসাধনা ও খ্রিস্টীয় জীবনতত্ত্বের সঙ্গে। স্পেনের স্বাধীনতালাভে উল্লসিত ও নেপল্স-এর পরাধীনতায় মর্মাহত এই মনীষীই দিলেন আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রথম শিক্ষা। ডিরোজিও ও তাঁর শিষ্যরা তো বিস্তারের সেই সীমাকে
-
সংবাদপত্রের পূর্ণস্বাধীনতা পাকিস্তানে কোনো কালে ছিলো না। গত তেরো বছরের সামরিক শাসনের পূর্বে তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসনের কালেও না। কেননা, পাকিস্তান নির্মাতাগণ দেশে ঐক্য আনতে চেয়েছিলেন সত্যকে চাপা রেখে, তবু বাংলা দেশের সংস্কৃতি ও রাজনীতিক্ষেত্রে স্বল্পকালের মধ্যে যে বিপুল পরিবর্তন সূচিত হয়েছে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই পত্রপত্রিকা তাতে একটা সুবৃহৎ ভূমিকা নিয়েছে। বস্তুতপক্ষে, গণমাধ্যম হিশেবে পত্রপত্রিকা সকল দেশেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে, পূর্ব বাংলাতেও করেছে। বরং বলা যেতে পারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই করেছে। কেননা অধুনালুপ্ত পাকিস্তানের অন্য দুটি গণমাধ্যম বেতার ও টেলিভিশন ছিল পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে। এ দুটি প্রতিষ্ঠান জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত, লালিত অথবা উৎসাহিত করেনি, সারাক্ষণ সরকারি প্রচারেই আত্মনিয়োগ করেছে। কিন্তু মানুষ
-
পূর্ব বাংলার তীব্র ভাষা আন্দোলনের মুখে, প্রসন্ন মনে না হলেও, পাকিস্তান সরকার অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিশেবে বাংলার দাবিকে মেনে নিতে বাধ্য হন। ১৯৫৬ সালে গৃহীত পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি স্বীকৃত হয়। ১৯৬২ সালে তৎকালীন একনায়ক আইয়ুব খাঁর নির্দেশে তথাকথিত জাতীয় পরিষদের কর্তাভজা সদস্যবৃন্দ যে শাসনতন্ত্র রচনা করেন, তাতেও বাংলার দাবি গৃহীত হয়। এই শাসনতন্ত্রে বলা হয়, বাংলা ও উর্দু সকল শিক্ষা ও সরকারি কাজের বাহন হিশেবে ব্যবহৃত হবে। তবে তার পূর্বে এ ভাষাদ্বয়কে ব্যবহারোপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিতে হবে। ১৯৭২ সালে জাতীয় পরিষদ বিবেচনা করেন ইংরেজির পরিবর্তে আলোচ্য ভাষাদ্বয়কে সকল কাজে ব্যবহার করা যায় কি না। ভাষাকে গড়ে
-
দুর্বল ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান সুউচ্চ মিনারের পতন শুধু সময়সাপেক্ষ। চারিদিক থেকে টানা দিয়ে তার অস্তিত্বকে চিরস্থায়ী করার প্রচেষ্টা করতে পারেন গম্বুজনির্মাতা; কিন্তু পরিণতি তাতে অপরিবর্তিত থাকে। একথা পুনর্বার প্রমাণিত হয়েছে পাকিস্তানের ইতিহাস থেকে। জাতীয়তার একটি মিথ্যা সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে একদা পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিলো। মুহম্মদ আলী জিন্নাহ অথবা লিয়াকত আলী খান, মুখে যাই বলুন, ভালো করে জানতেন ধর্ম জাতীয়তার একমাত্র শর্ত নয়, সর্বপ্রধান শর্ততো নয়ই: অথচ পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানের বাস্তবিক ঐক্যসূত্রতো ধর্ম ব্যতীত অন্য কিছু নয়! এই মিথ্যা মিলনকে অমর করার জন্যে দূরদর্শী নেতারা স্বধর্মপ্রীতি, আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয় স্বধর্মান্ধতা ও পরধর্মের প্রতি বিজাতীয় ঘৃণাবোধ জাগিয়ে
-
পঁচিশে জুলাই মহাবোধি সোসাইটি হলে একটি সেমিনার আয়োজিত হয়েছিলো। বেরিয়ে আসছিলুম। দরজায় এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভারি সুন্দর চেহেরা, বয়স বাইশ-তেইশ। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বেশ তো বক্তৃতা করলেন: কিন্তু ১৯৪৭ সাল থেকে যত হিন্দু এসেছেন পূর্ব বাংলা ছেড়ে তাঁদের ঠেকালেন না কেন আপনাদের বঙ্গবন্ধু?’ আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলুম, ‘কখনকার কথা বলছেন?’ ভদ্রলোক বললেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে!’
জানি, এ প্রশ্ন-বিচ্ছিন্নভাবে শুধু এ ভদ্রলোকের নয়: বাংলা দেশ প্রসঙ্গে এ প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দেয়। কেউ মুখ ফুটে বলেন, কেউ বলেন না। এ প্রশ্ন মনে জাগাও অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমরা যেহেতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলুম, তাই প্রত্যক্ষ করতে পেরেছি কী করে পূর্ব পাকিস্তান পূর্ব
-
১৯৪০ সালে লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিলো। প্রস্তাবে বলা হয়েছিলো, কয়েকটি স্বশাসিত প্রদেশ নিয়ে একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করা হবে যে রাষ্ট্রে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হবে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এ প্রস্তাবে পাঁচটি শর্ত আছে। ক. ইসলামি সংস্কৃতি-চর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা, খ. হিন্দুদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে মুসলমানদের জন্যে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রগঠন: গ. এই নতুন রাষ্ট্রের জনগণের জন্যে অর্থনৈতিক সুবিচার সুনিশ্চিতকরণ: ঘ. জনগণের রাজনৈতিক অধিকার দান; ও ঙ. সম্পূর্ণ স্বশাসিত প্রদেশ গঠন।
কিন্তু এই শর্তগুলির প্রথম দুটি স্বীকৃত হলেও, অল্পকালের মধ্যে অন্য তিনটি শর্তকে অস্বীকার করার জন্যে একটি সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র হয়েছে।
এ কথা
-
ছায়া 'পূর্বগামিনী'। কিন্তু দুর্ভিক্ষের শুধু ছায়া নয়, দুর্ভিক্ষই আবার এসে গেল! কর্তৃপক্ষ এখনো জানাচ্ছেন, ‘সব ঠিক হ্যায়। এদিকে মফঃস্বল থেকে প্রতিদিন যে সংবাদ কাগজে প্রকাশিত হচ্ছে তাতে দেখছি চালের দর ২৫/৩০ টাকা ছাড়িয়ে দু'একখানে এখনি ৪০ টাকায় পৌঁছচ্ছে। সরকারের গুদামে চাল ক্রমেই কমে আছে—তারা আমন ফসল মোটেই সংগ্রহ করতে পারেনি—অবশ্য সরকারের নাম করে তাদেরই অনুগ্রহভাজন এজেন্টরা যে সে ফসল নিজেদের চোরাগুদামে সংগ্রহ করে বসে আছে, তাতে সন্দেহ নেই। অন্য দিকে আই. সি. এস ও মিলিটারি অফিসারের রাজত্বে সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টের গুদামে গুদামে যা চাল আটা আছে, তাও পচছে। এবার দুর্ভিক্ষ আরও ভয়ংকর হবার কথা। কারণ, একে 'ফসল ফলেছে কম; তাতে ভারতবর্ষ
-
১৯৩৯ সনের পূর্বেই পূর্ববঙ্গের ঢাকা ও অন্যান্য শহরে রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে নতুন ধ্যানধারণার সূত্রপাত হয়েছিল। বৃটিশ কারাগারগুলোতে যেসব রাজবন্দী ছিলেন তাঁদের অনেকেই জেলে থাকাকালীন মার্কসবাদের দিকে ঝোঁকেন এবং জেলের বাইরে এসে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সভাকে কেন্দ্র করে নতুন জীবন্ত প্রগতিশীল আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যে লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের একটি গরিষ্ঠ অংশ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে প্রগতিশীল চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত হন। এঁদের মধ্যে যেমন পুরোপুরি কমিউনিস্ট মতবাদের সমর্থক লেখক ছিলেন তেমনি অকমিউনিস্ট, সাধারণভাবে মানবতাবাদী বা হিউম্যানিস্ট লেখকও ছিলেন। এইসব লেখকদের সহায়তায় ঢাকায় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ স্থাপিত হয় ১৯৩৯ সনেই। ঐ বছরেই, সকলেরই
-
পঞ্চদশ শতকের শেষদিকে এক রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলার সালতানাত সংলগ্ন বর্তমান বিহার প্রদেশ এবং জৌনপুরের সালতানাত নিয়ে গঠিত উত্তর ভারতের অঞ্চলসমূহে ক্ষমতার ভারসাম্য বিনষ্ট করেছিল। ১৪৯৪ সালে লোদীরা জৌনপুর থেকে সারকীদের সমূলে উৎখাত করে এবং জৌনপুরের শাসক সুলতান হুসেন শাহ সারকী বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন। পরবর্তীকালে লোহানী আফগানরা দিল্লির লোদী সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং বিহারে একটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন। বাংলার সৌভাগ্য যে এই সংকটময় সন্ধিক্ষণে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের মতো একজন শক্তিশালী শাসক বাংলার সিংহাসনে আসীন ছিলেন। তাঁর পূর্বে অর্থাৎ শেষের দিকের ইলিয়াস শাহী শাসকদের পতনের পর এবং হাবশীদের (আবিসিনীয়দের) ক্ষমতা দখলের সময় থেকে
ক্যাটাগরি
উৎস
লেখক
- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক (২)
- অরুণ সেন (১)
- আসাদ চৌধুরী (১)
- ঋত্বিক ঘটক (৩)
- কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত (১)
- গজেন্দ্রকুমার মিত্র (১)
- গোপাল হালদার (১)
- ড. আব্দুস সাঈদ (১)
- নীহাররঞ্জন রায় (১)
- প্রক্রিয়াধীন (২)
- প্রমথ চৌধুরী (১)
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১)
- যতীন সরকার (১)
- রাজনারায়ণ বসু (১)
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১)
- সত্যেন সেন (১)
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১)
- সৈয়দ আলী আহসান (১)
- হাসান মুরশিদ (৭)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.