সাময়িকী
বাংলাপুরাণ প্রতিস্বর
বাংলাপুরাণ প্রতিস্বর হলো আমাদের নিজস্ব নির্মাণ—যেখানে ইতিহাস, সাহিত্য, এবং সংস্কৃতির গভীরতম স্তর থেকে উঠে আসে মৌলিক কণ্ঠস্বর। এখানে থাকে সেই সব মৌলিক লেখা, যা শুধু বাংলাপুরাণেই প্রকাশ হয়। সেই সব লেখকের লেখনীর মায়াজালে, প্রতিস্বর হয়ে ওঠে বাংলাপুরাণের আত্মার প্রতিধ্বনি—যা পাঠকের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে সংবেদন, প্রশ্ন, এবং প্রত্যয়।
-
এর আগের গল্পগুলোতে তোমরা জানতে পেরেছ যে বিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে এবং সে সময়টি ছিল যিশুখ্রিস্ট জন্মের কয়েক শতাব্দী আগে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা বাধা পায় খ্রিস্ট জন্মের কয়েকটি শতাব্দী পর—আর সে বাধার মূল কারণটি কিন্তু তারই প্রচারিত নতুন ধর্ম-খ্রিস্ট ধর্ম। কীভাবে এ বিষয়টি ঘটলো, সেটাই এখন তোমাদের সংক্ষেপে বলছি। আর ধর্মের সে বাধাটি জয় করে তার হাজার বছর পর বিজ্ঞান আবার আমাদের ফিরে এলো—সে গল্পটিই হচ্ছে রেনেসাঁ বা নবজাগরনের গল্প। তাহলে এসো, সে গল্পটিই এখন কাছে শোনা যাক।
ইউরোপে খ্রিস্টান ধর্মের উত্থান শুরু হয় চতুর্থ শতকে, যখন রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন নিজে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহন
-
[দুবাংলায় ছোটোকাগজ অসংখ্য, পছন্দেরও কমতি নেই—তালিকা দীর্ঘ, আবার প্রিয় সম্পাদক, প্রিয় কবি, প্রিয় গল্পকার, প্রিয় প্রবন্ধকার কিংবা চিত্রকর অনেকেই রয়েছেন; তবুও কেন জানি বিশেষ করে সেইসকল দিনের কথা মনে হয়, যখন ছোটো ছিলাম, মিশনারী স্কুলে পড়তাম, পঁচিশে ডিসেম্বর এলে বাবা দিতেন নতুন বছরের ডায়েরি আর শিশুবার্ষিকী, বাবা আজ নেই তবু সেসকল স্মৃতিমধুর দিনগুলি শীতের আবেশে ছড়িয়ে থাকে, ছড়িয়ে থাকে ছোটোকাগজ করার মূল প্রেরণাশক্তি দেয়াল পত্রিকার গল্পও। বন্ধুরা কে কোথায় ছড়িয়ে গেছে যার যার আপন কর্মে, বছরের কোনো কোনো দিনে কদাচিৎ দেখা হয়, এভাবেই বহমানতার ভেতর দিনগুলি। ছেলেবেলায় যে সপ্তবর্ণা দিয়ে পথচলা, সেই সময়ের পর অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছে, নির্মাণ হয়েছে
-
সাহিত্য একটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চর্চার মাধ্যমে হয়ে ওঠা চিন্তা, রুচি ও মননশীলতার শৈল্পিক পাঠকেন্দ্র। সাহিত্যে তাই সততা এবং নিষ্ঠার কমতি থাকলে, তা আর সঠিকরূপে বিকশিত হতে পারে না। ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটলে যেমন থমকে যেতে হয়, ঠিক তেমনিভাবে সাহিত্যের জন্য ব্যক্তির স্বাধীনভাবে পূর্ণ মনোনিবেশের মধ্যে দিয়ে চিন্তার উৎকর্ষ স্তরে পৌঁছতে হয়। ফলে সাহিত্য চর্চার জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা এবং সততার প্রয়োজন হয়।
বহুকাল আগে থেকে সাহিত্য চর্চা বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সত্যিকারের সাহিত্য নির্মাতা কখনও কিছুতে মাথা নত করে না, সাহিত্য সর্বদা সত্য ও সুন্দরের পথে অগ্রসরমাণ একটি প্রক্রিয়া। সমাজ বিনির্মাণে সাহিত্য চর্চার মানুষদের কদর সে কারণে অধিক। এরা রাষ্ট্র গঠন থেকে শুরু করে
-
ব্রাহ্মণ ব্রহ্মার মুখ হইতে হইয়াছিল, যখন হইয়াছিল, তখন হইয়াছিল, এখন তা অন্যেও যেরূপে হয়, ব্রাহ্মণও সেইরূপেই হয়, তবে আর ব্রাহ্মণত্ব রহিল কি করিয়া? যদি বল, সংস্কারে ব্রাহ্মণ হয়, চণ্ডালকে সংস্কার দাও, সে ব্রাহ্মণ হোক; যদি বল, বেদ পড়িলে ব্রাহ্মণ হয়, তারাও পড়ুক। যদি জন্মের প্রক্রিয়াই মানুষের মধ্যে দূরত্ব/বৈষম্য সৃষ্টি করার মূল ভিত্তি হয়, তবে বর্তমানে প্রক্রিয়া যখন সবার জন্য সমান—তখন সেই দূরত্ব/বৈষম্য ঘুঁচে যাওয়া কেন স্বাভাবিক বাস্তবতা হবে না?
‘প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন’ বইটিতে লেখক এরকম অনেক বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেছেন, প্রশ্ন করেছেন এবং পাঠককে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। তিনি প্রান্তিকতা ও বৈষম্যের ধারণার মূল জায়গায় আঘাত করতে চেয়েছেন। এই ধারাবাহিক
-
সুকান্ত! সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যে একটি অবিস্মরণীয় নাম, বিস্ময়কর প্রতিভা। তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু হয়েছে শিশুকালে ৯ বছর বয়সে। কিন্তু প্রকৃত সাহিত্যজীবন (১৯৪০-১৯৪৭) ৭ বছর। একুশে পা না দিতেই তিনি চিরতরে হারিয়ে গেছেন। তাঁর জীবনের বৃহৎ অংশ কাব্যচর্চা। সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও তাঁর পদচারণা ছিল। কাব্যক্ষেত্রে তিনি যে তীক্ষ্ণ ধীশক্তির পরিচয় দিয়েছেন, বিষয় ও বক্তব্যে যে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন এবং বিদ্রোহ, বিপ্লব ও শ্রেণি চেতনার সুর ধ্বনিত করেছেন তা পূর্বাপর কোন কবির মধ্যে দেখা যায় না। মানব মুক্তির মহান মন্ত্রকেই তিনি জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আর এ কাজে তিনি নিজেকে উজাড় করে সঁপে দিয়েছিলেন। ঠিক যেমনটি তিনি কাব্যে প্রকাশ করেছিলেন:
-
শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে দীর্ঘকালের আওয়ামী লীগ সরকারের অবসান ঘটেছে এবং দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ কোনদিকে এবং কী ধারায় অগ্রসর হবে তা নিয়ে একটি জাতীয় আলোচনা চলছে। দেশে যেন একনায়কত্বের পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সবাই একমত। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যে সংস্কারটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে তা হলো বর্তমান ‘উইনার টেকস অল’ (বিজয়ী কর্তৃক সমস্ত পাওয়া—সংক্ষেপে ‘বিসপা’) ভিত্তিক নির্বাচনব্যবস্থার পরিবর্তে আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থার প্রবর্তন। আনুপাতিক নির্বাচনে কোনো দলের পক্ষে সামান্য কয়েক শতাংশ ভোট বেশি পাওয়ার কারণে সংসদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা
-
তোমার অশরীরি উপস্থিতি কি ভয়ঙ্কর!
না, ভয়ের কিছু নেই, আমি ভূত-প্রেতের কথা বলছি না।
বলছি, তোমার শারীরিক উপস্থিতির চেয়ে
অশরীরী উপস্থিতি আমাকে নিয়ত উদ্বিগ্ন করে।
যখন ছিলে, ভাবনা বলতে ছিল শুধু—তুমি আছো।
আর আজ যখন নেই, অষ্টপ্রহর ভাবনা—তুমি নেই, অথচ ছিলে।
-
প্রাচীন পৃথিবীর সনাতন বিশ্বাস অনুসারে মানুষ ভাবত যে পৃথিবীর সবকিছুই পরিচালিত হয় এক ধরনের অপার্থিব সত্ত্বা দ্বারা। তাদের বলা হয়ে থাকে দেবতা এবং তাদের বাস আকাশে। তারা বিশ্বের প্রতিটি জীবজন্তু, মানুষ—এমনকি প্রেম, ভালোবাসা, যুদ্ধ, সংঘাত ইত্যাদি সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রন করেন। যদি তারা আমাদের ওপর খুশি থাকে, তাহলে আমরা পাই পর্যাপ্ত খাদ্য, পশু ও সম্পদ। আর যদি তারা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়, তাহলে আমাদের ওপর নেমে আসে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, ভূমিকম্প ইত্যাদি দুর্বিপাক। আর তাই স্তোত্র ও উৎসর্গের বিনিময়ে দেবতাদের তুষ্ট রাখতে সর্বদা নিয়োজিত থাকত যাজক ও পুরোহিতদের বিশাল এক বাহিনী।
কিন্তু আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা
-
শত বছর পূর্বে রাশিয়ায় ঘটে এক বিশ্বকাঁপানো ঘটনা, যা মানব সভ্যতার গতিপথ পাল্টে দেয়। দুনিয়াটা আর অতীতের ধারাবাহিকতায় অক্ষুণ্ন থাকে না, ছেদ ঘটায়। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচার থেকে নিজেদের মুক্ত করার এক মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে রুশ দেশের মেহনতি মানুষ। শোষণহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতার সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বহু যুগের অন্যায়-অবিচার-জুলুম-নিপীড়ন-ভেদাভেদ-অমর্যাদা-অধিকারহীনতার অবসান হয়। গোটা বিশ্বকে এক নয়া উন্নত মানবিক সভ্যতার পথ দেখায় তারা, যার নাম 'সমাজতন্ত্র'। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ায় এই সমাজতন্ত্র কায়েমের মহাকর্মযজ্ঞ দুনিয়া কাঁপানো ‘রুশ বিপ্লব’ রূপে খ্যাত। অতীতে নানা দেশে আরও অনেক বিপ্লব ঘটেছে। কিন্তু এসব বিপ্লব অধিকাংশ মানুষের ওপর মুষ্টিমেয়ের শোষণ-শাসন-নিপীড়নের অবসান ঘটায়নি। কেবল এসবের ধরন
-
লেখক, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সত্যেন সেন (১৯০৭-১৯৮১) কোনোটি বাদ দিয়ে কোনোটি করেননি। প্রয়োজনে সব কাজগুলো তিনি একই সঙ্গে করেছেন। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯২১ সালে মাহাঙ্গু বানিয়া বা বাউ-এর সঙ্গে তিনি টঙ্গীবাড়িতে এক জনসভায় যোগদান করে তাঁর জীবনের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে যায়। বাউ-এর মাধ্যমেই তিনি বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯২৪ সালে কলেজে পড়াকালে যোগ দেন বিপ্লবী দল যুগান্তর-এ। সে সময় ‘নবশক্তি’ পত্রিকায় কিছু কিছু কবিতা লিখেছিলেন বলেও জানা যায়। তারপরেই ১৯৩১ সালে ২৪ বছর বয়সে রাজনৈতিক কারণে জেল জীবন শুরু হয় অস্ত্রের মধ্যে তাঁর চিঠি পাওয়ার অপরাধে। তারপর জেল-বাহির-জেল এভাবে কেটে যায়। ১৯৬৮ সালের শেষভাগ পর্যন্ত প্রায় ৭৪
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- আন্দোলন
- জীবনী
- প্রতিস্বর
- লেখক
- স্মৃতিকথা
- নারীবাদী
- ভাষণ
- সমসাময়িক
- গণতন্ত্র
- গদ্য
- অস্ত্র
- প্রযুক্তি
- বিজ্ঞান
- আলোচনা
- ইংরেজি
- পুঁজিবাদ
- বই
- সমাজতন্ত্র
- সমালোচনা
- সাম্যবাদ
- মার্কসবাদ
- বিশ্ববিদ্যালয়
- মুদ্রণ ও প্রকাশনা
- ছোটগল্প
- নদী
- অনুবাদ
- নির্বাচন
- মুক্তিযুদ্ধ
- পাকিস্তান
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
- ভারত
- বিপ্লব
- মধ্যপ্রাচ্য
- সংঘর্ষ
- কিশোর
- প্রাচীন
- শিশুতোষ
- দর্শন
- কবিতা
- বিয়োগান্তক
- উদ্ভাবন
- জ্যোতির্বিদ্যা
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
লেখক
- অমিত রঞ্জন দে (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (২)
- এহসান হায়দার (২)
- কল্লোল বনিক (১)
- গোলাম মোরশেদ খান (৪)
- গ্রেস ব্ল্যাকলি (১)
- চন্দন লাহিড়ী (১)
- নজরুল ইসলাম (১)
- পারভেজ হোসেন (১)
- প্রমা ইসরাত (১)
- বিকাশ সাহা (২)
- ভার্জিনিয়া উলফ (১)
- মনি হায়দার (১)
- মিশেল ফুকো (১)
- মোহাম্মদ মাসুম (২)
- শাহীন রহমান (৩)
- সামিহা সুলতানা অনন্যা (১)
- সুপা সাদিয়া (১)
- সৈয়দ তোশারফ আলী (১)
- হরবোলা (২)
- হাসান তারেক (৪)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.