-
ফুল আর প্রজাপতি বাদে পৃথিবীতে যদি সুন্দর কিছু থাকে, তা হচ্ছে পাখি। তবে পাখির রাজ্যে কোনটি সবচেয়ে সুন্দর তা বলা কঠিন। কারণ, একেকটি পাখি একেক দিকে সুন্দর। এদেশের অনেক পাখির মেলায় সুন্দর পাখির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু কোনটি সুন্দরতম? সৌন্দর্য বিবেচনায় এদেশের পাখিদের মধ্যে মৌটুসি-নীলটুনিরাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। কারণ, এদের সৌন্দর্য সবখানেই ছড়িয়ে আছে কি গায়ের রঙে, কি ওড়ার ঢঙে, কি গান গাওয়ায়। সৌন্দর্য এদের বাসা তৈরিতে, খাদ্য সংগ্রহে, জীবনযাত্রায়। আর মৌটুসিদের মধ্যে সুন্দরতম হলো নীলটুনি।
নীলটুনিরা এদেশে প্রচুর সংখ্যায় আছে। শহর-বন্দর-গ্রাম-বন-জঙ্গল সবখানেই দেখা যায়। এরা দূর্গাটুনটুনি, বেগুনটুনি, মধুচুষকি নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Purple Sunbird ও বৈজ্ঞানিক নামCinnyris asiaticus
-
আমরা পাঁচ বন্ধু এ পাড়ায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীর দল হিসেবে পরিচিত। আমরা সবসময়ই নানা ধরনের গবেষণা নিয়ে মেতে থাকি। এসব গবেষণা করতে গিয়ে প্রতিদিনই কারো না কারো বাসায় কিছু না কিছু অঘটন ঘটছেই। তাই আমাদের নিয়ে বাবা মায়েদের অভিযোগের শেষ নেই। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রিমঝিম এবার ক্লাস ফোরে পড়ে। সেদিন রিমঝিম ডিমের উপর দিয়ে হাঁটার পরীক্ষা করতে গিয়ে বেশ কিছু ডিম নষ্ট করেছিল, সেজন্য সাজাও পেয়েছে। আমাদের নানা প্রশ্নের অত্যাচারে স্কুলের শিক্ষকরাও বিরক্ত। আমার বড় হয়ে অ্যাস্ট্রনট হওয়ার ইচ্ছা। মহাকাশচারী হয়ে গ্রহ থেকে গ্রহে ঘুরে বেড়াব আর গবেষণা করব।
আমাদের মধ্যে প্রকৃত বিজ্ঞানী সায়ন। ওর ঘরে ঢুকলেই তা বুঝতে পারা
-
আবহাওয়া এবং জলবায়ু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। সে হিসেবেই এর সঠিক যৌক্তিক ব্যাখ্যাটা আমাদের প্রত্যেকের জানা থাকা একান্ত জরুরীও বটে। এই আবহাওয়া কখনও বা নির্মল আরামদায়ক নরম, কখনও বা ভয়ঙ্কর হয়ে আমাদের জীবনযাত্রায় তীব্র আঘাত হেনে তছনছ করে দিয়ে যায় জনপদ, গ্রাম, শহর। প্রত্যেক ঘটনার নেপথ্যে অবশ্যই বিরাজমান থাকে কোন না কোন কারণ। হয়ত খুঁজে পেতে বয়ে যায় কিছুটা সময়। আবহাওয়ার এই বহুরূপিতার কারণ আজ আর অজানা কিছু নয়। কেন গরম লাগে? কেন শীত পড়ে? কেন বৃষ্টি হয়? কেন ঝড়? এসব প্রত্যেকটির আছে এক একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা, যোগ্য কার্যকারণ।
আবহাওয়া এবং জলবায়ুর সংজ্ঞাটা আমাদের
-
অনেক দিন ধরেই দার্জিলিং যাওয়ার ইচ্ছে ছিল আমার। গতবার গ্রীষ্মের ছুটিতেই কাজটা সেরে ফেলার প্ল্যান করছিলাম বন্ধু মিজানের সাথে বসে। সব কিছু ঠিক-ঠাকও করে রেখেছিলাম মনে মনে। কিন্তু তখনও দুশ্চিন্তা ছিল—কিভাবে যাব, কোথায় থাকব-তা নিয়ে। বাস না ট্রেন, ট্রেন না এরোপ্লেন—এই তেটানা নিয়ে ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে এক ট্রাভেল এজেন্সির দারুণ অফারওয়ালা একটা স্পন্সরড এড চোখে পড়ল। খুশিতে ডগমগ হয়ে সেবারে দার্জিলিং ভ্রমণের একটা বিহিত করে ফেললাম সেই ট্রাভেল এজেন্সি থেকে। দার্জিলিং যাওয়ার পরেও থাকা-খাওয়াসহ আরো অনেক ব্যাপারে সাহায্য পেলাম ফেসবুক মারফত।
গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা প্রশ্ন সব চিন্তা-ভাবনা ওলট-পালট করে দিল। ফেসবুক জানল
-
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা বাঙালি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬)। বিজ্ঞান জগতে তাঁর সেরা অবদান হলো ‘তাপীয় আয়নন তত্ত্ব’। আর তাপীয় আয়নন ব্যাখ্যা করার জন্য যে সূত্র প্রণয়ন করেন তা ‘সাহা সমীকরণ’ নামে খ্যাত। জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানে একাধিক জটিল রহস্য উদঘাটনের জন্য তার সার্থক প্রয়োগ রয়েছে। ফলে এ-তত্ত্বটি বিজ্ঞান জগতে নতুন যুগের সূচনা করেছিলো। তার সুদূর প্রসারী প্রভাব ও পরবর্তীকালে লক্ষ্য করা গেছে। ১৯২০ সালে এ-তত্ত্বটি উদ্ভাবনকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন এবং তাঁর বয়স ছিলো ২৭ বছর। তাঁর এ-গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি সম্পর্কে সেকালের প্রতিথযশা জোতির্বিজ্ঞানী আর্থার স্ট্যানলি এডিংটন মন্তব্য করে বলেছিলেন যে, ‘গ্যালিলিওয়ের পর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে যে ১২টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের উল্লেখ
-
দেশের স্থান-ভুগোল ও জাতিগত পরিসর ভিন্নতায় কৃত্যের স্বর ও ভঙ্গিমা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু দেশের বাঙালি কি আদিবাসী জীবনে কৃত্যের দার্শনিক ভিত্তি একই। নিম্নবর্গের কৃত্য-র্দশন হলো, প্রাণ ও প্রকৃতির আরাধনা। প্রাণবৈচিত্র্য ঘিরেই আমাদের জীবনের গতি। প্রাণের বৈচিত্র্য বিনা আমরা কোনোভাবেই আমাদের জগত সংসারের উন্নয়ন বিকাশ চিন্তা করতে পারি না। কিন্তু তাই ঘটে চলেছে, নির্দয়ভাবে দেশের প্রাণের অসীম বিস্তার ও সম্ভবনাকে জোর করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ এমন এক পুঁজিবাদী করপোরেট অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছে যা কোনোভাবেই দেশের প্রাণ ও প্রকৃতির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও ৩০টি কৃষিপ্রতিবেশ, ১৭টি হাইড্রলজিক্যাল অঞ্চল, ২৩০টি নদ-নদী, দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত,
-
বিংশশতাব্দীর মহাদিকপাল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) এবং বিশ্ববিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)। প্রাচ্যের কবি ১৯১৩ সালে, আর পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানী ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার পেলেন। গত শতাব্দীর বিশের দশকের আগে এদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। কিন্তু উভয়ই উভয়কে জানতেন। তাঁদের চলার পথ ভিন্ন হলেও সত্যসন্ধানে তাঁরা ছিলেন একই আলোর পথযাত্রী। সত্য ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁরা প্রয়াসী ছিলেন। মানবতার সুমহান আদর্শকে তাঁরা উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। দু দুটি বিশ্বযুদ্ধের ফলে বিশ্বজোড়া অনাহার, অবদমন ও অশান্তির প্রতিটি দিকেই ছিল তাঁদের সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি। তাছাড়া স্ব-স্ব দেশে নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন এবং জনমত গঠনের প্রচেষ্টা নিয়েছেন। ১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ জালিয়ানওয়ালাবাগের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন এবং
-
প্রাচীনকালে গ্রিসের এথেন্স নগরীকে ঘিরে বিজ্ঞানচর্চার এক সমৃদ্ধ কেন্দ্র গড়ে ওঠেছিল। তা টিকেছিল প্রায় এক হাজার বছর। সেকালের বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানভাবনা, আজও আমাদেরকে বিস্মিত করছে। সেদিন যাঁরা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে প্রকৃতিবিজ্ঞানী থ্যালিস (খ্রি. পৃ. ৬২৪-৫৪৬), অ্যানাক্সিমেন্ডার (খ্রি. পৃ. ৬১০-৫৪৬), গণিতবিদ পিথাগোরাস (খ্রি. পৃ. ৫৭২-৪৯৭), জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যানাক্সাগোরাস (খ্রি. পৃ. ৫০০-৪২৮), চিকিৎসাবিদ হিপোক্রিটিস (খ্রি. পৃ. ৪৬০-৩৭০), বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস (খ্রি. পৃ. ৪৬০-৩৭০), বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এরিস্টটল (খ্রি. পৃ. ৩৮৭-৩২২), গণিতবিদ ইউক্লিড (খ্রি. পূ. ৩৪৭-২৮৭), বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এপিকুরাস (খ্রি. পূ. ৩৪১-২৭১), জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যারিস্টারচুস (খ্রি. পৃ. ৩২০-২৫০), গণিতবিদ আর্কিমিডিস (খ্রি. পৃ. ২৮৭-২১২), গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিপ্পারচুস (খ্রি. পৃ. ১৯০-১২০), চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালেন (১২৯-২০১
-
লেখক: আ ন ম আমিনুর রহমানজেমকন স্টেট হারবাল গার্ডেনের কর্মকর্তা অনুজ সাজ্জাদের আমন্ত্রণে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর দুর্গা পূজার ছুটি কাটাতে গেলাম পঞ্চগড়ে। ৬ অক্টোবর ওর সাথে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান ও চা বাগান ঘুরে দেখছিলাম। বেলা সাড়ে এগারটায় পুরনো তেঁতুলিয়ায় পৌঁছালাম। মহিষের এক পরিত্যক্ত বাথান দেখে গাড়ি থেকে নামলাম। সামনেই মহানন্দা নদী। হ্যাঁ, যাদের খুঁজছি এদিকেই তাদের পাওয়া যেতে পারে। অতএব, দেরি না করে নদীর তীর ধরে হাঁটা দিলাম। এদিক ওদিক তাকিয়ে হঠাৎ একজোড়া অন্যরকম পাখির দেখা পোলাম। হ্যাঁ, পেয়ে গেছি। ফোকাস করে যেই না ক্লিক করবো, পাখি দু’টো উড়ে গিয়ে মহানন্দার অন্য তীরে গিয়ে বসল। একেবারে সীমান্তের ওপারে।
-
লেখক: মীর মোশাররফ হোসেনআমরা বরং ‘অংক’ নিয়ে কথা বলি। ছোটবেলায় গণিতকে আমরা বেশিরভাগ সময়ই ‘অংক’ বলতাম। আমরা কেন, বোধকরি সিংহভাগ শিক্ষার্থী এখনও একে এ নামেই চেনে। অথচ ‘অংক’ হচ্ছে ‘গণিত’ এর যুক্তি বোঝানোর প্রতীক। গণিত যদি ভাষা হয়, অংক তাহলে অক্ষর; গণিত যদি যুক্তি হয়, অংক তাহলে ‘টুলস’।ছোট্ট এই পার্থক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্য। গণিতের ক্ষেত্রে যা ‘ভয়াবহতম’।II ১ IIঅন্য আলোচনায় ঢোকার আগে প্রথমে আমরা কিছু অনুষঙ্গ খুঁজি। এই যেমন গণিতে ‘ভালো’ হলে কি কি হয়? যেসব দেশের ছেলেমেয়েরা যুক্তিবাদী এবং অনুসন্ধিৎসু, সেসব দেশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় বিজ্ঞান, বিশেষত গণিত শিক্ষায়। অধুনা ইউরোপ
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.