বৈজ্ঞানিক এবং ভিন্ন একজন আইনস্টাইন
[এ বছর ২৫ নভেম্বর আপেক্ষিকতা তত্ত্বের শতবর্ষ পূর্তিতে লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হলো। ইতোপূর্বে লেখাটি ত্রৈমাসিক ‘নতুন দিগন্ত’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।]
II ১ II
ঠিক একশো বছর আগে, ১৯০৫ সালে চব্বিশ বছরের এক জার্মান যুবক সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে সুইস পেটেন্ট অফিসের নিম্নপদস্থ একজন কর্মচারী অফিস ছুটির শেষে জার্মান বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা ‘Annalen Din Physik’ এর ঠিকানায় একটি খাম পোস্ট বাক্সে ফেলে আসেন। খামের মধ্যে ছিল তিনটি ছোট বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। পেটেন্ট অফিসের সেই কর্মচারী যুবকের নাম আলবার্ট আইনস্টাইন। পদার্থবিদ্যার উপর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া সমাপ্ত করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে শিক্ষকতার কোন কাজ পাননি। তাই চাকুরী নিতে হয়েছিল পেটেন্ট অফিসে যেখানে বিজ্ঞানচর্চার কোন সুযোগই ছিল না। তবু কাজের ফাঁকে বিজ্ঞানবিষয়ক সমস্যা নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ ছিল অনেক। সেই কাজটিই করতেন যুবক আইনস্টাইন।
সেদিন যে তিনটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, তা জার্মান বিজ্ঞান পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। প্রবন্ধ তিনটির মধ্যে একটি ছিল ইলেকট্রনের Photoelectric Effect সংক্রান্ত। এই প্রবন্ধটি কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। সেজন্য সতেরো বছর পর ১৯২২ সালে তিনি নোবেল পুরষ্কার পান।
ঐ প্রবন্ধ তিনটির মধ্যে একটি ছিল আপেক্ষিকতাবাদ প্রসঙ্গে, যা আপেক্ষিকতাবাদের বিশেষ তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) নামে পরিচিত। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব ছিল আলোড়নসৃষ্টিকারী, যুগান্তকারী এবং পদার্থবিদ্যার ইতিহাসে এক বিপ্লব। শোনা যায়, জার্মান বিজ্ঞান পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলী নাকি প্রথমে ঐ প্রবন্ধটি ছাপতে রাজী হননি। তাঁদের কাছে সেটি ছাপার উপযোগী মনে হয় নি। মানবজাতির সৌভাগ্য যে, শেষ পর্যন্ত তা ছাপা হয়েছিল। এখানে উল্লেখ্য যে, ইতিহাসসৃষ্টিকারী আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বের জন্য কিন্তু তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি। প্রবন্ধটি ছাপা হবার পর তা অনেক প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিকদের চোখে পড়ে। এবং বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়। তাঁরা এই তত্ত্বকে মানতে পারেননি, কারণ চিরায়ত পদার্থবিদ্যার প্রচলিত ধারণার সঙ্গে তা একেবারেই খাপ খাচ্ছিল না। কিন্তু তাঁরা তরুণ বৈজ্ঞানিক আলবার্ট আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও গণিতের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ক্রমে ক্রমে বৈজ্ঞানিক আলবার্ট আইনস্টাইনের স্বীকৃতি এলো এবং ১৯০৯ সালে তিনি জার্মানীর জুরিক বিশ্ববিদ্যলয়ে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপকের পদ লাভ করলেন।
আপেক্ষিকতাবাদের বিশেষ তত্ত্ব রচনার এক দশক পর আইনস্টাইন রচনা করলেন আপেক্ষিকতাবাদের সাধারণ তত্ত্ব (General Theory of Relativity)। দুটো মিলেই হচ্ছে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ।
পদার্থ বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রেও আইনস্টাইনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এই নিবন্ধে সে-সব বিষয়ে আলোচনা করা হবে না। কেবল আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব সম্পর্কে কিছু ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হবে। এই তত্ত্বের দার্শনিক তাৎপর্যও তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে। সবশেষে আমরা বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইনের আরেকটি দিক, তাঁর দার্শনিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তা ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবো।
II ২ II
পদার্থ বিদ্যার আধুনিক যুগের শুরু ইতালির বৈজ্ঞানিক গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) ও ইংরেজ বৈজ্ঞানিক আইজ্যাক নিউটনের (১৬৪২-১৭২৭) সময় থেকে। এর আগে প্রাচীন ভারতে ও বিশেষ করে গ্রিক সভ্যতার যুগে এবং পরবর্তীতে আরবরা বিজ্ঞান ও গণিতের ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছিলেন, তাকে ঠিক আধুনিক অর্থে বিজ্ঞান বলা চলে না। প্রাচীন যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক ছিলেন অ্যারিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২)। মধ্যযুগে ইউরোপে জ্ঞানচর্চা ছিল প্রধানত চার্চকেন্দ্রীক। ধর্মীয় চিন্তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এমন বৈজ্ঞানিক চিন্তা ছিল দণ্ডনীয় অপরাধ। তাছাড়া অ্যারিস্টটলের চিন্তা গোটা মধ্যযুগকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে, তার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চাও ছিল প্রায় অসম্ভব। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরছে এই মত প্রকাশের জন্য ব্রুনোকে জীবন দিতে হয়েছিল। গ্যালিলিও নির্যাতিত হয়েছিলেন। প্রাচীন যুগের গ্রিক পণ্ডিত টলেমি পৃথিবীকে কেন্দ্রস্থলে রেখে চন্দ্রসূর্য তারকারাজির গতিপথের মডেল তৈরি করেছিলেন। তার বিপরীতে অন্য সম্ভাবনার কথা, অর্থাৎ পৃথিবীই সূর্যের চারপাশে ঘুরছে এটি স্পষ্ট বলেছিলেন কোপারনিকাস ১৫৪৩ সালে। কিন্তু তাঁর যুগান্তকারীDe
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments