-
দেশের স্থান-ভুগোল ও জাতিগত পরিসর ভিন্নতায় কৃত্যের স্বর ও ভঙ্গিমা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু দেশের বাঙালি কি আদিবাসী জীবনে কৃত্যের দার্শনিক ভিত্তি একই। নিম্নবর্গের কৃত্য-র্দশন হলো, প্রাণ ও প্রকৃতির আরাধনা। প্রাণবৈচিত্র্য ঘিরেই আমাদের জীবনের গতি। প্রাণের বৈচিত্র্য বিনা আমরা কোনোভাবেই আমাদের জগত সংসারের উন্নয়ন বিকাশ চিন্তা করতে পারি না। কিন্তু তাই ঘটে চলেছে, নির্দয়ভাবে দেশের প্রাণের অসীম বিস্তার ও সম্ভবনাকে জোর করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ এমন এক পুঁজিবাদী করপোরেট অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছে যা কোনোভাবেই দেশের প্রাণ ও প্রকৃতির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও ৩০টি কৃষিপ্রতিবেশ, ১৭টি হাইড্রলজিক্যাল অঞ্চল, ২৩০টি নদ-নদী, দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত,
-
বকপাখির ছদ্মবেশধারী ধর্ম জ্যেষ্ঠ-পাণ্ডব যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ন করেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্য কী? উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন, মানুষ অহরহ মৃত্যু দেখে কিন্তু আপন মৃত্যুর কথা ভুলে থাকে। হোমো সেপিয়েন্স অর্থাৎ মনুষ্যজাতির ক্ষেত্রে অভিধাটি প্রযোজ্য। মানুষ ব্যাপক প্রজাতিবিলুপ্তির তথ্য জানে এবং নিজেও অবিরাম প্রজাতিবিলুপ্তি ঘটিয়ে চলেছে। কিন্তু নিজের বিলুপ্তি কখনো ভাবে না।
প্রজাতি বিলুপ্তি একটি জীবতাত্ত্বিক বাস্তবতা তথা প্রকৃতির আমোঘ নিয়ম। এই ধ্বংসের মধ্যেই নিহিত সৃষ্টির বীজ এবং বৈচিত্র্যের ভিত্তি। জীবকুলের উৎপত্তির পর ভূ-তাত্ত্বিক কালপর্বে অজস্র প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছে। পৃথিবীতে উৎপন্ন প্রজাতির মাত্র ১.৬ শতাংশ আজ বেঁচে আছে। মানবজনমের আগে বারবার গণবিলুপ্তি ঘটেছে। সর্বশেষ ৬.৫ কোটি বছর আগে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল সামুদ্রিক প্লাংকটন, মেরুদণ্ডীর
-
প্রাচীনকালে গ্রিসের এথেন্স নগরীকে ঘিরে বিজ্ঞানচর্চার এক সমৃদ্ধ কেন্দ্র গড়ে ওঠেছিল। তা টিকেছিল প্রায় এক হাজার বছর। সেকালের বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানভাবনা, আজও আমাদেরকে বিস্মিত করছে। সেদিন যাঁরা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে প্রকৃতিবিজ্ঞানী থ্যালিস (খ্রি. পৃ. ৬২৪-৫৪৬), অ্যানাক্সিমেন্ডার (খ্রি. পৃ. ৬১০-৫৪৬), গণিতবিদ পিথাগোরাস (খ্রি. পৃ. ৫৭২-৪৯৭), জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যানাক্সাগোরাস (খ্রি. পৃ. ৫০০-৪২৮), চিকিৎসাবিদ হিপোক্রিটিস (খ্রি. পৃ. ৪৬০-৩৭০), বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস (খ্রি. পৃ. ৪৬০-৩৭০), বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এরিস্টটল (খ্রি. পৃ. ৩৮৭-৩২২), গণিতবিদ ইউক্লিড (খ্রি. পূ. ৩৪৭-২৮৭), বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এপিকুরাস (খ্রি. পূ. ৩৪১-২৭১), জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যারিস্টারচুস (খ্রি. পৃ. ৩২০-২৫০), গণিতবিদ আর্কিমিডিস (খ্রি. পৃ. ২৮৭-২১২), গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিপ্পারচুস (খ্রি. পৃ. ১৯০-১২০), চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালেন (১২৯-২০১
-
লেখক: আ ন ম আমিনুর রহমানজেমকন স্টেট হারবাল গার্ডেনের কর্মকর্তা অনুজ সাজ্জাদের আমন্ত্রণে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর দুর্গা পূজার ছুটি কাটাতে গেলাম পঞ্চগড়ে। ৬ অক্টোবর ওর সাথে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান ও চা বাগান ঘুরে দেখছিলাম। বেলা সাড়ে এগারটায় পুরনো তেঁতুলিয়ায় পৌঁছালাম। মহিষের এক পরিত্যক্ত বাথান দেখে গাড়ি থেকে নামলাম। সামনেই মহানন্দা নদী। হ্যাঁ, যাদের খুঁজছি এদিকেই তাদের পাওয়া যেতে পারে। অতএব, দেরি না করে নদীর তীর ধরে হাঁটা দিলাম। এদিক ওদিক তাকিয়ে হঠাৎ একজোড়া অন্যরকম পাখির দেখা পোলাম। হ্যাঁ, পেয়ে গেছি। ফোকাস করে যেই না ক্লিক করবো, পাখি দু’টো উড়ে গিয়ে মহানন্দার অন্য তীরে গিয়ে বসল। একেবারে সীমান্তের ওপারে।
-
মানুষ যখন এ পৃথিবীতে প্রথম আসে, তখন জীবন ও জগতের সবকিছুই ছিলো তার কাছে অজানা-অচেনা। প্রকৃতির কাছে মানুষ ছিলো অত্যন্ত অসহায় এক প্রাণী। সবকিছুতেই ছিলো তার ভয় আতঙ্ক ও রহস্যময়তা। ভয় থেকেই তার মনে বাসা বাধে সংস্কার। আর হাজার হাজার বছরের সংস্কারের পথ ধরে কুসংস্কারের রাজপথ, তৈরি হয় এবং তা মানুষের মনে স্থান লাভ করেছে। এ সম্পর্কে লুইস হুয়েনোর বলেছেন, ইবষরবভ রং ধং ড়ষফ ধং সধহ যরষংবষভ. কিন্তু প্রয়োজনই আবিষ্কারের প্রসূতি। কার্যকারণের দীপাশিখা নিয়ে এক সময় মানুষের কুসংস্কারের পাদপীঠে কুঠারাঘাত করা শুরু হয়। শুরু হয় সভ্যতা নির্মাণের ইতিহাস। তার পশ্চাতে বিজ্ঞানের অবদানের কথা আজ আর কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই।
-
লেখক: ডা. মো. তোফায়েল হোসেন
আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা এ সমস্যার প্রতিপাদ্যে দেখা যাচ্ছে দেহে আয়রনের ঘাটতি আছে এবং এ কারণে রক্তাল্পতা ধরা পড়েছে। চায়ে চিনি কম পড়লে আমরা চিনি দেই, তরকারীতে নুন কম পড়লে আমরা লবণ দেই, মোটর সাইকেল বা গাড়িতে পেট্রোল-অকটেনের অভাব পড়লে আমরা পেট্রোল-অকটেন ভরাই, মবিলের দরকার হলে মবিল দেই, ফুটা দিয়ে তেল পড়লে আমরা ফুটা ঠিক করাই, গাড়ির চাকার হাওয়া লিক করলে ছিদ্র সনাক্ত করে ঠিক করাই।
আয়রন কোথায় থাকে? আয়রন হিমোগ্লোবিনের হিম অণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। এ ছাড়া আয়রন মায়োগ্লোবিনের অংশ। বিভিন্ন কোষকলায় এনজাইম হিসাবে কাজ করে। জমা থাকে ফেরিটিন ও হিমোসাইডেরিন আকারে অস্থিমজ্জায়, লিভার
-
লেখক: মুহম্মদ আশরাফউজ্জামানযাদের জীবন আছে তাদের আমরা জীব বলি। বাকিরা জড়। এখন জীবন কি সেই প্রশ্নে আলোচনা স্থগিত রেখে এইটুকু মোটা দাগে বলা যায় জীব-জড় মিলিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ গঠন করে। জীবদের আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায় উদ্ভিদ ও প্রাণি। উদ্ভিদ ও প্রাণি যেমন এক অপরের উপর নির্ভরশীল তেমনি তারা উভয়েই জড়জগতের উপর ও নির্ভরশীল। তাই আমরা বলতে পারি যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার সার্বিক অবস্থাটাই হলো পরিবেশ। আমরা এটাও লক্ষ করবো যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য আছে। প্রকৃতি এই ভারসাম্য রক্ষা করে। চট করে বিনষ্ট হতে দেয় না।জীববিজ্ঞান পড়তে গেলে আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে বেশ
-
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা সম্ভব কি না, অথবা এর আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, সে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এমন আরও একটি ধারাবাহিক বিতর্ক ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ হলো, যে কোন বিতর্কের অনাকাঙ্খিত ব্যক্তিগত আক্রমণগুলো বাদ দিলে এই বিতর্কে বিজ্ঞান শিক্ষা, সমাজে বিজ্ঞান চেতনার বিস্তার এবং সাধারণভাবে এগুলোর সাথে মাতৃভাষায় শিক্ষার সম্পর্কের প্রশ্নটি উঠে এসেছে দারুণভাবে। এই বিতর্কটির সবচে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল দেশে এবং বিদেশে অগ্রগণ্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার সাথে জড়িত ব্যক্তিত্বদের পর্যবেক্ষণজাত মতামত এবং পরামর্শ।
শুরুটা হয়েছিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর একটা প্রশ্ন থেকে, বাঙলায় সেটা দাঁড়াবে এমন: তো ছেলে-মেয়েরা, বিজ্ঞানকরার সময়ে
-
[জন্ম: ১৫ এপ্রিল ১৪৫২, আনচিয়ানো, ভিঞ্চি, রিপাবলিক অব ফ্লোরেন্স (বর্তমানে ইতালি), মৃত্যু: ২ মে ১৫১৯, ফ্রান্স]
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ছিলেন ইতালিয় চিত্রকর, স্থাপত্য-নকশাকার, ভাস্কর, স্থপতি ও প্রকৌশলী। অন্য সকলকে ছাপিয়ে তিনি পরিণত হয়েছেন পুনর্জাগরণের (রেনেসাঁর) মানবতাবাদের সর্বোত্তম প্রতিনিধিতে। তাঁর লাস্ট সাপার ও মোনালিসা রেনেসাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাববিস্তারকারী চিত্রকর্মের মধ্যে অন্যতম। তাঁর নোটবইগুলোতে জানা যায় কয়েক শতকের অগ্রসর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসার আগ্রহ ও যন্ত্রকৌশলের উদ্ভাবনী চিন্তা।
তাঁর জীবনকালে তো বটেই এখন অব্দি যে অনন্য জনপ্রিয়তা লিওনার্দোর আছে তার মূলকারণ আসলে তার অপরিসীম জ্ঞান পিপাসা যা তার চিন্তা-ভাবনা ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করেছে। আদতে শিল্পী হওয়ায় তিনি তার চোখ দুটোকে গন্য করলেন জ্ঞনরাজ্যের
-
নোবেল পুরস্কার একটি আন্তর্জাতিক বার্ষিক পুরস্কার। ১৮৯৫ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল-এর করে যাওয়া একটি উইল অনুসারে পুরস্কারটি ১৯০১ সাল থেকে প্রচলন করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অসাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবকল্যাণমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ডে জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। এ পুরস্কারকে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯০১ থেকে ২০১৬, এ পর্যন্ত মোট পাঁচ দম্পতি এই সম্মানিত পুরস্কারটি অর্জন করেছেন—
১। মারি কুরি-পিয়ের কুরি: তেজষ্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে ১৯০৩ সালে হেনরি বেকরেল-এর সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এই দম্পতি। ১৯১১ সালে মারি কুরি দ্বিতীয়বার নোবেল পান রসায়নে।
২। আইরিন জুলিয়ট কুরি-ফ্রেডেরিক জুলিয়ট:
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.