শেয়ালি দিদি
মুরগি চুরি করে শেয়ালি ছুটল। ছুটতে ছুটতে ছুটতে নেমে এল ঘোর-ঘুরঘুটি রাত। দেখে এক চাষিবাড়ি, গেল সেখানে; নিচু হয়ে কুর্নিশ করলে, বললে: ‘কুশল গো ভালোমানুষেরা!
‘কুশল শেয়ালি দিদি।’
‘ভেতরে আসতে দাও, রাত কাটাই এখানে।’
‘হায় রে শেয়ালি দিদি, আমাদের এখানে ঠাসাঠাসি, তোমায় শুতে দেবার জায়গা হবে না।’
‘ও কিছু না, আমি ওই বেঞ্চির তলে গুটিশুটি ঢুকব, লেজটা টেনে নেব, রাতটুকু কেটে যাবে।’
বাড়ির লোকেরা বললে: ‘তাহলে বেশ, রাত কাটাও!’
‘কিন্তু মুরগিটা কোথায় রাখি?’
‘রেখে দাও চুল্লির তলে।’
তাই রাখল সে। আর রাতে উঠল চুপিচুপি, মুরগিটা খেয়ে পালক-টালক ঢিপ করে রাখল কোণে। পরের দিন ভোর-ভোর উঠল, মুখ ধুল ধবধবে করে, বাড়ির লোকেদের সুপ্রভাত জানাল, তারপর শুধোয়: ‘যাঃ, আমার মুরগিটা কোথায়?’
‘চুল্লির তলে।’
‘দেখলাম, নেই সেখানে।’
বসে বসে কাঁদতে লাগল: ‘থাকবার মধ্যে আমার ছিল কেবল ওই মুরগিটা, তাও চুরি গেল। মুরগির বদলে দাও কর্তা আমায় একটা পাতি হাঁস!’
কী আর করা যায়, দিতেই হল।
পাতি হাঁস নিয়ে থলের মধ্যে সেটা পুরে চলে গেল শেয়ালি।
ছুটছে শেয়ালি, ছুটছে, ফের রাত নামল রাস্তায়। দেখে একটা চাষিবাড়ি, সেখানে গিয়ে বলে: ‘কুশল গো, ভালোমানুষেরা!’
‘কুশল শেয়ালি দিদি।’
‘রাত কাটাতে দাও এখানে!’
‘কুঁড়ে আমাদের ছোটো, তোমায় শুতে দেবার জায়গা হবে না।’
‘ও কিছু না! আমি ওই বেঞ্চিটার তলে গুটিশুটি ঢুকব, লেজটা টেনে নেব, রাতটুকু কেটে যাবে।’
‘তাহলে বেশ, শোও।’
‘আর হাঁসটা কোথায় রাখি?’
‘রাখো ওকে খোঁয়াড়ে, আমাদের রাজহাঁসগুলোর সঙ্গে।’
তাই রাখল সে। আর রাতে চুপিচুপি উঠে খেয়ে নিল হাঁসটা, পালক-টালক সরিয়ে রাখল। পরের দিন ভোর-ভোর উঠল, মুখ ধুল ধবধবে করে, বাড়ির লোকেদের সুপ্রভাত জানাল, তারপর শুধোয়: ‘আমার হাঁসটা কোথায়?’
দেখা হল খোঁয়াড়—নেই। বাড়ির কর্তা বললে: ‘বোধ হয় রাজহাঁসগুলোর সঙ্গে বেরিয়ে গেছে।’
শেয়ালি কান্না জোড়ে: ‘থাকবার মধ্যে আমার ছিল কেবল ওই পাতি হাঁসটি, সেটাও গেল। দাও কর্তা, পাতি হাঁসের বদলে রাজহাঁস।’
কী আর করা যায়, দিতেই হল। রাজহাঁসটি নিয়ে, থলিতে পুরে চলে গেল শেয়ালি।
যেতে যেতে যেতে... আরে, আবার সন্ধে নামছে। দেখে, চাষিবাড়ি।
সেখানে গিয়ে বলে: ‘কুশল গো ভালোমানুষেরা! রাত কাটাতে দাও!’
‘পারব না শেয়ালি দিদি; আমাদের এখানে বড়ো ঘেঁষাঘেষি, তোমায় শুতে দেবার জায়গা হবে না।’
‘ও কিছু না! আমি ওই বেঞ্চিটার তলে গুটিশুটি ঢুকব, লেজটা টেনে নেব, রাতটুকু কেটে যাবে।’
‘তা বেশ, থাকো।’
‘কিন্তু আমার রাজহাঁসটা কোথায় রাখি?’
‘রাখো গে ভেড়ার ছানাদের গোয়ালে।’
তাই রাখল। আর রাতে চুপিচুপি উঠে রাজহাঁসটি খেয়ে নিয়ে পালক-টালক সরিয়ে রাখল ঢিপ করে।
পরের দিন ভোর-ভোর উঠল, মুখ ধুল ধবধবে করে, বাড়ির লোকেদের শুপ্রভাত জানাল। তারপর শুধোয়: ‘আমার রাজহাঁসটি কোথায়?’
খোঁয়াড় দেখা হল—নেই। শেয়ালি বলে: ‘যেখানেই-না গেছি, যেখানেই-না রাত কাটিয়েছি, এমনটা আমার কখনো হয় নি।’
বাড়ির কর্তা বললে: ‘ভেড়ার বাচ্চাগুলোর পায়ের চাপে থেঁতলে গেছে হয়ত!’
শেয়ালি বলে: ‘সে আমি জানি না, রাজহাঁসের বদলে দাও আমায় ভেড়ার বাচ্চা!’
তাই দিল। ভেড়ার বাচ্চাটাকে থলের মধ্যে পুরে চলে গেল শেয়ালি। ছুটছে, ছুটছে—ফের রাত নামল। দেখল একটা চাষিবাড়ি, রাত কাটাতে চাইল সেখানে: ‘ভালোমানুষেরা, রাত কাটাতে দাও!’
‘সেটা পারব না শেয়ালি দিদি। আমাদের এখানে বড়ো ঘেঁষাঘেঁষি, শুতে দেবার জায়গা নেই।’
‘ও কিছু না! আমি ওই বেঞ্চিটার তলে গুটিশুটি ঢুকব লেজটি টেনে নেব, রাতটুকু কেটে যাবে।’
‘তা বেশ, থাকো।’
‘কিন্তু ভেড়ার ছানাটা কোথায় রাখি।?’
‘রেখে দাও আঙিনায়।’
তাই রাখল। আর রাতে চুপিচুপি উঠে খেয়ে নিল ভেড়ার ছানাটা। পরের দিন ভোর-ভোর উঠল, মুখ ধুল ধবধবে করে, বাড়ির লোকেদের সুপ্রভাত জানাল,—আর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments