- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
- নিকোলাই নোসভ
- ১৯৭৮
- ২২২
মিশকার রান্নাবান্না
সে-বার মায়ের সঙ্গে আমরা গাঁয়ের বাগান-বাড়িতে আছি। মিশকা এল দিনকতক বেড়াতে। কী যে আনন্দ হল বলবার নয়। ও না থাকায় ভারি একলা লাগছিল। মা-ও খুশি হল খুব।
বলল, ‘যাক, এসেছিস বাঁচা গেল। দুজনে মিলে তোদের আনন্দে কাটবে। তবে শোন, কাল আমায় শহরে যেতে হবে, দিন কতক আটকে যেতেও পারি। আমি না থাকলে অসুবিধা হবে না তো?’
আমি বললাম, ‘কিছু অসুবিধা হবে না, আমরা তো বাচ্চা নই!’
‘তোদের কিন্তু নিজেই রান্না করে নিতে হবে, পারবি?’
‘পারব বইকি,’ বলল মিশকা, ‘না পারার কী আছে।’
‘বেশ, তাহলে সুরুয়া আর পরিজ রাঁধিস। পরিজ রাঁধা সবচেয়ে সোজা।’
‘তা পরিজই রাঁধব, কী আর হয়েছে!’ বলল মিশকা।
আমি বললাম, ‘দেখিস মিশকা, রাঁধতে যদি না পারিস? আগে তো কখনো রাঁধিসনি।’
‘ভাবনা নেই, মা কেমন করে রাঁধে তা আমার দেখা আছে। পেট ভরেই খাবি, উপোস দিতে হবে না। এমন পরিজ রাঁধব যে হাত চাটবি।’
সকালে আমাদের দুদিনের মতো রুটি আর চায়ের সঙ্গে খাবার জন্যে কিছু জ্যাম রেখে মা কোথায় কী আছে দেখিয়ে দিল, বোঝালো কী করে সুরুয়া আর পরিজ রাঁধতে হয়, কতখানি খুঁদ দিতে হবে, এই সব। আমি সব শুনলাম, তবে মনে রইল না কিছু। ভাবলাম, ‘কী দরকার মনে রেখে, মিশকা তো সব জানেই।’
তারপর মা চলে গেল, আমি আর মিশকা ঠিক করলাম নদীতে গিয়ে মাছ ধরব। ছিপটি ঠিক করলাম, কেঁচো খুঁড়লাম।
আমি বললাম, ‘আরে দাঁড়া, দাঁড়া! নদীতে গেলে রান্না করবে কে?’
‘রান্না করে কী হবে?’ বলল মিশকা, ‘যত ঝামেলা! গোটা পাউরুটিটা খেয়ে কাটিয়ে দেবো। আর রাতের খাবারের বেলায় পরিজ রাঁধা যাবে। পরিজ তো বিনা রুটিতেও খাওয়া যায়।’
রুটি কেটে জ্যাম মাখিয়ে চললাম নদীর দিকে। প্রথমটা একটু জলে ঝাঁপাঝাঁপি করে স্নান করে নিলাম, তারপর শুলাম বালির ওপরে। রোদ পোয়াতে পোয়াতে চিবুতে লাগলাম জ্যাম-মাখা রুটি। তারপর লাগলাম মাছ ধরতে। তবে মাছ ঠোকরাচ্ছিল কম। সারাদিনে ধরা গেল কেবল গোটা দশেক চুনোপুঁটি। পুরো দিনটা নদীর ধারে কাটালাম। বাড়ি ফিরলাম সন্ধেয়, পেট চনচন করছে খিদেয়।
বললাম, ‘মিশকা, তুই তো ওস্তাদ, কী রাঁধবি বল তো? তবে ঝটপট খিদে পেয়েছে খুব।’
‘পরিজ রাঁধা যাক,’ বলল মিশকা, ‘পরিজ রাঁধাই সবচেয়ে সোজা।’
‘তা বেশ, পরিজই হোক।’
উনুন জ¦ালানো গেল, প্যানে গমের খুদ ঢালল মিশকা। আমি বললাম,
‘একটু বেশি করে দে, খিদে পেয়েছে খুব।’
মিশকা প্যান ভর্তি করে সুজি চাপাল, তারপর জল ঢালল কানায় কানায়। বললাম ‘জল একটু বেশি হল না? ভয়ানক পাতলা হয়ে যাবে যে।’
‘আরে না, মা সব সময় তাই করে। তুই শুধু উনুনটা দেখিস, আমি রেঁধে যাব, ভাবনা নেই।’
আমি উনুন দেখি, কাঠ জোগাই আর মিশকা পরিজ রাঁধে, মানে ঠিক রাঁধে না, প্যানটার দিকে তাকিয়ে বসে থাকে, নিজে থেকেই রান্না হয়ে যাচ্ছে পরিজ।
একটু পরেই আঁধার হয়ে এল, আমরা আলো জ¦াললাম। হঠাৎ দেখি কি, প্যানের ঢাকনাটা উঁচু হয়ে উঠেছে আর তার ফাঁক দিয়ে সুজি বেরিয়ে আসছে।
বললাম, ‘মিশকা, কী ব্যাপার বলো তো, সুজি পড়ে যাচ্ছে কেন?’
‘কোথায় পড়ে যাচ্ছে?’
‘কোথায় আবার, চুলোয়! বেরিয়ে আসছে প্যান থেকে।’
মিশকা একটা চামচ দিয়ে বেরিয়ে-আসা সুজির পিণ্ড ফের ঢোকাতে লাগল প্যানে। কিন্তু যতই ঠাসে, দাবানো যায় না, প্যানের মধ্যে যেন ফেঁপে উঠেছে, বেরিয়ে আসছে কেবলি।
মিশকা বলল, ‘ঠিক বুঝছি না তো এমন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে কেন। হয়তো তৈরি হয়ে গেছে, কী বলিস?’
আমি চামচে নিয়ে চেখে দেখলাম, সুজি একটুও নরম হয়নি। বললাম, ‘মিশকা’ জলটা কোথায় উধাও হল? ভেতরটা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
নিকোলাই নোসভ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments