- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
গোয়েন্দা গোবর্ধন
নাঃ বিজ্ঞাপনে কাজ হয় সত্যিই!
হর্ষবর্ধন এসে ধপ করে বসলেন আমার ডেকচেয়ারে। হাঁপ ছেড়ে বললেন কথাটা।
‘হ্যাঁ, কথাটা যেমন বিজ্ঞাপনসম্মত তেমনি বিজ্ঞানসম্মতও বটে।’ বিজ্ঞজনের মতই তার কথায় আমার সায়।
‘সেদিন আপনাকে দিয়ে আনন্দবাজারে বার করার জন্যে সে বিজ্ঞাপনটা লিখিয়ে নিয়ে গেলুম না?...’
‘হ্যাঁ মনে আছে আমার।’ আমি বললাম, ‘রাতের পাহারাদারের জন্যে সেই ত?’
‘আমাদের কাঠের কারখানায় রোজের বিক্রির বহুৎ টাকা পড়ে থাকে ক্যাশ বাক্সে, বাড়ি নিয়ে আসা সম্ভব হয় না, পরদিন সে টাকা সোজা গিয়ে জমা পড়ে ব্যাঙ্কে—সেই কারণে, রাত্রে টাকাটা আগলাবার জন্যই কারখানায় থাকবার একজন সুদক্ষ লোক চেয়েছিলাম আমরা।...’
‘রাতের চার প্রহর পাহারা দেবার জন্য সুদক্ষ এক প্রহরী —বেশ মনে আছে আমার।’ আমি বলি, ‘আমিই ত লিখে দিলাম কপিটা। তা, কিছু ফল পেয়েছেন বিজ্ঞাপনটা দিয়ে?’
‘পেয়েছি বই কি ফল। বলতে কি, সেই কথাটা জানাতেই আপনার কাছে আসা।’
‘ফল বলতে?’ গোবরাও এসেছিল তার দাদার সঙ্গে, ‘রীতিমত প্রতিফল পেয়েছি বলা যায়।’
‘কটা সাড়া এলো?’
‘আপাতত একটাই।’ ওর দাদা জানান, ‘ক্রমশঃ আরও সাড়া পাবো আশা করছি। আপাতত একটাই।’
‘ওই একটাতেই সাড়া পড়ে গেছে।’ সাড়া পাওয়া যায় গোবরারও। ‘সাড়া পড়ে গেছে সারা চেতলায়।’ সে বলে।
‘দু ইঞ্চি বিজ্ঞাপনের জন্য দুশো টাকা। তা নিক তাতে দুঃখু নেই। সে দু ইঞ্চিরই বা দাম দেয় কে?’
‘দুশো টাকার বিজ্ঞাপন দিলে অন্তত তার দুশো গুণ লাভ ত হয়ই কারবারে—তা নইলে লোকে দেয় কেন?’
‘এখানেও বেশ লাভ হয়েছে লোকটার, দুশো গুণেরও ঢের বেশি।’
‘প্রায় ছশো গুণ—তাই না দাদা? হিসেব করে বলে ভাইটি, ‘ষাট হাজার টাকার মতই ছিল-না বাক্সটায়?’
‘প্রায় আশি হাজার টাকার কাছাকাছি। বিলকুল ফাঁক?’
‘আশি হাজার টাকা হলে কত হয়?’ গোবরা আঙ্গুল দিয়ে আকাশের গায় পারসেন্টেজের আঁক কষতে লাগে।
আমার সামান্য বুদ্ধির আঁকশি দিয়ে ওদের হিসেবের নাগাল পাই না—‘বিলকুল ফাঁক! তার মানে?’ শুধাই দাদাকে।
‘মানে কাল সকালের কাগজে বিজ্ঞাপনটা বেরুল না আমাদের? আর কাল রাত্তিরেই কারখানায় সিঁধ কেটে চোর ঢুকে সমস্ত টাকা নিয়ে সরে পড়েছে। আজ কারখানা খুলতে গিয়ে দেখি ক্যাশ বাক্সো ভাঙা।’
‘অ্যাঁ?’ আতকে উঠি আমি, ‘তা খবর দিয়েছেন পুলিশে?’
‘পুলিশে খবর দিয়ে কী হবে? আমাদের পাকড়ে নিয়ে টানা হ্যাঁচড়া করবে থানায়। এখন নিজেদের কারবার দেখব, না থানা-পুলিশ করব?’ বলেন হর্ষবর্ধন, ‘আর চোর যা ধরবে ওরা তা আমার বিলক্ষণ জানা আছে?’
‘আমি ধরতে পারি চোর।’ বলল গোবরা, ‘তা দাদা আমায় ধরতেই দিচ্ছে না।’
‘হ্যাঁ বললেই হোলো চোর ধরবো। ওদের কাছে ছোরা-ছুরি থাকে না? ধরতে গেলেই ছুরি বসিয়ে দেবে ঘ্যাচাং করে। ভুড়ি ফাঁসিয়ে দেবে এক কথায়। ওর মতন নাবালক একটা ছোঁড়া আমি ছুরির মুখে ঠেলে দেব—আপনি বলেন?’
‘কি করে বলি?’ বলতে হয় আমায়, ‘ওসব ছোরা-ছুরির ব্যাপারে আমাদের বয়স্কদের না থাকাই ভালো।’
‘আমি কিন্তু অক্লেশে ধরে দিতাম। কোনো ছোরা-ছুরির মধ্যে না গিয়েও—স্রেফ গোয়েন্দাগিরি করে।’
‘কি করে ধরতিস?’
‘ঐ মাটি ধরেই।’
‘ও! মাটিতে বুঝি পায়ের ছাপ পড়েছে চোরের?’ আমি কৌতূহলী হই, ‘কারখানার মাটিতে পায়ের দাগ রেখে গেছে চোরেরা?’
‘দাগ না ছাই।’ মুখ বিকৃত করেন হর্ষবধন, ‘সিগ্রেটের ছাইও ফেলে যায়নি একটু। কী নিয়ে গোয়েন্দাগিরি করবি শুনি?’
‘কারখানার মাটি নয়, সেই মাটি। বলে না সে—যে মাটিতে পড়ে লোকে ওঠে তাই ধরে? সেই মাটি ধরেই আমি চোর ধরব।’ ফাঁস করে গোবরা। ‘বিজ্ঞাপনটা দিয়ে মাটি হয়েছে ত! ঐ মাটি দিয়েই আমার কাজ হাসিল করব আমি।’
ওর রহস্যের আমি থই পাই না। এমন কি ওর দাদাও থ হয়ে থাকেন।
‘হ্যাঁ চোর ধরবে গোবরা!’ বলে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
শিবরাম চক্রবর্তী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments