সম্পাদকীয় : বিজ্ঞানচেতনা
দুই দশকেরও বেশি আগে বিজ্ঞানচেতনা পরিষদের যাত্রার শুরুতে বিজ্ঞান ও চেতনা শব্দ দুটি আলাদা না কি একসঙ্গে লিখব তা নিয়ে আমাদের মধ্যে তর্ক ছিল। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিই দুটি শব্দ একসঙ্গেই লিখব: বিজ্ঞানচেতনা। আমাদের সমাজে পরীক্ষাগার, গবেষণা ইত্যাদি সম্পর্কিত ভাবনার জায়গা থেকে বিজ্ঞানকে দেখার চল বেশ প্রতিষ্ঠিত, শক্তিশালীও বটে। কিন্তু এসব থেকে প্রকৃতি ও মানুষ বিচ্ছিন্ন থাকলে তা সামগ্রিকতা পায় না। তাই শুরু থেকেই আমরা বিজ্ঞান ও চেতনাকে আলাদা করিনি। বিজ্ঞানকে চেতনা থেকে আলাদা করলে তা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে প্রকৃতির জন্য, মানুষের জন্য। এই সামগ্রিকতার মধ্যে পরস্পরের সম্পর্ক ও অবস্থানকে বিশ্লেষণ ও যাচাই করা, মানুষের মধ্যে প্রশ্ন করার সক্ষমতা তৈরির উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
এমন ঘোষণা ধারণ করে সংগঠন হিসেবে বিজ্ঞানচেতনা পরিষদ ২৩ বছর পার করতে যাচ্ছে। এই দুই দশকেরও বেশি সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানা পরিবর্তনের মধ্যে এখনও বিজ্ঞানচেতনা পরিষদ ক্রিয়াশীল। তবে সংগঠন হিসেবে ব্যপ্তি ও পরিসর কমে এলেও আমাদের যাত্রা থেমে যায়নি।
ত্রৈমাসিক বিজ্ঞানচেতনার সর্বশেষ সংখ্যা বের হয়েছিল ২০১২ সালে, তাও পাঁচ বছর বিরতির পর। এবার সাত বছর বিরতি দিয়ে বিজ্ঞানচেতনা বের হল। অনিয়মিত হওয়ার ব্যবধান বাড়লেও বিজ্ঞানচেতনার অনুসারীরা দেশে-বিদেশে এখনও ক্রিয়াশীল। পত্রিকাটি নতুন করে বের করার উদ্যোগ নেয়ার পরপরই অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন। অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। অনেকেই প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন, আর যেন বিজ্ঞানচেতনা বন্ধ না হয়। নতুন পরিসরে বিজ্ঞানচেতনা প্রকাশে সহযোগিতার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসারের আন্দোলনে সবার কাছে পরিচিত দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণ করে বর্তমান সংখ্যায় আমরা বিশেষ আয়োজন রেখেছি। আশাকরি, ‘দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং বিজ্ঞানচেতনা’ ও ‘যৌনতার নিষিদ্ধ তিমিরে আলোকছটা’—লেখা দুটি প্রচলতি ধ্যান-ধারণার বিপরীতে নতুন ভাবনার খোরাক দেবে। এছাড়া সমসাময়িক বিষয় হিসেবে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে কার্যকারণ সম্পর্ক ও অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে আরও কয়েকটি লেখা থাকছে।
পত্রিকা বের না হলেও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়মিত- অনিয়মিত পরিসরে চলছে। রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় আমাদের কার্যালয়ে বসছে সাপ্তাহিক পাঠচক্র।
গত সাত বছরে আমরা বিজ্ঞানচেতনা পরিষদের আপনজন হিসেবে অনেককে হারিয়েছি। তাঁদের মধ্যে আছেন আবুজর গিফারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নূরুন্নবী সিদ্দিকী। তিনি দীর্ঘদিন বিজ্ঞানচেতনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দয়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। পত্রিকার বর্তমান সংখ্যাটি বাংলাদেশে গণবিজ্ঞান আন্দোলনে নিবেদিত এই গুণিজনকে উৎসর্গ করা হল।
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থায় রাষ্ট্র সকল মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা; অনিয়ম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ কিংবা সকল ধরনের কর্তৃত্বের বিপরীতে ক্ষোভ প্রকাশের অধিকারকে নিশ্চিত করে। খাওয়া, পরা, থাকাসহ সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের স্বীকৃত দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় এসব দায়িত্ব কিংবা অধিকার প্রশ্নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ যতবেশি বিস্তৃত ও গভীর হয়, রাষ্ট্র ততই গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালনায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান আর্থ-সামাজিক-রাজনীতিক পরিসরে ব্যাপকতর জনগণের প্রতিনিধিত্ব ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অগণতান্ত্রিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুবিধা ও ক্ষমতাভোগী ভাবনা প্রসারিত হচ্ছে, প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে গোষ্ঠীগত ক্ষমতা আর বিশেষ শ্রেণী-পেশার মানুষের আধিপত্য। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় যে কোনো
-
যুদ্ধ-সাহিত্যের সমাদর সব দেশেই রয়েছে। তার তাৎক্ষণিক প্রচার ও জনপ্রিয়তা ব্যাপক। যে-কারণে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের উপরে লেখা এককালের জনপ্রিয় ইংরেজি বা রুশ উপন্যাসও আজ আর তেমন সমাদৃত নয়, ঠিক একই কারণে যুদ্ধ ও মন্বন্তর নিয়ে লেখা চল্লিশের বাংলা গল্প ও উপন্যাসও পাঠক-মনে আর তেমন রেখাপাত করে না।
যুদ্ধ ও বিপ্লব সব সময় সমার্থবোধক নয়। এজন্যেই গণ-বিপ্লব, রাষ্ট্রবিপ্লব ও গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি নিয়ে রচিত কোন কোন যুদ্ধ-সাহিত্য যুগোত্তীর্ণ সাহিত্য। যে কাহিনীতে কেবল যুদ্ধই মুখ্য নয়, যুদ্ধের পেছনের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিগন্ত বিস্তৃত, তা রসোত্তীর্ণ হলে যুগজয়ী সাহিত্যের ধ্রুপদী-চরিত্র লাভ করে—যেমন টলস্টয়ের ‘ওয়ার এণ্ড পীস্’, এরেনবুর্গের ‘ফল্ অব পারি’। বাংলাদেশের বর্তমান মুক্তিযুদ্ধও কেবল যুদ্ধ
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments