আসুন, আমরা আবদুল খালেকের একটা ছবি আঁকি
তুমি ফোন করেছিলে?
কোথায়?
কোথায় শব্দটা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমার স্ত্রী শবনব আরার কোমল চেহারা পাল্টে যায়। স্বাভাবিক চোখ অস্বাভাবিক বড় করে আমার দিকে তাকায়, তুমি আসলে কী? একটা ফোন করবে, সেটাও করতে পারো না! সেই কবে, প্রায় আট-নয়দিন আগে মৌচাকে বালিশের অর্ডার দিয়ে এসেছি। লোকটা, খালেক সাহেব বলেছিল চারদিন পর ফোনে খোঁজ নিতে...
শবনব আরা নিজের ভূগোল নির্মাণ করে যাচ্ছে। আমি অফিস শেষ করে, বাইরে আরও দুটো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করে রাত সাড়ে নটায় বাসায় এলাম। বাসায় আসার আগে মালিবাগ নেমে ফোন দিয়েছি। দু দুবার রিং হওয়ার পরও শবনম ফোন রিসিভ করেনি। এই ফোন রিসিভ না করা শবনমের একটা খেয়াল। মোবাইল সেটটা কোথায় থাকে বা রাখে জানে না, ও। ফোন বেজে যায়...সেটটা বিছানার উপর শুয়ে, রিং শোনার কেউ নেই। মেয়ে কলেজে। ছেলে ইউনিভারসিটিতে। শবনব কি করছে? শবনব রান্না ঘরে রান্না করছে। নয়তো বাথরুমে শরীরে সাবান মাখছে। কিন্তু রাত সাড়ে নটায় নিশ্চয়ই বাথরুমে শরীরে সাবান মাখার সময় নয়। আমার বিরক্ত ভাবনার মাঝে ফোন বাজে, দেয়ালে তাকিয়ে দেখি, শবনমের ফোন।
আমি কেটে দিয়ে ফোন করি। এবার দ্রুতই রিসিভ করে, হ্যালো?
আমি বাজারে। কিছু আনতে হবে?
হ্যাঁ, ডিম ডাল আর তরবারি নিয়ে এসো।
ডিম?
হ্যাঁ ডিম।
গতকাল না দুই ডজন ডিম আনলাম।
আমি সব খেয়েছি। এবং শবনম ফোনটা কেটে দেয়। আমি বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারপাশটা দেখি। কতো মানুষ, বিচিত্র মানুষ। বাজারে এসেছে বাজার করতে। দোকানীরা কতো বিচিত্র পণ্য সামগ্রী সাজিয়ে বসেছে। এইসবের মধ্যে নিজেকে একটা চিড়িয়া মনে হলো। গতকাল দুই ডজন ডিম নেবার পর আজ কেনো ডিম নেবো? বাসায় মেহমানও আসেনি। আমি ডাল আর তরকারি কিনলাম। বাসায় ঢোকার পর শবনমের প্রশ্নে ভেতরে ভেতরে বেশ ঘাবড়ে যাই। কারণ, বালিশ।
বালিশ যে মানুষের কতো প্রযোজনীয় বস্তু, গত কয়েক দিনে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমাদের বাসায় বালিশগুলো অনেক পুরোনো। আর পাতলা। রাতে ঘুমাবার সময়ে মাথার নিচে পাতলা বালিশ দিয়ে মাথা বিছানার সঙ্গে ঠেকে। আর এইসব ব্যাপারে আমি বড় অসহয়। যা করার শবনবই করে। যতো সহজে বললাম, শবনব করে, এই করাটা অতো সহজ নয়। গত এক বছরে ঘুমাতে যাবার সময়ে কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠবার সময়ে শবনবের মুখের বাণী শুনতে হয়, এই বালিশে মানুষ ঘুমাতে পারে! এতো বালিশ না, মনে হয় বিছানার উপর ঘুমোচ্ছি। শবনম আপন মনে যদিও বলে, কিন্তু আমি তো জানি আমাকে বলছে। আপন মনে বকে যাওয়ার ঘটনা সংসারের সবাই জানে। আমাদের মেয়ে সূচনাও জানে। জানে পুত্র দৈব্য। কারণ, দোকানে গিয়ে কাপড় তুলা দেখে গোটা চারেক বালিশ বানাতে দেয়ার অর্ডার দেয়ার জন্য বলেছে।
যাও, গিয়ে অর্ডার দাও।
আমি একা যাবো নাকি?
কয়েকটা বালিশ বানাবে সেখানেও আমাকে যেতে হবে তোমার সঙ্গে?
ঠোঁট উল্টায় শবনব, সজল আমি তোমাকে ছাড়া যেতে পারবো না। আমি কোথাও একা যেতে পারি না। জানো না?
শবনমের এই রোগ, কোথাও একা যেতে পারে না। যেখানেই যাবে সঙ্গে আমাকে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমি সব সময়ে যেতে পারি না। যেতেও ইচ্ছে করে না। শবনব দাম করার সময়ে এমন সব কথা বলে, শুনে ব্রহ্ম-তালুতে আগুন লাগে। দোকানে ঢুকে আমি পেছনে অপেক্ষা করছি ক্যবলাকান্ত হয়ে। শবনব দরদাম করছে কোনো শ্যাম্পুর। দোকানী বললো দাম সাতশো টাকা।
শবনম খুব স্বাভাবিকভাবে বলে—শাতশো টাকা? গত মাসে আমি ফরচুন থেকে নিয়েছি তিনশো টাকায়।
বেচারা দোকানদার আর কি বলবে! একটা বিষয়ে জানানো দরকার, শবনমের পছন্দ দারুণ। কাপড়ের রঙ যথাযথ পছন্দ করার রুচি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments