ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন ও তদানীন্তন সমাজ
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্যে ঢাকায় এলাম, পড়াশুনা করার ইচ্ছে ছিল খুবই কিন্তু আমার সেই যে টাইফয়েড হয়েছিল তার পর থেকে আমি আর এক সঙ্গে বেশীক্ষণ পড়ায় মনোনিবেশ করতে পারতেম না। ছাত্র হিসেবে আমার যেটুকু সুনাম ছিল স্কুল জীবনে তা পরবর্তী জীবনে আমি আর অক্ষুন্ন রাখতে পারিনি। পরীক্ষায় কোন দিনই খুব বেশী খারাপ না করলেও খুব একটা ভালও কিছু করিনি। এরপর হ’তে ছাত্র হিসেবে ‘মিডিওকার’ বলেই আমার পরিচয় ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর থেকে স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ দৃষ্টির ফলেই হউক বা ঢাকার জলবায়ুর জন্যেই হউক আবার আমি খেলাধুলা করতে সক্ষম হই। তবে টেনিসের দিকেই আমার ঝোঁক ছিল বেশী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তখন খুব নাম ডাক। নানা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে প্রসিদ্ধ শিক্ষাবিদরা এখানে অধ্যাপক হয়ে এসেছিলেন। ডক্টর মাহমুদ হাসান, এস. এন, রায়, স্যার এ. এফ. রহমান, ডক্টর রমেশ চন্দ্র মজুমদার ও ডক্টর কাননগু, প্রফেসর হরিদাস ভট্টাচার্য, ডক্টর সিনহা, ডক্টর হিরেন দে, ডক্টর জে সি ঘোষ, প্রফেসর সত্যেন বসু, ডক্টর সুশীল দে. মোহিতলাল মজুমদার, চারু বন্দ্যোপাধ্যায়, ডক্টর শহীদুল্লা প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। তবে এখানে না বলে পারছি না যে আমাদের যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এখনকার মত এত ডক্টর ছিল না আর গাড়ীরও এত সমারোহ ছিল না। তারা বেশীর ভাগ পায়ে হেঁটে আসতেন।
অবশ্যই অন্য একটা কারণ ছিল যে তখনো হিন্দুদের মধ্যে একটা সংস্কার ছিল যে বিলেত গেলে ধর্ম থাকে না। তাই আশু মুখার্জীর মত লোকের মা-ও তাকে বিলেত যেতে দিতে রাজী হননি।
মুসলমান অধ্যাপকের সংখ্যা ছিল নগণ্য বোধহয় শতকরা দশজন তাও আরবী, পার্সী, ইসলামিক স্টাডিজ এদের নিয়ে। আরবীর হেড অব দি ডিপার্টমেন্ট ছিলেন ডক্টর ফুইক—জাতিতে জার্মান। এতদসত্ত্বেও কলকাতার কাগজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘মক্কা ইউনিভার্সিটি’ বলা হ’ত। আমাদের শিক্ষকরা আমার জানামতে আমাদের ছাত্রদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করতেন না। তবে ফাঁক একটা ছিল। হিন্দুদের নিকট মুসলমানরা ছিল অনেকটা অস্পৃশ্য, অদ্ভুত, তাই হিন্দুদের মত মুসলমান ছেলেরা প্রফেসরদের বাড়ীতে বড় একটা যেত না যেমন যেত হিন্দু ছেলেরা। অনেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষকরাও মুসলমান ছেলেরা খুব কাছাকাছি দাঁড়ালে ঘরে প্রবেশ করার পূর্বে কাপড় ছেড়ে স্নান করে ঘরের ভিতর ঢুকতেন। এর ফলে হিন্দু শিক্ষক ও মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে একটা দূরত্ব অনুভূত হত। নীরোদ চৌধুরী তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন:—
“Curiously enough, with us, the boys of the Kishoreganj, it found visible expressions in the division of our class into two sections, one composed purely of Hindus and the other Muslims. We never came to know all the circumstances of this division, whether or not the Muslim boys had also expressed unwillingness to sit with us, for sometime past we, the Hindu boys, had been clamouring that we did not want to sit with the Muslim boys because they smelt of onions.”
আলোচনার আর একটি বিষয়বস্তু ছিল বিশ্বজোড়া অর্থনৈতিক সংকট। খবর আসছিল যে বৃটিশ সরকার দেউলিয়া হওয়ার পথে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ধার নিয়ে তার দেশরক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখতে হচ্ছে। রাজা পঞ্চম জর্জ, লয়েড জর্জ ও বন্ডুউইনকে ডেকে কোয়ালিশন সরকার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রুজভেল্টের ও জার্মানীতে হিটলারের ক্ষমতা গ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দু’জনেই রুশ সমাজবাদ আর ধনতন্ত্রবাদের মধ্যে একটা সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থনীতি গ্রহণ করার পক্ষপাতি।
দেশেরও আর্থিক অবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে। বাংলাদেশের সাধারণ লোকদের সম্বন্ধে ‘ডিরেক্টর অব পাবলিক হেলথ’ তার রিপোর্টে লিখেছিলেন
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments