-
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য ও সঙ্গীত এবং সাধারণভাবে সাহিত্যসৃষ্টির বৈচিত্র্য ও বহুত্বকে একটি বৃক্ষের শাখা প্রশাখা হিসাবে না দেখে একেবারে পৃথক করে করে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে আমাদের যার যার পছন্দমত বেছে নেবার একটা ঝোঁক তাঁর কাজের সামগ্রিকতাকে আড়াল করে দেয় এবং উৎকর্ষকে খণ্ডিত করে। অযৌক্তিক হলেও দুঃখের বিষয়, এটাই ঘটেছে বিশেষ করে চল্লিশের দশকে। এই বিভাজন ও তার ঝোঁকের মূলে কি কি কারণ রয়েছে এবং এদের অতিক্রম করার জন্যই বা কি কি পদক্ষেপ নেয়া, হয়েছে, আমরা এদের এখানে সংক্ষেপে খতিয়ে দেখছি এক এক করে। আমাদের মূল লক্ষ্য নজরুলের অব্যাহত ও অবিভাজ্য সত্তাটিকে প্রতিষ্ঠিত দেখা।
নজরুলের বিভাজনের জন্য হয়তো নজরুল নিজেও
-
বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে কয়েকটি সাময়িকীতে কিছু জানা-অজানা, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তি হঠাৎ করে যেন সিপিবির রাজনীতি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। কয়েকটি পত্রিকায় বুর্জোয়া প্রচারণার ধারায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বিগত দিনের ভূমিকার উগ্র সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন,ইত্তেফাকগোষ্ঠীরসাপ্তাহিক রোববারেবাসন্দ্বীপনামক সাময়িকীতে এ ধরনের কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বুর্জোয়া, প্রতিক্রিয়াশীল মহলগুলো থেকে কমিউনিস্টদের প্রতি সমালোচনার ঢঙে আক্রমণ নতুন কিছু নয়। এসব সমালোচনায় সারবস্তুও থাকে কম। তাই এসব লেখা পাল্টা সমালোচনার যোগ্যতাও রাখে না। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি পুঁজির শোষণ ও শাসন উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্যে যে দৃঢ় সংগ্রাম পরিচালিত করছে, সেটাই এ ধরনের বুর্জোয়া ধাঁচের সমালোচনার মোক্ষম
-
সাহিত্য আর প্রগতিশীল রাজনৈতিক কাজ যে পরস্পরের পরম মিত্র হতে পারে সে কথা মুনীর চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়ের প্রথম দিনগুলিতে একটা প্রমাণ নিয়ে সামনে এসেছিল। ১৯৪২ সালে ঢাকায় ফ্যাসিবিরোধী সম্মেলনে যোগ দেয়ার পথে তরুণ গল্প লেখক সোমেন চন্দ যখন আততায়ীর হাতে নিহত হয়, তখন সেই রক্তাক্ত মৃত্যুকে সামনে নিয়ে বাংলা সাহিত্য আর রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎকার ঘটেছিল। পরের বছর প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ কর্তৃক আয়োজিত সোমেন স্মৃতি সভায় যোগ দিয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী, উদীয়মান গল্প লেখক। তখনও তিনি ছাত্র। তবে আসল যোগটা ঘটলো প্রগতিশীল সাহিত্য আর মার্কসীয় রাজনীতির মধ্যে।
মুনীর চৌধুরী গুছিয়ে বক্তব্য বলতে অল্প বয়সেই পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। যুক্তিবাদী হিসেবে ধর্মীয়
-
[এই প্রবন্ধের মূল বক্তব্য চারটি। প্রথমত, একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ব্যাখ্যা। দ্বিতীয়ত, আলোচিত হবে মুক্তিযুদ্ধে সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক। তৃতীয়ত, বিশ্লেষণের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধে বামপন্থী দলগুলোর ভূমিকা। উপসংহারে এই প্রবন্ধের জন্যে তথ্য সংগ্রহে নানাভাবে সাহায্য করেছেন ড. আনোয়ার হোসেন (সহকারী অধ্যাপক, প্রাণ রসায়ণ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মেজবাহ কামাল (প্রভাষক, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও শাহীন রাজা (এম এ শেষ পর্বের ছাত্র, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। উপরন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক ব্যক্তিত্ব সাক্ষাতকার দিয়ে বাধিত করেছেন। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।]
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বল্পকালীন স্থায়িত্ব এবং শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সরাসরি অংশগ্রহণ এই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃতিকে
-
|| ১ ||
দুটি প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে নেওয়ার চেষ্টা করা দরকার সর্বপ্রথম ।
প্রথমত, রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ কি সত্যই ব্যক্তিজীবনে কোন অগ্রসর উদ্দেশ্য থাকার বিরোধী ছিলেন ।
দ্বিতীয়ত, তিনি কি স্বদেশে ও বিশ্বপ্রকৃতির মধ্যে কোনো মানবিক সামাজিক উত্তরণকে আমল দিতে চাননি?
মার্কসবাদের দৃষ্টিতে কবির দৃষ্টিভঙ্গি ও লেখাকে ইতিবাচকরূপে গণ্য করতে হলে এই দুটি প্রশ্নের জবাব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর কারণ এই যে, জীবনানন্দ দাশের কবিতা সম্বন্ধে একটা জোর প্রচার, তিনি জীবনের অগ্রসর উদ্দেশ্য ও উত্তরণকে অস্বীকার করেছেন, তিনি অবিপ্লবী। অথচ মার্কসবাদের দৃষ্টিতে ইতিবাচকতা দাবি করে জীবনের অগ্রসর উদ্দেশ্য ও উত্তরণের অনিবার্যতা। মার্কসবাদ হচ্ছে বিপ্লবী দর্শন। মার্কসবাদ একটি অগ্রসর
-
বাংলা উপন্যাস ও ছোটগল্পের মৃত্যুঞ্জয়ী রূপকার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় অতি আধুনিক বাস্তবতাবাদী রীতির গণকথাশিল্পী ও কমিউনিস্ট রূপে চিহ্নিত, আদৃত ও বিতর্কিত।
অতি আধুনিক বাস্তবতাবাদের গণকথাশিল্পী হিসেবে ফরাসী উপন্যাসের কারিগর আঁরি বারবুসে ও লুই আরাগঁ যেমন করে কমিউনিস্ট হয়েছেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেইভাবেই কমিউনিস্ট। অতি আধুনিক রীতির কবি পাবলো নেরুদা এবং বার্টোল্ড ব্রেখটের কমিউনিস্ট হবার ধরনটির সঙ্গেও তাঁর মিল রয়েছে।
এঁরা প্রত্যেকেই জনগণের মুক্তিসংগ্রামে নিজেদের উৎসর্গিত করে প্রায় একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রধানত সংগ্রামী খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলেছেন অতি আধুনিক রীতিতে। সামান্য ও অসামান্য নির্বিশেষে এবং বিশেষ করে সামান্য ও সামান্যা মেহনতী মানব-মানবীদের নিমগ্ন মনের সম্ভাবনা, যন্ত্রণা, আনন্দ, মাধুর্য এবং বৈপ্লবিক
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
উৎস
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.