বই
ঢাকা : পাচাস বারাস পাহলে
এই গ্রন্থে ঢাকার আদি স্থানীয় বাসিন্দাদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের প্রতীক হিসেবে মসলিন ও জামদানি নকশার উল্লেখ পাওয়া যায়। বইটির প্রচ্ছদে জামদানি বুটি শাড়ির নকশা এবং ১৯০৫ সালে নবগঠিত প্রদেশের গভর্নরের বাসভবনের আলোকচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা আজকের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ট্রাইবুনাল ভবন নামে পরিচিত।
বইটিতে ১৯০১ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ও পূর্ববাংলা-আসাম প্রদেশ গঠন, ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মোহামেডান শিক্ষা সম্মেলন ও মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা, ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ, এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো ঐতিহাসিক ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে।
এটি শুধু স্মৃতিচিত্র নয়, বরং ঢাকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক প্রতীকী উপস্থাপন। পরবর্তীতে হাশেম সূফী বইটি উর্দু থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন এবং বিশ্লেষণমূলক টীকা-টিপ্পনী সংযোজন করে গ্রন্থটিকে আরও সমৃদ্ধ করেন। তাঁর গবেষণাধর্মী অনুবাদ ঢাকাপ্রেমিকদের জন্য এক অমূল্য অবদান।
-
গত সাক্ষাৎকারে ঢাকার বিশিষ্ট খাবারের মধ্যে পোলাও, কাবাব, কোস্তা এবং কোরমার উল্লেখ করা হয়েছিল কিন্তু কোরমার বর্ণনা অনেক কিছু বাকি থাকতেই সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বলার কথা এই যে, ঢাকায় কোরমার বিশেষ মসলা রয়েছে এবং ঢাকার বিশিষ্ট পরিবারে বিশেষ বিশেষ ভাবে রান্না হয়। দম পোস্তকে কোরমার মধ্যেই গণ্য করা উচিৎ। ঢাকায় দম পোস্ত যেমন সাধারণভাবে রান্না হয় তেমনটি অন্যত্র কম দেখা যায়। বড় আলুর দম পোস্ত অতি সাধারণ, কিন্তু বাঁধাকপির দম পোস্ত এখানকার বিশেষ আবিষ্কার। আমি বাঁধাকপির এর চেয়ে উত্তম কোনো ব্যবস্থা আর কোথাও দেখিনি এবং প্রকৃতই এটি উপযুক্ত খাবার জিনিস। এর স্বাদ অনেক দিন পর্যন্ত ভোলা যায় না। যদিও
-
বাংলা তার মিষ্টির জন্য সব সময়ই প্রসিদ্ধ। কিন্তু ঢাকার এই বিশিষ্টতা রয়েছে যে, এখানে বাঙালি এবং অবাঙালি উভয় প্রকারের মিষ্টি উত্তম তৈরি হয়। আমাদের বাল্যকালে আমরা দেখেছি যে, এখানে স্থানীয় হিন্দু মিষ্টি-তৈরিকারকরাই শুধু মিষ্টি বিক্রি করত এবং এক দুই ঘর মুসলিম মিঠাই প্রস্তুতকারকও ছিল। কিন্তু এদের মিষ্টি প্রস্তুতকারক কমই বলা হতো, বেশিরভাগ এদের মোরব্বাওলা বলা হতো। এরা মোগল যুগের স্মৃতিচিহ্ন এবং দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এদের শিরায় উত্তর ভারতের রক্তের সুস্পষ্টতা আজও দেখা যায়। এসব মুসলিম মিষ্টান্ন বিক্রেতা, মিষ্টির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের লাড্ডু এবং বাদামের বিভিন্ন মিষ্টি তৈরি করে থাকে এবং ফেরি করে বিক্রি করে, খাঞ্চা সাজায় এবং একই সঙ্গে
-
ঢাকায় সঙ্গীতপ্রিয়তা অতি সাধারণ হয়ে যাবার কারণসমূহ গত বৈঠকে আমি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছিলাম। এ থেকে আপনাদের জানা হয়ে গেছে যে, এখানে গান বাদ্যের প্রচলন প্রাচীন যুগ থেকেই রয়েছে এবং এখানকার বাসিন্দারা এ বিষয়ের অনুরাগী। সাধারণ রেওয়াজের এক কারণ সঙ' বের করা এবং এই শখের প্রকাশ বছরে কয়েকবার ঘটত, যেমন চৈত্র-পর্ব। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্রসংক্রান্তির দিন দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত মসজিদগঞ্জের চরে এই মেলা বসত। প্রথমত এই চর মোগলানীর চর বলা হতো। অতঃপর কামরাঙ্গীর চর বলা হতো এবং এখন মসজিদগঞ্জের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবার কারণে মসজিদগঞ্জের চর বলা হয়। এটি হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের যৌথ মেলা। এখানে
-
প্রাচীনকাল থেকেই পান হিন্দুস্থানের শোভা এবং নামসমূহের মধ্যে 'বাংলা পান', বাংলার বিশিষ্টতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলা পান যদিও বড় হয় এবং একটা পানেই গাল ভরে যায় কিন্তু তাতে কোনো সৌন্দর্য নেই এবং এই পানের ঝাঁঝ কোনো কোনো ঋতুতে অসহনীয় হয়ে যায়। পানের একটি প্রকার যাকে সাঁচি পান বলা হয় এটি অবশ্য নরম, ঝাঁঝ কম এবং স্বাদের দিক থেকেও ভাল, কিছুটা হলেও সুগন্ধি আছে। বাংলায় সর্বত্রই কম বেশি সাঁচি পান পাওয়া যায় এবং বিশিষ্ট লোকেরা এটিকে ব্যবহার করেন। এ কারণেই এখানকার একটি বাজারের নাম 'সাঁচি পান দরীবা", যা এখন বাজার নেই বরং মহল্লা হয়ে গেছে। এই পানের প্রকৃতি ঠাণ্ডা, এজন্য
ক্যাটাগরি
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.