সাময়িকী
বিজ্ঞানচেতনা
ঢাকাভিত্তিক বিজ্ঞান আন্দোলন সংগঠন বিজ্ঞান চেতনা পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞানচেতনা একটি চিন্তাশীল ও প্রগতিশীল বিজ্ঞান সাময়িকী। ১৯৮০–২০০০ সময়কালের মধ্যে সক্রিয় এই পত্রিকাটি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা, যুক্তিবাদ, সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং বিজ্ঞান-দর্শনের সংলাপকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এতে প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান, দর্শন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা—যেখানে বিজ্ঞানকে দেখা হয়েছে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং সমাজ ও চেতনার আলোকে।
-
বিজ্ঞান ও ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে কোনো অর্জনই আকস্মিক নয়। এর মালিকানা আসলে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি বা দেশ দাবি করতে পারে না। প্রতিটি অর্জনই বস্তুত আগের দীর্ঘ অর্জনের সমষ্টি। প্রতিটি অর্জনই দীর্ঘ ধারাবাহিকতার ফসল। এই অর্জন, এই অগ্রগতি মানুষের, বিশ্বের সকলের। সে হিসেবে আমরাও এর অংশীদার। যদি বিচ্ছিন্নভাবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের অর্জনের বিষয় পরীক্ষা করতে বসি তাহলে তা খুব উল্লেখযোগ্য নয়। কেননা এই অঞ্চলে মানুষের জীবনের মতোই, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশও, এই দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়ে যা ঘটতে পারতো, তা বরাবরই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখানে এখন তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খণ্ডিত, আরোপিত, আগ্রাসনের সঙ্গী।
সাম্প্রতিককালে কম্পিউটার ও
-
আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। এদেশ সবেমাত্র ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এদেশের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন এখনকার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। এমন সমাজে যৌনতা ভীষণ নিষিদ্ধ একটি বিষয়। সে সময়ে আমাদের দেশে এ বিষয়ে কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা অত্যন্ত গর্হিত একটি ব্যাপার বলে পরিগণিত হত। শুধু এদেশেই নয় ইয়োরোপ-আমেরিকাতেও ১৯৬০-এর দশকে ‘যৌন বিপ্লব’-এর ধাক্কায় গোটা সমাজে যৌনতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে পাল্টে যাবার আগে যৌন বিষয়ে কিংবা নরনারীর যৌন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনাকে সহজভাবে নেয়া হত না। ভাবতে খুব অবাক লাগে, ওরকম একটি সময়ে বয়সে অত্যন্ত তরুণ একজন মানুষ এই বিষয়ে লিখতে দৃঢ় হাতে কলম ধরেছেন। শুধু যৌনতা নয়,
-
বিজ্ঞানচেতনা'—এই সমাসবদ্ধ শব্দটির ব্যাসবাক্য নির্ণয় করা যায় নানাভাবে। যেমন বিজ্ঞানের চেতনা, বিজ্ঞানবিষয়ক বা বিজ্ঞানসম্পর্কীয় চেতনা, বিজ্ঞানসম্মত চেতনা, বিজ্ঞানভিত্তিক চেতনা। এইসব ব্যাসবাক্য 'বিজ্ঞানচেতনা'র যেসব অর্থ বা তাৎপর্য আমাদের সামনে তুলে ধরে সেগুলো সবই মূল্যবান ও প্রয়োজনীয়। তাই 'বিজ্ঞানচেতনা পরিষদ' নামক সংগঠনটির কার্যকলাপে একান্তই আশাবাদী হয়ে উঠি।
তবে বিজ্ঞানচেতনা পরিষদের কাছে আমার একটি প্রত্যাশা আছে। সেটি হচ্ছে: এই পরিষদ যেন 'চেতনার বিজ্ঞান' অনুশীলনে মনোযোগী হয়। মানুষের চেতনার কিভাবে উদ্ভব ঘটে, কিভাবে সেই চেতনা বিকশিত হয়, নানান মানুষ নানান চেতনার কেন অধিকারী হয়, কিংবা একই মানুষের মধ্যে পরস্পরবিরোধী চেতনার সহাবস্থান ঘটার কি হেতু, চেতনার রূপান্তর ঘটে কোনো প্রক্রিয়ায় এসব বিষয়ের অনুসন্ধান ও অনুশীলন,
-
ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়—নামটি যে আমাদের দেশে একেবারেই অপরিচিত, তা হয়তো নয়। তবে সে পরিচিতির পরিধি যে খুবই সীমিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যাঁরা এই নামটির সঙ্গে পরিচিত, তাঁদেরও খুব অল্পসংখ্যকই এই নামের মানুষটির কৃতি ও অবদানের স্বরূপ সম্পর্কে অবহিত। অথচ, মনীষী বলতে প্রকৃত অর্থে যা বোঝায়, ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন তা-ই। যিনি মনীষাসম্পন্ন তাঁকেই তো বলে মনীষী। আর ‘মনীষা’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘মনের ঈষা’। ‘ঈষা’ মানে ‘লাঙ্গলের কাষ্ঠ নির্মিত দণ্ড’। ‘ঈষা’ যেমন লাঙ্গলটিকে ধারণ করে ও সঠিকভাবে চালিত করে, মনীষী ব্যক্তিদের মনেরও থাকে তেমনই ধারণশক্তি। তাঁদের বুদ্ধি কখনও বিচলিত হয় না, দিকভ্রষ্ট হয় না, সর্বদা তা সঠিক লক্ষ্যাভিমুখী
-
লেখক: মাসুদুর রহমান
পাওলো ফ্রেইরী লিখিত 'অত্যাচারিতের শিক্ষা' বইটি ১৯৬৭ সালে ব্রাজিলে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরপরই বইটি ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বইটির গুরুত্ব অদ্যাবধি এতটুকুও মলিন হয়নি।
পাওলো ফ্রেইরী একজন অধ্যাপক, শিক্ষা উন্নয়ন গবেষক। ধর্মীয় শিক্ষাকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে শিক্ষা বিষয়ে ধার্মিকদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ক্ষেত্রে এবং গ্রামীণ জীবনের শিক্ষা ও শহর জীবনের শিক্ষার বৈষম্যমূলক পরিবেশ দূরীকরণের ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য সমাজকর্মী। ‘অত্যাচারিতের শিক্ষা' বইটি পৃথিবীর কমবেশি অত্যাচারিত যে কোনো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি মানবিক করার লক্ষ্যে ও ক্ষেত্রে এক অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
বইটি মূলত চারটি অধ্যায়ে রচিত হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে মানবতা, মানবিকতা, মানবিকীকরণ ইত্যাদি বিষয় সমূহের
-
লেখক: বদরুদ্দীন উমর
জীবিকা অর্জন, জীবনযাপন এবং জীবন উপভোগ-এ তিনটি কাজ করতে গিয়ে মানুষের মাঝে যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যে অভ্যাস, আচরণ দেখা যায় তার সমষ্টি হচ্ছে একটি সমাজের সংস্কৃতি। সংস্কৃতিকে কোনো একটা সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আটকিয়ে রাখা ঠিক নয়। কাব্য, সাহিত্য, চিত্র, সঙ্গীত সংস্কৃতিতে যেমন থাকবে, তেমন থাকবে মানুষের সাথে মানুষের আচরণগত দিক। এ আচরণই সংস্কৃতির বড় রূপ।
সামন্ত, বুর্জোয়া, সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতির স্তরেরও আবার স্থানিক-কালিক পার্থক্য আছে। চীন, রাশিয়া, কোরিয়াতে সমাজতন্ত্রের মিল ছিল, আবার গরমিলও ছিল। কিন্তু মূল কথাটা হচ্ছে, প্রত্যেক জায়গায় মানুষ তার জীবিকা অর্জন, জীবন-যাপন এবং জীবন উপভোগের জন্য যা কিছু করে তার সমষ্টিই হচ্ছে সংস্কৃতি।
-
লেখক: খালেদা ইয়াসমিন ইতি
"যারা বলেন যে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয় তারা হয় বাংলা জানেন না, নয়তো বিজ্ঞান জানেন না।"
আগামী প্রজন্মের উদ্দেশে এই চিরস্মরণীয় উক্তিটি যিনি করেছিলেন, তিনি হলেন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু। যে সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিজ্ঞানের চার কিংবদন্তী- পরমাণু বিজ্ঞানী লিস মিটনার, অটোহ্যান, আলবার্ট আইনস্টাইন এবং ম্যাক্স ভনলু এর মতো প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা; সময়ের সেই সুবর্ণরেখার ধারায় এ উপমহাদেশে রামানুজন, মেঘনাদ সাহা, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এবং রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি জন্মগ্রহণ করেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু।
১৮৯৪ সালের ১লা জানুয়ারি উত্তর কলিকাতার গোয়ানবাজান অঞ্চলে ঈশ্বরমিল লেনের পৈতৃক গৃহে তাঁর জন্ম। পিতা রেলওয়ের হিসাব রক্ষক- সুরেন্দ্রনাথ বসু, মাতা আমোদিনী দেবী। আর মাতামহ মতিলাল রায়
-
লেখক: আবদুল কাদের
মার্কস দুটি কৃতিত্বের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। প্রথম কৃতিত্ব আধুনিক বস্তুবাদ (দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ) এবং দ্বিতীয় কৃতিত্ব ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (সামাজিক বস্তুবাদ)।
আধুনিক বস্তুবাদের মূলকথা, বস্তু স্বনির্ভর এবং বস্তুর ভিতরের দুই বিপরীতের দ্বন্দ্বই বস্তু এবং বস্তুজগতে পরিবর্তন নিয়ে আসে। এ কথার অর্থ বস্তু ও শক্তি মূলত অভিন্ন। কাজেই বস্তুর অন্তর্নিহিত শক্তিই বস্তুর পরিবর্তনের নিয়ামক। মার্কস-পূর্ববর্তী বস্তুবাদকে বলা যায় জড়বাদ। জড়বাদী ধারণা অনুসারে জড় বহির্ভূত শক্তি জড়ের উপর সক্রিয় হলে তবেই জড়জগতে পরিবর্তন আসে। এখানে শক্তি এক অতিপ্রাকৃত ধারণা হিসেবে অবস্থান করে। জড়বাদের আর এক নাম যান্ত্রিক বাস্তুবাদ। যান্ত্রিক বস্তুবাদকে যান্ত্রিক বস্তুবাদ না বলে যান্ত্রিক ভাববাদ বলাই শ্রেয়, কারণ এটা
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.