৮৬ বছর
হায়াৎ মামুদ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
See more >>-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
'অ্যাটলাস' থেকে আমি নেমে যাবার পরে সেটা স্থান বদল করে পুনরায় নোঙর ফেলে ডুবে থাকা জাহাজের উপরে অবস্থান নিল।
'সোনার তরী'র সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য সেটার দৈর্ঘ্য বরাবর সামনের ও পিছনের দুই প্রান্তে ভাসমান সংকেত বসানো হল। জাহাজের স্থান বদলের সময় সেগুলো তার সাথে সাথে নড়াচড়া করেছিল। সবকিছু প্রস্তুত করে লক্ষ্যবস্তুর উপর ডুবুরী নামানো হল। অ্যাটলাসের ইঞ্জিন ও প্রপেলার পরীক্ষা করে কোনো ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া যায় নি। ডুবন্ত 'সোনার তরী'র খোলের ভিতরকার স্থানগুলোতে কিছুটা পলিমাটি ভরে থাকলেও, কোনো মালামাল ছিল না। 'অ্যাটলাসের' অবস্থান ছিল মাঝনদী থেকে কিছুটা বাঁয়ে।
জন্নোতিন্ মানচিত্র নিয়ে আমার কাছে চলে এলেন।
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
সামরিক নৌবাহিনীতে চাকরির দীর্ঘ বৎসরসমূহে, বিশেষত উত্তরাঞ্চলীয় নৌবহরে উদ্ধারকারী ও সহায়তাকারী ইউনিটসমূহের অধিনায়কের পদে থাকাকালীন আমি নানা ধরনের আকস্মিক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার দায়িত্বের ধরনটাই এমন ছিল যে, যেখানে যখনই কোনো জাহাজ কিংবা মানুষ দুর্ঘটনাকবলিত হোক তৎক্ষণাৎ সেখানে উদ্ধারকর্মে বেরিয়ে যেতে হবে তা নৌযানে কিংবা উড়োজাহাজে বা হেলিকপ্টারে বা মোটরগাড়ি বা রেলগাড়িতে যেভাবেই হোক। এ সমস্ত ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় জাহাজে রিপোর্ট করার বিষয়ে খুব কড়াকড়িভাবে নিয়ম মানা হত। এ জন্য যেখানেই থাকি আর যাই করি না কেন আমার অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবগত রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। ফলে, আমার ঘরে সব সময়ে একটা বিশেষ 'দুর্যোগ বাক্স' রাখা
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
এপ্রিল মাসে বড়ো কঠিন সময় কাটল, তবে তার ইতিবাচক ফলাফল ক্রমশ দেখা দিতে লাগল; এবং যা-কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল সবই বাস্তবায়িত হতে লাগল। বিচ্ছিন্ন কিছু জাহাজ আমাদের নৌবহরের গতিপথ অনুসরণ করে বন্দরে এসে ভিড়ল এবং মাল খালাস করল।
মে মাসের প্রথম দিকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাবিশিষ্ট 'সুদর্শনা হংকং' ট্যাঙ্কার জ্বালানি বহন করে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করল। এটা ছিল উদ্ধারাভিযানের প্রথম সাফল্য। এর ফলে এদেশে প্রেরিত যাবতীয় সহায়তা ও মালামাল বন্দরে খালাস করার সুযোগ মিলল।
বাংলাদেশের জনজীবনে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এই বন্দর অবস্থিত। তার পানি পলিমাটি-ভরা হওয়ার কারণে
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
বন্দর থেকে বড়ো ধরনের তিনটি জাহাজ নিরাপদে সরানোর পরে পরবর্তী অন্যান্য জাহাজের জন্য একটি স্থায়ী রুট তৈরি হল। তবে তা ছিল ভারতীয় মাইন-অনুসন্ধানকারীদের তৈরি করা রুটের চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘ। বঙ্গোপসাগরে জোয়ার-ভাঁটার ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করে ও সাগরে মাইন স্থাপনের বিন্যাস বিশেষণ করে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম সাগরে চলাফেরার জন্য কোন্ ব্যবস্থা সবচেয়ে নিরাপদ হবে। বর্তমান কার্যকর রুট ২রা মে থেকে স্বল্পতম সময়ে তিন মাইল পর্যন্ত চওড়া করা যাতে যে কোনো জাহাজ বন্দরে নিরাপদে পৌঁছতে পারে। কার্যকর রুটের দৈর্ঘ্য বরাবর বিশেষ সংকেতচিহ্ন (সিগন্যাল) স্থাপন করে রুটের পুব পাশের সকল মাইন একযোগে নিষ্ক্রিয় করার কাজ আরম্ভ করতে হবে।
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
জাহাজ উত্তোলনের জন্য বরাদ্দ ছ'টি বিশেষ স্থানে পরিকল্পনা মাফিক সব কাজ এগিয়ে যাচ্ছিল এবং সেগুলো সময়মতো সম্পন্ন করার আত্মবিশ্বাসও আমাদের ছিল। ডুবুরীরা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এবং দিনে যতটা সময় কাজ করা সম্ভব তার পুরোটাই সদ্ব্যবহার করেছে। দিন-রাত একের পর এক ডুবুরী পানিতে সমানে ওঠা-নামা করেছে। এখানে আবারো বলতে হয়, ছোট-বড়ো কোনো কাজেই বন্দরের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় নি যদিও তাতে আমাদের কাজের গতি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। তবে আমরাও বন্দর সচল রাখার ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম, যে-কারণে বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়ার সময়সূচি পরীক্ষা করে যে সময়ে সবচেয়ে কমসংখ্যক জাহাজ আসে সে সময়টুকুতেই কাজ করতাম।
মে মাসের
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
কবিতায় আসে বাংলাদেশের গান
রংয়ের বাহার শিশিরের কণা যত
ভাবি না কখনো জাগিবে কবিতাখান
যেন বন্দর খোলে নাবিকের কথামতো।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার দিনটিতে, ২৬শে মার্চ ১৯৭১, এই দেশের সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ যোগাযোগের ভাবনা না ভেবেই দীর্ঘ পথযাত্রার প্রস্তুতি আমি নিচ্ছিলাম। ঝড়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের দায়িত্বে নিয়োজিত উত্তরাঞ্চলীয় নৌবহরে ২৭শে মার্চ সকালে আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রাপথেও এবং শ্বেত সাগরে কঠিন দায়িত্ব পালনের সময়েও আরো অনেক সোভিয়েত মানুষের মতোই আমি চিন্তাক্লিষ্ট মনযোগ নিয়ে সুদূর দক্ষিণপূর্ব ভারতীয় উপমহাদেশের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছিলাম। সংবাদপত্রে সেখানকার হৃদয়বিদারক কাহিনী আমরা তখন যথেষ্ট সহানুভূতির সঙ্গে অনুসরণ করেছি। দিনা নদীর
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
পানি থেকে ছিন্নভিন্ন কালো পাহাড়ের মতো 'আভালাঁশে'র পিছন দিক উত্তোলনের কাজ শুরুর পূর্বে ডুবুরীদের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার কিছু পদ চালু করা হয়েছিল। প্রশিক্ষণের দ্বারা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য বিশেষ কিছু অনুশীলনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কয়েক বার পানির তলদেশে যাওয়ার পরে একেকজন ডুবুরীকে যার যার কর্মক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হত। ডুবুরীদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন জাহাজটির উদ্ধারকাজে ইঞ্জিনিয়ার ইয়েঙ্গেনি লেগোশিন। একইসঙ্গে ডুবুরীদের প্রশিক্ষণদান আর বাস্তব উদ্ধার কাজ করানো এক কঠিন কর্ম সন্দেহ নেই। শুরুতে জাহাজের বডি হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে হল। জাহাজের এই বাইরের শরীরটা ৪ হাজার বর্গমিটারের; এটি পরীক্ষার পরে জাহাজের ভিতরের কক্ষগুলো পরীক্ষার দরকার ছিল।
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
আর্কাইভ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
